প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাছের চারা – বর্ণমালা টেলিভিশন

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাছের চারা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ জুলাই, ২০২৫ | ১১:০৮ 221 ভিউ
সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশবিদদের একাধিক সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নীলফামারীর ডিমলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, রাস্তার পাশ ও নার্সারিতে এই চারা বিক্রি চলছে প্রকাশ্যেই। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি উপজেলার কলোনি বাজার, ডাঙ্গারহাট, একতা বাজার, ডালিয়া নতুন বাজার, চাপানিহাট, নাউতারা বাজার ও শুটিবাড়ি বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন নার্সারি ও চারা বিক্রেতারা ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন। অথচ ২০২৪ সালের ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছকে ‘আগ্রাসী প্রজাতি’ ঘোষণা করে এসব গাছের চারা উৎপাদন, রোপণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলো। তবুও ডিমলার বাজারগুলোতে এসব নিষিদ্ধ গাছের চারা বিক্রি চলছে নির্বিঘ্নে। চাপানি বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, মানুষ এই গাছ চায়, আগেই চারা এনেছি। এখন বিক্রি না করলে লোকসান হবে। কেউ তো কিছু বলছে না। অন্যদিকে এক কৃষক জানান, এই গাছ দ্রুত বাড়ে, তাই চাষ করি। তবে শুনেছি এর আশপাশে অন্য গাছ ভালো হয় না। স্থানীয় কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, বিগত বছর নিজের জমিতে ৫০টি ইউক্যালিপটাস গাছ লাগাই। এবার পাশের ধানের জমিতে পানি টিকছে না। পরে বুঝেছি, গাছগুলোর কারণেই নিচের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। আরেক কৃষক রোকনুজ্জামান বলেন, এই গাছ দ্রুত বাড়ে, কাঠ বিক্রি করে লাভ হয়। কিন্তু আশপাশের গাছ মরে যাচ্ছে, ফলগাছ ফল দিচ্ছে না। এখন বুঝছি, এটা ক্ষতিরই বেশি। পরিবেশবিদদের মতে, ইউক্যালিপটাস গাছ ভূগর্ভস্থ পানি শোষণ করে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, আকাশমনি গাছ থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর ২০২৩ সালের গবেষণা অনুযায়ী, একটি পরিপক্ব ইউক্যালিপটাস গাছ বছরে ৯০ থেকে ১২০ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি শোষণ করে। এসব গাছের এলাকায় গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে। দেশের ৪৫টি জেলায় জলস্তর গড়পড়তা ১ দশমিক ৮ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। নীলফামারী জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই চারা বিক্রি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে পানির স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নেমে যাবে। শুধু কাগজে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাভ নেই, বাস্তবায়নে প্রশাসনকে মাঠে নামতেই হবে। নীলফামারী জেলা পরিবেশ সংরক্ষণ ফোরামের সমন্বয়ক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, এই গাছগুলো পরিবেশে এক ধরনের ‘সবুজ মরুভূমি’ তৈরি করছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভয়াবহ জলাভাব ও কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসবে। রংপুর বন বিভাগের ডিমলা বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বন বিভাগের আওতাধীন কোনো নার্সারিতে ইউক্যালিপটাস বা আকাশমনি চারা উৎপাদন বা বিক্রি হচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, নিষিদ্ধ গাছের চারা উৎপাদন ও বিপণন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণকে পরিবেশবান্ধব গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… ধর্ষণ মামলার দ্রুত তদন্তে বাধা মেডিকেল রিপোর্ট মুখে ঘা কেন হয় এআই মামলার ভুয়া মেসেজের প্রতারণা, ফাঁদ এড়াবেন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ মিলিয়ন মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে গুগল রাজধানীতে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ৩০ বিদেশি আটক ওয়ান ব্যাংকে জব সার্কুলার, আবেদন শেষ ১৫ জুন