নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুরু: দক্ষিনাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস চরমে নিম্ন আয়ের মানুষেঃ তবুও কোথাও দেখা মিলছে না ‘টিসিবির ট্রাকসেল’
আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল
উচ্চমূল্যে মার্কিন গম ক্রয়: সরকারের দাবি বৃহত্তর কৌশল, অথচ ভুক্তভোগী ভোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি
তিন মাসে ব্যাংকে কোটির বেশি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার
ঋণের সুদ কমলেও বিনিয়োগে গতি নেই
খেলাপি ঋণের চাপে ১৫ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা
কমল জিডিপির গতি, শিল্প খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি
দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প খাতের চাকা যেন থমকে গেছে। উৎপাদনমুখী এই খাত প্রথমবার ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে পড়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২ দশমিক ২২ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) জিডিপি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমাগত কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সংশোধিত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ায়। আর তৃতীয় প্রান্তিকে আরও কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে। ফলে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো শিল্প খাতের চিত্র। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে নামে। আর তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশে। এক বছর আগে একই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
শুধু শিল্প নয়, কৃষি ও সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমেছে।
বিবিএস-এর হিসাবে, তৃতীয় প্রান্তিকে চলতি মূল্যে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ১৯ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। অর্থনীতির আকার বাড়লেও উৎপাদনের গতি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হয়েছে।
সাময়িক প্রাক্কলনে বিবিএস বলছে, পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস আরও কম।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চ ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে।
সর্বশেষ ত্রৈমাসিকের হিসাব স্পষ্ট করে দিয়েছে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি টেকসইভাবে বাড়াতে হলে শিল্প খাতকে দ্রুত ঘুরে দাঁড় করাতে হবে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো ছাড়া প্রবৃদ্ধির চাকা আবার সচল করা কঠিন হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]