প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাছের চারা – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ জুলাই, ২০২৫
১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
279 ভিউ

আরও খবর

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিবৃতি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামে কৃষকবিদ্রোহ: গোডাউন ভেঙে নিল ১০ হাজার কেজি সার

কোটচাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের রামদার কোপে ভাই নিহত

প্রধান অতিথি না করায় নিজেই ১৪৪ ধারা ডেকে ছাত্রদল নেতা পণ্ড করলেন ৬০ বছরের ফুটবল টুর্নামেন্ট

অনুমতি ছাড়াই ভাঙা হলো সেতু: রাজাপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কাণ্ডে বিচ্ছিন্ন ৪ গ্রাম

চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে হিমাগারে পচছে বিপুল পরিমাণ আলু, গাড়ি ভরে ফেলে দিতে হচ্ছে প্রতিদিনই

প্রকৃত ইমাম-খাদেমদের বাদ দিয়ে তালিকায় ঢোকানো হলো জামায়াত-শিবির কর্মীদের নাম

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাছের চারা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ জুলাই, ২০২৫ | ১১:০৮ 279 ভিউ
সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশবিদদের একাধিক সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নীলফামারীর ডিমলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, রাস্তার পাশ ও নার্সারিতে এই চারা বিক্রি চলছে প্রকাশ্যেই। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি উপজেলার কলোনি বাজার, ডাঙ্গারহাট, একতা বাজার, ডালিয়া নতুন বাজার, চাপানিহাট, নাউতারা বাজার ও শুটিবাড়ি বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন নার্সারি ও চারা বিক্রেতারা ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন। অথচ ২০২৪ সালের ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছকে ‘আগ্রাসী প্রজাতি’ ঘোষণা করে এসব গাছের চারা উৎপাদন, রোপণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলো। তবুও ডিমলার বাজারগুলোতে এসব নিষিদ্ধ গাছের চারা বিক্রি চলছে নির্বিঘ্নে। চাপানি বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, মানুষ এই গাছ চায়, আগেই চারা এনেছি। এখন বিক্রি না করলে লোকসান হবে। কেউ তো কিছু বলছে না। অন্যদিকে এক কৃষক জানান, এই গাছ দ্রুত বাড়ে, তাই চাষ করি। তবে শুনেছি এর আশপাশে অন্য গাছ ভালো হয় না। স্থানীয় কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, বিগত বছর নিজের জমিতে ৫০টি ইউক্যালিপটাস গাছ লাগাই। এবার পাশের ধানের জমিতে পানি টিকছে না। পরে বুঝেছি, গাছগুলোর কারণেই নিচের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। আরেক কৃষক রোকনুজ্জামান বলেন, এই গাছ দ্রুত বাড়ে, কাঠ বিক্রি করে লাভ হয়। কিন্তু আশপাশের গাছ মরে যাচ্ছে, ফলগাছ ফল দিচ্ছে না। এখন বুঝছি, এটা ক্ষতিরই বেশি। পরিবেশবিদদের মতে, ইউক্যালিপটাস গাছ ভূগর্ভস্থ পানি শোষণ করে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, আকাশমনি গাছ থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর ২০২৩ সালের গবেষণা অনুযায়ী, একটি পরিপক্ব ইউক্যালিপটাস গাছ বছরে ৯০ থেকে ১২০ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি শোষণ করে। এসব গাছের এলাকায় গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে। দেশের ৪৫টি জেলায় জলস্তর গড়পড়তা ১ দশমিক ৮ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। নীলফামারী জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই চারা বিক্রি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে পানির স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নেমে যাবে। শুধু কাগজে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাভ নেই, বাস্তবায়নে প্রশাসনকে মাঠে নামতেই হবে। নীলফামারী জেলা পরিবেশ সংরক্ষণ ফোরামের সমন্বয়ক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, এই গাছগুলো পরিবেশে এক ধরনের ‘সবুজ মরুভূমি’ তৈরি করছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভয়াবহ জলাভাব ও কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসবে। রংপুর বন বিভাগের ডিমলা বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বন বিভাগের আওতাধীন কোনো নার্সারিতে ইউক্যালিপটাস বা আকাশমনি চারা উৎপাদন বা বিক্রি হচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, নিষিদ্ধ গাছের চারা উৎপাদন ও বিপণন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণকে পরিবেশবান্ধব গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত: ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ১১ বছরের শিশুর গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানের জৈবিক পিতা মাদ্রাসাশিক্ষকই চীনে নিরাপত্তা উপদেষ্টা, রাশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী: একযোগে দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারত বাবার রিপোর্টে ছেলের চিকিৎসা যাচাই, থমকে গেল ম্যারাডোনা ট্রায়াল প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে সরকারের তীব্র সমালোচনা ও আক্রমণ ওবায়দুল কাদেরের উগ্রবাদের সতর্কবার্তা যাচাই ছাড়া প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য কি রাখে বাংলাদেশ? মস্কোয় পুতিন-লাভরভের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক: ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্কে নতুন গতি মানবিক ও বিবেকবান বাঙালিদের উচিত একে অপরের পাশে দাঁড়ানো ও ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ব্রাজিলকে ঢাকায় এনে খেলানোর অর্থ নেই সরকারের, বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাঃ স্ত্রী-কন্যাকে ধর্ষণের আলামত, ডোমের বক্তব্যে ঘটনায় নতুন মোড় বিডিডাইজেস্ট এক্সপ্লেইনারঃ যুক্তরাজ্যে হুমায়ুন কবিরের পাঁচ কোম্পানি, ত্যাগ করেননি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ভোর ৬টা থেকে শুরু লোডশেডিং, দিনে পাঁচ দফায় বিদ্যুৎহীন থাকবে বুয়েট ভৈরবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যা বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা: আসছে সুপার এল নিনো, বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা ইউরোপের ‘ব্যতিক্রমী’ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে ধুঁকছে অর্থনীতি, শুকিয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো নিষেধাজ্ঞার চাপে বিপর্যস্ত ইরান, কঠিন বাস্তবতা স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সৌদি-মার্কিন নতুন পারমাণবিক চুক্তি: অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা? ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিভক্ত সৌদি-আমিরাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু জ্বালানি তেল ক্রয়ে ইউনূস-তারেক সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিরিক্ত ব্যয় ৫.৪৯ বিলিয়ন ডলার পুলিশের শার্ট কেন আসামির পরনে- প্রশ্ন করায় মিলল অদ্ভুত উত্তর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পিয়াল আটক