রাজধানীর বৈধ বারে অভিযানের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি – বর্ণমালা টেলিভিশন

রাজধানীর বৈধ বারে অভিযানের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ May, ২০২৫ | ১১:২৮ 233 ভিউ
রাজধানীর বৈধ বারে অবৈধ অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিয়ম ভেঙে এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি! দাবি করা চাঁদা বা অনৈতিক সুবিধা না দিলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য অভিযানের নামে হানা দিচ্ছে বারে। এতে অতিষ্ঠ বার মালিকরা। তাদের দাবি, সব ধরনের কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার অসৎ সদস্যরা হুটহাট অভিযান চালাচ্ছে। জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছে বারে মজুদ মদ, বিয়ার, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি বা তার প্রতিনিধি ছাড়া দেশের অনুমোদিত বারে র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সংস্থার একক অভিযান পরিচালনার আইনগত বৈধতা নেই। তবে লাইসেন্সকৃত বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি ও তাদের প্রতিনিধির উপস্থিত সাপেক্ষে যেকোনো সংস্থা অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু এই নিয়ম ভেঙে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সময় বারে অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব-পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু অসাধু সদস্য। নানা অজুহাতে তারা বার মালিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বার মালিকদের সংগঠন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব থাকলেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সংস্থাটির অসৎ কিছু সদস্য ও সোর্স পরিচয়ধারী কয়েকটি বারে বিনামূল্যে অ্যালকোহল সেবন, পারসেল নেওয়ার পাশাপাশি মাসোহারা দাবি করে আসছে। মাসোহারা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কয়েকটি বারে অভিযান চালানো হয়। গত ২৪ এপ্রিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত রাজধানীর উত্তরা আবদুল্লাহপুরে টাইগার এন্টারটেইনমেন্ট নামে একটি বারে অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আহনাফ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। বারে ঢুকেই র‌্যাব সদস্যরা সিসি ক্যামেরা বিকল করেন এবং ফুটেজ খুলে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বার কর্তৃপক্ষের দাবি, র‌্যাব সদস্যরা নগদ ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চারটি ল্যাপটপ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাতটি মোবাইল ফোন, অফিসিয়াল ফাইল (লাইসেন্স, আমদানি, উত্তোলন সংক্রান্ত ও সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র), বৈধ বিয়ারের শতাধিক কেস, কেরু অ্যান্ড কোং-এর বৈধ প্রায় ৫০ কেস এবং ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রেশন থাকা অ্যালকোহল জব্দ করেন। এ সময় তারা বারের কর্মকর্তাদের মারধর করেন এবং চারজনকে আটক করে নিয়ে যান। উত্তরায় বারে অভিযানের বিষয়ে মেজর আহনাফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই বারের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও বিদেশি মদ আমদানিতে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো কাগজ ছিল না। তবে টাইগার রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাদের বৈধ বার লাইসেন্স (নম্বর ০১/২০২১/২০২২) রয়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় র‌্যাব সদস্যরা বারের লাইসেন্স দেখতে চাননি। তারা কোনো কথা শুনতে চাননি। এমনকি বারে বৈধ ও অবৈধ মদ ও বিয়ার শনাক্ত করেননি। তারা ঢালাওভাবে সব মদ ও বিয়ার জব্দ করেন। এছাড়া অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাও সঙ্গে আনেননি। এছাড়া গত মার্চ মাসে মহাখালীতে বেরন নামে একটি বারে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও অ্যালকোহল জব্দ করে নিয়ে যান র‌্যাবের অন্য একটি দলের সদস্যরা। একই মাসে বনানী ১১ নম্বর সড়কের আরেকটি বারে অভিযান চালায় সংস্থাটি। বার মালিকদের অভিযোগ, নগদ টাকা ও জব্দ করে নিয়ে যাওয়া কোটি কোটি টাকার অ্যালকোহলের তালিকা তাদের দেওয়া হয়নি। তারা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ২০ থেকে ২৩ ধারায় বারে অভিযানের বিষয়ে বলা রয়েছে। আইনের ২০ ধারায় বারে প্রবেশ ও ইত্যাদি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালককে। এই ধারায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত বারে মহাপরিচালক বা তার নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রবেশ, জব্দ ও তল্লাশি করতে পারবেন। তবে অন্য কোনো বাহিনীর কথা বলা নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারের অনুমোদন বা লাইসেন্স মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেয়, তারাই এর দেখভাল করেন। বারে কোনো সংস্থা বা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই মহাপরিচালকের অনুমোদন নিতে হবে এবং তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাখতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ঢাকা উত্তরা জোন) শামীম আহমেদ জানান, উত্তরার টাইগারসহ অন্যান্য বারে অভিযানের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাউকে জানায়নি র‌্যাব। মহাপরিচালকের কোনো প্রতিনিধিও ছিলেন না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মাস্তান, বিভিন্ন সংস্থার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১৮ সালে রেস্টুরেন্ট ও বার মালিকরা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করে তাদের বিভিন্ন সংকটের কথা জানান। এরপর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে। তাতে দেশের বারগুলোতে কারা কীভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এই সার্কুলার দেশের সব পুলিশ সুপার, ডিআইজি অফিস, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনারের অফিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ২৭টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের দেওয়া হয়। ঢাকার দুটি বারের মালিক এ প্রতিবেদককে জানান, বারের অনুমোদন নিতে গেলে বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়। অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ক্ষেত্র বিশেষে লাইসেন্স দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর বার খুলে ব্যবসা করতে গেলেই স্থানীয় মাস্তান, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিভিন্ন সংস্থার লোকজন চাঁদার দাবিতে নানাভাবে হয়রানি করে। তারা আরও বলেন, বারে কী কী অ্যালকোহল রাখা যাবে, কী কী রয়েছে তা দেখভালের দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। তাদের কাছে আমরা নিয়মিত জবাবদিহি করি। তার পরও কেন অন্য সংস্থা আমাদের হয়রানি করবে। এর একটি সুরাহা প্রয়োজন। আমরা তো ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করি। যাদের মদপানের অনুমতি নেই, তাদের কাছে আমরা বিক্রি করি, বিদেশি মদ রাখি-এসব অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে করা হয়। এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করতে হবে, তা সবাই মিলে বের করতে হবে। তাই বলে কেউ অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি করতে পারেন না। এই চাঁদা না দিলেই অভিযানের নামে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ২০২১ সালের ১৮ মার্চ জুরাইনের আইরিস পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে র‌্যাব ও কাস্টমস যৌথভাবে অভিযান চালায়। ওই অভিযান চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বার কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। ওই রিটে তারা দাবি করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩ ধারা লঙ্ঘন করে তাদের বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এরপর উচ্চ আদালত ওই অভিযানকে অবৈধ ঘোষণা করে নির্দেশনাও দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বার পরিচালনার ক্ষেত্রেও মালিকদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙার এন্তার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে-দেশীয় মদ বিক্রির অনুমোদন পাওয়া বারগুলোতেও মেলে বিদেশি মদ। চোরাই পথে আনা এবং ওয়্যারহাউজ মালিকদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে অবৈধভাবে বারে বিদেশি মদ বিক্রি করা হয়। এমনকি বারে বসে মদপানের জন্য গ্রাহকের ব্যক্তিগত লাইসেন্স থাকারও বিধান আছে। এই বিধান না মেনে যে কেউ বারে গেলেই তার কাছে মদ বিক্রি ও বারে বসে তা সেবনের সুযোগ দেয় বার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিভিন্ন কৌশলে ভ্যাট, ট্যাক্সও ফাঁকি দেন বার মালিকরা। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর সুযোগ সন্ধানীরা এই ব্যবসা থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ পায়। বাংলাদেশ বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) জাহাঙ্গীর বলেন, র‌্যাব কিংবা যেকোনো সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়া কোনো বৈধ কিংবা লাইসেন্সকৃত বারে এ ধরনের অভিযানে যেতে পারে না। এছাড়া এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে। এ ধরনের অভিযান না করতে আমাদের সংগঠন থেকেও র‌্যাব মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অন্যায় অভিযান থেকে প্রতিকার পেতে আমরা প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেব।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা