ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে ঝুঁকিও তবু থমকে আছে নীতিমালা – বর্ণমালা টেলিভিশন

ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে ঝুঁকিও তবু থমকে আছে নীতিমালা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ July, ২০২৫ | ১০:৫২ 194 ভিউ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অনলাইন জগতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার। রাজনৈতিক প্রচারণা, প্রোপাগান্ডা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রচারণাসহ কনটেন্ট ক্রিয়েশনেও বাড়ছে এআই নির্ভরতা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এআই ব্যবহার করে কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না—এর কোনো সীমা থাকছে না। ফলে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে বাড়ছে নানা ঝুঁকিও। যদিও নতুন করে এআই নীতিমালা প্রণয়নে উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নীতিমালাই নয়, এ বিষয়ে আইন করা জরুরি। সংশ্লিষ্টজন বলছেন, নতুনভাবে ন্যাশনাল এআই পলিসি বানাতে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ইউনেস্কো এআই রিডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডলজি রিপোর্ট তৈরি করছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন করে তৎকালীন সরকার। এরপর গত বছর প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয় জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালার খসড়া। সে বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রণয়নের কথাও ছিল। যদিও গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে তা থমকে যায়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আইসিটি বিভাগের প্রকাশিত ‘ন্যাশনাল ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি’তে এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে এআই গভর্ন্যান্সে ইনক্লুসিভিটি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের এআই নীতিমালার সমন্বয় করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে সরকার, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে ডাটা গভর্ন্যান্স নিশ্চিতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে একটি স্বাধীন ডাটা এবং এআই কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়। সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলপত্রে সাইবার নিরাপত্তা, এআই এবং ডাটা গভর্ন্যান্স কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের বেশ কয়েকটি সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে নতুন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) সত্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, বর্তমানে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এআই নীতিমালা। তারপর নতুন করে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই নীতিমালা না থাকার কারণে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। ফলে বহির্বিশ্বের তুলনায় আমরা কতটা পিছিয়ে আছি বা কতটা লক্ষ্য অর্জন করতে পারছি, তা বোঝা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মাইনুল হোসাইন বলেন, আমাদের দেশে এআইয়ের নেগেটিভ দিকটা বেশ প্রমিনেন্ট হয়ে উঠছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বড় ইভেন্ট যেমন, নির্বাচন বা রেজাল্ট প্রসেসিং—এ রকম বিভিন্ন জায়গায় এআই ব্যবহার করে একটি শ্রেণি মিসইনফরমেশন ছড়ানোর চেষ্টা করে। এ সবকিছুর জন্য একটি পলিসি খুব জরুরি হয়ে উঠেছে। আরেকটা ব্যাপার আছে ইথিকাল এআই, এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে একটি ফ্রেমওয়ার্ক থাকা উচিত, আমাদের এখনো সে জায়গাটাতে কাজ করা বাকি। ঢাবির এ অধ্যাপক বলেন, বিভিন্ন দেশের এআই নিয়ে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন আছে। পলিসি যদি না থাকে, মানে আমাদের কোনো ডিরেকশন নেই। ফলে আমরা কোনো পথে যাব, কীভাবে যাব, তা জানা নেই। পলিসি থাকলে আমরা আমাদের প্রোগ্রেসটা ট্র্যাক করতে পারতাম। তবে শুধু নীতিমালা করে কোনো লাভ হবে না বলেও মনে করেন অনেকে। তাদের মতে, শুধু নীতিমালা নয়, এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট আইন করা উচিত। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহিম মাশরুর বলেন, এ রকম অনেক নীতিমালা হয়েছে, এগুলোর আসলে কোনো ইফেক্ট নেই। আমাদের এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট আইন করা উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর ও সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, এআইভিত্তিক অপরাধ বাংলাদেশে একটি নতুন ধরনের অপরাধ, এটা বাংলাদেশে এখনো কম। এরই মধ্যে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকরা এটি নিয়ে সেমিনার করেছেন। এসব গবেষণার ভিত্তিতে সামনে জাতীয় নীতিমালা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে উৎপাদিত তথ্য-উপাত্ত কতটুকু সত্য, কতটুকু ব্যবহার করতে পারব—এ প্রসঙ্গটা এরই মধ্যে এসে গেছে। এটিকে যথাযথভাবে সমাধান করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এর গতি সীমিত, এ গতি বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নতুন করে ন্যাশনাল এআই পলিসি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের গত বছরের শুরুর দিকে করা পলিসি ছিল চ্যাট জিপিটি ভার্সন। আমরা দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের দায়িত্ব দিয়েছি—নতুনভাবে ন্যাশনাল এআই পলিসি বানাতে। ন্যাশনাল এআই এবং ক্লাউড পলিসি একসঙ্গে করা হবে। তার সঙ্গে পার্সোনাল ডাটা প্রটেকশন অর্ডিন্যান্স, ডাটা গভর্ন্যান্স এবং ইন্টারের অপারাবিলিটির সমন্বয় সাধন করা হবে। তিনি জানান, ইউনেস্কো বর্তমানে এআই রিডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডোলজি রিপোর্ট তৈরি করছে বাংলাদেশের জন্য। তারা বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে এ কাজ করছে একযোগে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ মতামত এলে সেগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে আমলে নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাবলিক কনসালটেশনও করা হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার