নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!
কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
ধর্ষণ মামলার দ্রুত তদন্তে বাধা মেডিকেল রিপোর্ট
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা, বিক্ষোভ ভারতীয় গ্রামবাসীর
সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
কোনো সরকার যখন কোনো রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে, তখন তার একটা আইনি দায়িত্ব থাকে — এই নিষেধাজ্ঞা যেন অতীতের দিকে হাত না বাড়ায়। এটা শুধু একটা প্রযুক্তিগত শর্ত নয়; এটা সাংবিধানিক আইনের সবচেয়ে পুরনো নীতিগুলোর একটি — অতীতমুখী আইন প্রণয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা। এই নিয়মটা কেন আছে, সেটা বোঝা কঠিন নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে সরকার পেছনে তাকিয়ে কোনো পুরনো কাজকে হঠাৎ করে অপরাধ বলে ঘোষণা দিতে পারে না — বিশেষত যখন সেই কাজটি করার সময় আইনের চোখে সেটি অপরাধই ছিল না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ঠিক এই নীতিটাই লঙ্ঘন করেছে। কোনো শুনানি নেই, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, এমনকি সংবিধান প্রদত্ত ন্যূনতম অধিকারটুকুও না দিয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ভুলটা বর্তমান সরকারের পক্ষে শুধরে নেওয়া সম্ভব — এবং সাংবিধানিকভাবে সেটা করা তাদের দায়িত্বও বটে।
এই শিক্ষার্থীদের কেউই আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। কাউকে আলাদাভাবে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেকে এখন পর্যন্ত জানেনই না তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন অভিযোগ আনা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ আর প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে তাদের বলা হয়েছে — তোমাদের শিক্ষাজীবন শেষ।
ক্যাম্পাসের বাইরেও ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণা
এই মানবিক বিপর্যয় শুধু ক্যাম্পাসেই থেমে নেই। এই শিক্ষার্থীরা এখন সমাজচ্যুত, একঘরে। লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন দিনের পর দিন। একজন শিক্ষার্থী দুই বছরেও নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। আরেকজন কাছের একজন স্বজনের জানাজায়ও যেতে পারেননি। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বাবাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক ব্যবসা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী তাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া সাক্ষ্যে জানিয়েছেন, তারা আত্মহত্যার কথা ভেবেছেন।
“অনেকবার মনে হয়েছিল আত্মহত্যা করি, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে আর ধর্মীয় দিক মাথায় রেখে পারিনি।”
এই কথাগুলো এক শিক্ষার্থীর — যার সাক্ষ্য এই লেখার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষ্যগুলো লেখক নিজে সংগ্রহ করেছেন। এগুলো ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষার্থীদের ওপর ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলে আসা পদ্ধতিগত নির্যাতনের সাক্ষী। সাক্ষ্যগুলো স্বেচ্ছায় দেওয়া, স্বাক্ষরিত এবং তথ্যচিত্র ও সমর্থনমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাঁচটি আলাদা সাক্ষ্যে — ভাষায় ও বেদনায় প্রায় একই রকম — একটাই গল্প বারবার উঠে আসে: একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পিত হয়েছিল, হয়তো গড়েও উঠছিল — তারপর হঠাৎ একটি প্রতিষ্ঠান সেটা ভেঙে দিল, আইনি কোনো ভিত্তি ছাড়াই।
দুটো আইনি সমস্যা, দুটো সমাধান
বর্তমান সরকার চাইলে দুটো সুনির্দিষ্ট আইনি সমস্যার সমাধান করতে পারে।
প্রথমত, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব অতীতে যেতে পারবে না।
যেসব কারণে শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে — রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট এবং ক্যাম্পাসের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ — এসব ঘটেছিল ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে, নিষেধাজ্ঞা জারির আগে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ এবং বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিতে সই করেছে, সেগুলোর একটি মৌলিক নীতি হলো — কোনো ব্যক্তিকে এমন কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে না, যেটা করার সময় সেটা আইন বহির্ভূত ছিল না। ২০২৪ সালের অক্টোবরের আগে ছাত্রলীগের সদস্য হওয়া কোনো অপরাধ ছিল না। এখন সেটাকে অপরাধ বানানো যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলেই যথেষ্ট। এতে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন পুনরায় চালু হবে না। শুধু নিশ্চিত হবে যে নিষেধাজ্ঞাটা সংবিধানসম্মত আইনি শক্তি নিয়ে কাজ করছে — অর্থাৎ এটা ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্য, অতীতের জন্য নয়। তার আগে পর্যন্ত, নিষেধাজ্ঞা-পূর্ব সম্পর্কিতার ভিত্তিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু করা কোনো শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস একসঙ্গে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় — তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানাতে বলা হয়। নোটিশে অভিযোগ হিসেবে লেখা ছিল কেবল “১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাসমূহ” — কার বিরুদ্ধে কী অপরাধ, কোনো প্রমাণ, কিছুই নেই। তৎকালীন প্রক্টর এমনও সুপারিশ করেন যে যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে পাস করে বেরিয়ে গেছেন, তাদের সনদও বাতিল করা হোক। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি ৪০৩ জনের মধ্যে ১২৮ জনকে বহিষ্কার করে। বাকি ২৭৫ জন স্থায়ী প্রশাসনিক বহিষ্কারের মুখে পড়েন।
৪০৩ জনের মধ্যে ৮৩ জন লিখিত জবাব দেন। সেই জবাবে বলা হয়, নোটিশটি “অপরাধ ধরে নিয়েই” পাঠানো হয়েছে এবং প্রমাণের দায়ভার শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হয়েছে — যা সংবিধানবিরোধী, কারণ “দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ” — এই নীতি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জবাবে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে — আইনের সামনে সমতা, আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার এবং জীবনের অধিকার — এবং “audi alteram partem” নীতির কথা বলা হয়েছে, যার মানে হলো “কাউকে না শুনে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।” এই যুক্তি সাংবিধানিকভাবে সঠিক। আলাদা আলাদা সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে আলাদা শুনানি ও আলাদা রায় — এগুলো শুধু প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতা নয়, এগুলো সাংবিধানিক পূর্বশর্ত।
মব সহিংসতার ছায়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এই ব্যক্তিগত মামলাগুলোর চারপাশে যা ঘটে চলেছে, সেটা মোটেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মব সহিংসতা ও আইনের শাসনের অবক্ষয় “উদ্বেগজনকভাবে স্বাভাবিক” হয়ে উঠেছিল — শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সবাই টার্গেট হয়েছেন। সব ক্ষেত্রেই অন্তর্বর্তী সরকারের নীরবতা ছিল উদ্বেগজনক; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো সরকার মব সহিংসতাকে ন্যায়সঙ্গতও বলেছে।
সেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন আসল পরীক্ষা: সংবিধান-সমর্থিত সরকার কি সেই সুরক্ষাগুলোকে সম্মান দেখাবে যেগুলো সংবিধানকে অর্থবহ করে তোলে — নাকি এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আইনবহির্ভূত শাস্তির আড়াল হিসেবে ব্যবহার করবে? আইনের শাসন প্রথমটাই দাবি করে।
ছাত্র রাজনীতি: ইতিহাসের ঐতিহ্য, বর্তমানের সংকট
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি এখন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রে উত্তরণ — প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে এই দেশের শিক্ষার্থীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তবু ছাত্র রাজনীতি বিতর্কিতই থেকে গেছে — সহিংসতা, সংঘাত আর রক্তাক্ত ইতিহাসের কারণে। ছাত্রলীগের অনেক শিক্ষার্থীই মনে করেন ছাত্র রাজনীতি ক্ষমতার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়, শুধু স্লোগানের জন্যও নয়।
“আমরা চেয়েছিলাম শিক্ষাব্যবস্থার আসল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর বাস্তব, ভবিষ্যতমুখী সমাধান খুঁজে বের করতে।”
এই কথাগুলো এক ছাত্রনেতার — যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন তিনি ছাত্র রাজনীতিতে এসেছিলেন। নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন,
