লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত গাজার ৭ লাখ ৮৫ হাজার স্কুলশিক্ষার্থী – বর্ণমালা টেলিভিশন

লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত গাজার ৭ লাখ ৮৫ হাজার স্কুলশিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩১ মে, ২০২৫ | ১১:০৩ 132 ভিউ
অব্যাহত ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে গাজার শিক্ষাব্যবস্থা। উপত্যকাটির প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী তাদের মৌলিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাজার উপ-শিক্ষামন্ত্রী ড. খালেদ আবু আল-নাদা এ পরিস্থিতিকে গাজার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক কেউই আর নিরাপদ নয় গাজায়। জাতির মেরুদণ্ড তৈরির এ কারখানাগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞের এই নীলনকশার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ও ভবিষ্যৎ মুছে দেওয়া।’ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম: গাজার প্রায় সব স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৯৫ শতাংশ আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এডুকেশন ক্লাস্টারের তথ্য অনুসারে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ২১২টি স্কুলে সরাসরি বিমান হামলা হয়েছে। আরও ২৮২টি স্কুল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় এ ভবনগুলোতে ৫ লাখ ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী ও ১৮ হাজার ৯০০ শিক্ষকের পদচারণা ছিল। অনেক স্কুলই আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এখনো বোমাবর্ষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪টি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ১০টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি খান ইউনিসের ইসলামিক ইউনিভার্সিটির একটি শাখাও বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। শিশুরা ইতোমধ্যেই তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা হারিয়েছে। এই যুদ্ধ শেষ হলেও তাদের আর ফিরে যাওয়ার মতো কোনো স্কুল অবশিষ্ট থাকবে না। এতে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম। ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করতে, ধ্বংস হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করতে এবং গাজার ছাত্র-শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া মন্ত্রনালয় আরও বলেছে, গাজায় শিক্ষাকে রক্ষা করা শুধু নীতিগত দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য, যা ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রক্ষা করার জন্য অপরিহার্য। মাঠে, তাঁবুতে শিক্ষা: ইসরাইলের আগ্রাসনে ইতোমধ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ নিহত হয়েছেন। গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও ২৬১ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। যা গাজার শিক্ষাব্যবস্থাকে চরম সংকটে ফেলেছে। তা সত্ত্বেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিকল্প উপায়ে শিক্ষা চালু রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঠে অথবা তাঁবুতেই গড়ে উঠছে স্কুল। এতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাও রয়েছে। কখনো কখনো অনলাইনেও নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। কিন্তু চলমান সহিংসতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সম্পূর্ণ একটি প্রজন্ম বহু বছরের জন্য শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমানে ৩.৫ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী কোনো ধরনের শিক্ষাই পাচ্ছে না। যা গাজার সাক্ষরতা ও শিক্ষাগত অগ্রগতিতে ভয়াবহ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তবুও স্কুলে ফেরার আশা: বুলেট-বোমায় দমবন্ধ শৈশব, মৌলিক সেবার সম্পূর্ণ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেও স্কুলে ফেরার স্বপ্ন দেখছে গাজার শিশুরা। তাদের জীবনে নেই কোনো স্থিরতা, নেই খেলা কিংবা শেখার সুযোগ, এমনকি অনেকের নেই আপন পরিবারও। তবুও তারা বারবার জানিয়ে দিয়েছে, স্কুলে ফিরে যাওয়া তাদের জীবনের প্রথম চাওয়া। এটি তাদের স্বাভাবিকতার অনুভূতি, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সুযোগ, সেই সঙ্গে জ্ঞান অর্জনের প্রতিষ্ঠান। গাজার বাস্তুচ্যুত বাবা মাহের বলেছেন, কয়েক দিন আগে আমার সন্তান বলেছে, আমি পুষ্টিকর খাবার খেতে চাই। আমি সত্যিই আবার স্কুলে যেতে চাই। আমার আগের, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই।’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
লাইফস্টাইল টিপস: এই তীব্র গরমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই থাকায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ৩ শতাধিক বই জব্দ করল জেলা প্রশাসন মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ: ‘জীবন বাঁচাতে চুপ ছিলাম অন্তরীণ সরকারের সময়, তবু এনসিপি-জাশির আক্রমণ থামছে না’ থানায় পিঠ বাঁচলেও ডিসি অফিসে ধোলাই খেলেন পুলিশ হত্যাকারী সমন্বয়ক মাহাদী বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… ধর্ষণ মামলার দ্রুত তদন্তে বাধা মেডিকেল রিপোর্ট