সংকটে থাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন বা অবসায়ন করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক – বর্ণমালা টেলিভিশন

সংকটে থাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন বা অবসায়ন করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ March, ২০২৫ | ৯:৩৪ 217 ভিউ
আর্থিক দুরবস্থার কারণে দুর্বল বা সংকটে থাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন বা অবসায়ন করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এ ধরনের ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতও করতে পারবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের আমানতের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট দুর্বল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, প্রধান নির্বাহীকে অপসারণ করতে পারবে। ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন বাড়াতে পারবে। প্রয়োজন হলে নতুন শেয়ার সৃষ্টি করে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তা হস্তান্তর করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সহজে হস্তান্তারযোগ্য সম্পদ বা আমানতকে মূলধনে রূপান্তর করতে পারবে। এসব বিধান রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজ্যুলেশন অর্ডিন্যান্সের খসড়া তৈরি করেছে। খসড়াটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আইনের খসড়াটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণের জন্য। তাদের মত পাওয়া গেলে এতে প্রয়োজনীয় পরিবর্ধন বা পরিমার্জন এনে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যাদেশ জারির জন্য এটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে দেশে জাতীয় সংসদ নেই বলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এটিকে আইনে পরিণত করবেন। সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোয় বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। যার বড় অংশই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। লুটপাটে বেশ কয়েকটি ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওইসব ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টিতে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা সংগ্রহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে জোগান দিলেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। তবে দুর্বল কয়েকটি ব্যাংক এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খুবই শোচনীয়। লুটপাটের কারণে ওইসব ব্যাংকের ৭৫ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নীতি সহায়তা নিয়েও যেসব ব্যাংক এখনো স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, আমানতকারীদের চাহিদামতো টাকার জোগান দিতে পারছে না-এমন ব্যাংককে বিকল্প উপায়ে সবল করা বা অবসায়ন করা অথবা অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫’। এতে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা করে দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৩ সালের শেষদিকে দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা জারি করে। ‘প্রমোট কারেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক ওই নীতিমালাটি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী যেসব ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকটে ভুগছে-এমন ব্যাংকের সব ধরনের ঋণ বিতরণ এবং আমানত নেওয়া বন্ধ করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি পর্ষদ বাতিল করতে পারে। আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। ব্যাংক প্রমোট কারেক্টিভ অ্যাকশনে নীতিমালার আলোকের দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বা একাধিক ব্রিজ ব্যাংক গঠন করতে পারবে। এসব ব্যাংক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলও গঠন করবে। নির্দিষ্ট সময় পর যেসব ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, ব্রিজ ব্যাংকের সহায়তা নিয়ে তাদের সংকট মোকাবিলা করে সবল হওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারবে। এতে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অবসায়ন বা অন্য কোনো সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ‘ব্রিজ ব্যাংক’ হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক শানাক্ত দুর্বল ব্যাংক সবল করতে এ ব্যাংক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ব্যাংকটির লেনদেন ব্রিজ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এটি ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে সংযোগ সেতুর মতো কাজ করবে। ব্রিজ ব্যাংককে আর্থিক সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন তহবিল গঠন করবে। প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো পরিচালনায় বা সবল করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এক্ষেত্রে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আলোকে একটি বিভাগ গঠন করা হবে। এতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করতে পারবে। নিতে পারবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। সরকারি খাতের তহবিলের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। কোনো ব্যাংক পর্যবেক্ষণে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে যদি মনে হয় এর পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভাব না, তখনই অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে একাধিক প্রস্তাব দিতে পারবে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের ঝুঁকি, আর্থিক স্থিতিপত্রের সব ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রচলিত আইনগত দিক প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করে নিতে হবে। কোনো ব্যাংক অবসায়ন করতে গলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ দুই মাস সময় দিয়ে নোটিশ দেবে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাঠামা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংককে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন বাড়াতে পারবে বা নতুন শেয়ার সৃষ্টি করে সেগুলো অন্য কোনো শেয়ারহোল্ডারের কাছে বিক্রি করে মূলধন জোগাড় করতে পারবে। ব্যাংকের সম্পদ বা শেয়ার তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবে। ব্যাংকের সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ বা গ্রাহকদের আমানত মূলধনে রূপান্তর করতে পারবে। এতে আমানতকারীরা শেয়ার পাবেন। এতে বলা হয়, আমানতকারীদের সুরক্ষায় ব্যাংক পুনর্গঠন ফান্ড বা ব্যাংক ডিপোজিটর সুরক্ষা ফান্ড গঠন করতে পারবে। এসব ফান্ড দিয়ে ব্রিজ ব্যাংক পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদের সম্পদ যে পরিমাণই দেখাক না কেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদাভাবে ওইসব সম্পদ মূল্যায়ন করতে পরবে। ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, প্রধান নির্বাহী অপসারণ করতে পারবে বা অন্য যে কোনো কর্মকর্তাকে বাদ দিতে পারবে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে প্রশাসকরা কাজ করবেন। এছাড়াও দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা সুদৃঢ় করতে ব্যাংকের নতুন বা বিদ্যমান পরিচালকদের মাধ্যমে তহবিল জোগাড় করতে পারবে। এক্ষেত্রে তাদের শেয়ারের পরিমাণ বাড়িয়ে টাকার জোগান দিতে বাধ্য করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের কাছে রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় হস্তান্তর করতে পারবে। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর অংশীদারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধা দিতে পারবে। এটি ব্যাংকের ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতে সহায়তা করবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার