নিউজ ডেক্স
আরও খবর
চীনে নিরাপত্তা উপদেষ্টা, রাশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী: একযোগে দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারত
মস্কোয় পুতিন-লাভরভের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক: ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্কে নতুন গতি
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা: আসছে সুপার এল নিনো, বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা
ইউরোপের ‘ব্যতিক্রমী’ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে ধুঁকছে অর্থনীতি, শুকিয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো
নিষেধাজ্ঞার চাপে বিপর্যস্ত ইরান, কঠিন বাস্তবতা স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
সৌদি-মার্কিন নতুন পারমাণবিক চুক্তি: অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা?
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিভক্ত সৌদি-আমিরাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বিশ্বের প্রধান ঝুঁকি ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত
নতুন প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় প্রবেশের প্রেক্ষাপটে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর পরের চারটি ঝুঁকি হলো– রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত, চরম আবহাওয়া, সামাজিক মেরূকরণ এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
গতকাল ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬ স্বল্প মেয়াদে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। যার ফলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্বল্প মেয়াদে অর্থনৈতিক ঝুঁকিই সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি উভয়ই ওপরে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ তীব্রভাবে বেড়েছে। স্বল্প মেয়াদে পরিবেশগত ঝুঁকির অবস্থান কিছুটা কমেছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমেই হতাশাব্যঞ্জক হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক বিশেষজ্ঞ আগামী দুই বছরকে অস্থির সময় হিসেবে দেখছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। আরও ৪০ শতাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি অন্তত অস্বস্তিকর থাকবে। মাত্র ৯ শতাংশ স্থিতিশীলতা এবং ১ শতাংশ ‘শান্ত’ পরিস্থিতির প্রত্যাশা করছেন। আগামী ১০ বছরের পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্ব পরিস্থিতিকে অস্থির বা ঝোড়ো মনে করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত সরবরাহ শৃঙ্খল, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে এই ঝুঁকিকে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টির সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বর্গে ব্রেন্ডে বলেন, ‘প্রধান শক্তিগুলো যখন নিজেদের প্রভাবক্ষেত্র নিশ্চিত করতে চাইছে, তখন একটি নতুন প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় সহযোগিতা আগের মতো না থাকলেও সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংলাপের মনোভাব এখনও অত্যাবশ্যক। দাভোসে আমাদের বার্ষিক সভা ঝুঁকি ও সুযোগ বোঝার এবং সেগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সেতুবন্ধন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে।’
প্রতিবেদনটি তিনটি সময়সীমায় ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে। এগুলো হলো– তাৎক্ষণিক (২০২৬), স্বল্প থেকে মধ্য মেয়াদ (আগামী দুই বছর) এবং দীর্ঘ মেয়াদ (আগামী ১০ বছর)। ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ স্বল্প মেয়াদেও প্রথম স্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এটি আট ধাপ ওপরে এসেছে। রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত ২০২৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, দুই বছরের সময়ে এটি নেমে পঞ্চম স্থানে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে সশস্ত্র সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্ত্রায়ন এবং সামাজিক বিভাজন একসঙ্গে তীব্র হচ্ছে। এসব তাৎক্ষণিক ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ও পরিবেশগত অবনতি থেকে দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তৈরি হচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।