“আমরা চাইতাম রাজনীতিটা আরও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ভিত্তিশীল হোক, সমাজের জন্য গঠনমূলক হোক।”
তার কাছে ছাত্র রাজনীতি ছিল সামাজিক সংহতি ও জাতীয় আত্মবিশ্বাস গড়ার মাধ্যম — বিভেদ বাড়ানোর নয়। তার মতো অনেকের কাছেই ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা একটি স্বপ্নের মৃত্যু।
থমকে যাওয়া স্বপ্নগুলো
ব্যক্তিগত যোগাযোগে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সবার একটা করে লক্ষ্য ছিল: সরকারি চাকরি, একটু স্থিতিশীল আয়, আর এমন একটা ভবিষ্যৎ যেখানে মা-বাবা আর ভাইবোনেরা নিরাপদে থাকবে। সেই পরিকল্পনাগুলো এখন থমকে গেছে। পাস করার দিনগুলো অনিশ্চিত মুলতবিতে হারিয়ে গেছে। টিউশনির আয় — অনেকের একমাত্র রোজগার — বন্ধ হয়ে গেছে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হওয়ার পর থেকে। কেউ কেউ খাবারের জন্য ধার করছেন। এত ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই শিক্ষার্থীরা আশা হারাননি — তারা বিশ্বাস করেন, একদিন সত্য বেরিয়ে আসবেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে — কারণ “তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার” স্লোগানের জবাবে তিনি বলেছিলেন “বাঙালি, বাঙালি।” কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করেই তার এই সাড়া দেশের ইতিহাসের একটি গভীর অনুভূতিকে স্পর্শ করে। “রাজাকার” শব্দটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া বাঙালিদের বোঝাতে ব্যবহৃত হতো — যাদের বিশ্বাসঘাতক গণ্য করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের “রাজাকার” বলে পরিচয় দেওয়া দেশজুড়ে বিতর্ক তুলেছিল — কারণ এই শব্দের সঙ্গে জড়িত আছে সহযোগিতাবাদ, ইসলামি মৌলবাদ এবং গণহত্যার ইতিহাস। রাজাকার স্লোগানের জবাবে “আমি বাঙালি” বলা একটি দেশপ্রেমিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের প্রকাশ, বাংলাদেশের আইনে এটি কোনো অপরাধ নয়। ওই শিক্ষার্থী বলেন:
“কোনো অপরাধমূলক বা বেআইনি কাজ না করেও শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস রাখার কারণে এবং একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার কারণে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে সংগঠন করার অধিকার আমার আছে।”
কথাগুলো সহজ, কিন্তু দৃঢ়। এগুলো এক তরুণের নীতির বয়ান, যে প্রায় সব হারিয়ে ফেলেছে — শুধু এটুকু বিশ্বাস টিকিয়ে রেখেছে যে সে সঠিক ছিল।
“সুন্দর স্বপ্ন” — একটি চুক্তির নাম
তথ্যচিত্রের জন্য সংগ্রহ করা প্রতিটি সাক্ষ্যে একটাই কথা বারবার ফিরে এসেছে: “বুকে সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম।”
এই “সুন্দর স্বপ্ন” কথাটা এই সাক্ষ্যগুলোতে একটা বিশেষ ভার বহন করে। এটা কেবল কোনো অস্পষ্ট আশার কথা নয়। এটা একটা চুক্তির কথা — একটা দেশ আর তার তরুণদের মধ্যে সেই বোঝাপড়া যে পরিশ্রম করলে, ত্যাগ করলে আর কোনো কিছুতে বিশ্বাস রাখলে, তার বিনিময়ে একটা ভবিষ্যৎ পাওয়া যাবে। এই তরুণেরা নাগরিক হিসেবে সুরক্ষা চাইছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের দোহাই দিয়ে। সেই সংবিধান — যেটা ২০২৪ সালের আগস্টের পরের প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে থেকেই আছে এবং এগুলোর পরেও টিকে থাকবে — সেটা বলছে, কলমের এক আঁচড়ে মনগড়াভাবে এই তরুণদের ভবিষ্যৎ খুন করা যাবে না।
(এই প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়া বেশ কয়েকজন নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত বহিষ্কার, আটকের হুমকি এবং চলমান দমন-পীড়নের কারণে প্রকাশ্যে পরিচয় দেওয়া বিপজ্জনক। তাদের পরিচয় গোপন রাখাটা দ্বিমতের বাস্তব ঝুঁকির প্রমাণ। সব দাবি প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র, দলিল এবং একাধিক স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।)
দ্যা ডিপ্লোম্যাট মূল প্রবন্ধঃ
How the Dreams and Aspirations of Bangladeshi Students Have Been Crushed
লেখক পরিচিতিঃ
সঙ্গীতা গাজী
ওয়ার্টন স্কুল, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক
স্ট্যানফোর্ড ল স্কুলের ট্রান্সআটলান্টিক টেকনোলজি ল ফেলো।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।