নিউজ ডেক্স
আরও খবর
চট্টগ্রামে নালা থেকে উদ্ধার ১৪শ গুলির বড় অংশই একে-৪৭ ও মেশিনগানের
বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বে দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টা বিএনপির অপর গ্রুপের
‘ডিসেম্বরের মধ্যেই নেত্রীকে ফেরাবো’: কক্সবাজারে প্রকাশ্য সভায় ছাত্রলীগের দৃঢ় শপথ
হিন্দু সেজে মন্দিরে ঢুকে চুরি, দুই মুসলিম নারীকে হাতেনাতে আটক করে উত্তম-মধ্যম
ইমামকে সরিয়ে রাজাকার নিজামির পুত্রের জুমা পড়ানো নিয়ে মসজিদে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস, মুসল্লিরা আহত
রশিতে বেঁধে প্রতিবেশীর দুটি পোষা কুকুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা, বিচার দাবি স্থানীয়দের
শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষায় ‘বলির পাঁঠা’ ৭ শিক্ষক? কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে নজিরবিহীন বদলি
‘নর্দমায় মিলল একে-৪৭-এর বুলেটের স্তূপ! চট্টগ্রামে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আস্তানার গন্ধ
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় ১ হাজার ৩২০টি সামরিক অস্ত্রের ব্যবহৃত বুলেট ও প্রজেক্টাইল উদ্ধারের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের শেরশাহ বাংলাবাজারের খোলা নালায় একে-৪৭-এর মতো ভারী মারণাস্ত্রের বিশাল বুলেটের চালান মেলায় ধারণা করা হচ্ছে, কোনো দুর্ধর্ষ জঙ্গি সংগঠন বা পাহাড়ের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী চট্টগ্রাম শহরকে ট্রানজিট বানিয়ে বড় ধরণের নাশকতার ছক কষছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বা ধরা পড়ার ভয়ে তারা অস্ত্রের এই অংশ নালায় ফেলে পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেট সংলগ্ন নালা পরিষ্কার করতে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। কাদা সরানোর সময় চটের একটি ভারী বস্তায় কোদাল ঠেকলে সন্দেহ হয় কর্মীদের। মুখ খুলতেই দেখা যায়— ভেতর থরে থরে সাজানো ধাতব বুলেটের স্তূপ। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বস্তাবন্দি বুলেটগুলো উদ্ধার করে জিম্মায় নেয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোট ১,৩২০টি ব্যবহৃত বুলেট উদ্ধার করে, যার মধ্যে ১,২০০টি ছোট এবং ১২০টি বিশালাকার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বুলেট।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, উদ্ধার হওয়া ১,৩২০টি বুলেটের মধ্যে ১২০টি বেশ বড় আকৃতির, যা একে-৪৭-এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভারী ও ক্ষতিকারক আগ্নেয়াস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। শহরঘেরা নালায় এত বিশাল পরিমাণ সামরিক বুলেটের উৎস এবং কারা এটি এখানে ফেলার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে তা আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ব্যবহৃত বুলেটের এত বড় চালান কোনো সাধারণ পেশাদার অপরাধী বা ছিনতাইকারী চক্রের কাছে থাকা অসম্ভব। চট্টগ্রাম নগরীতে আস্তানা গাড়া কোনো সক্রিয় জঙ্গি সেল কিংবা পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই নাশকতার নেটওয়ার্কের সাথে সরাসরি জড়িত। পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতা বা সম্ভাব্য তল্লাশি এড়াতেই অপরাধীরা বুলেটের বস্তাটি তড়িঘড়ি করে নালায় ফেলে চম্পট দিয়েছে।
উদ্ধারকৃত বুলেটগুলো ইতোমধ্যে বলিস্টিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা ও জিডির প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় জঙ্গি বা সন্ত্রাসী আস্তানার সন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারি ও চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
