জ্বালানি খাতে সহায়তা চায় বাংলাদেশ – বর্ণমালা টেলিভিশন

জ্বালানি খাতে সহায়তা চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ October, ২০২৬ | ৮:৩১ 47 ভিউ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চসুদ এবং ঋণের বোঝা-সব মিলিয়ে নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। সবকিছু মিলে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানে পরিবর্তনের শঙ্কা। এমন বাস্তবতায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগ বাড়ানো ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল নির্ধারণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা। সোমবার শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। বিশ্বের ১৯১টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব এবং আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৫ হাজারেরও বেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়নই এই বার্ষিক সভার মূল লক্ষ্য। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত রূপাান্তর ও কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্যও সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে ঢাকা। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাংককে শুরু হওয়া বার্ষিক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও কাজ এগোচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামলাতে বাংলাদেশের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও কাজে লাগাতে হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে নিজেদের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আদায় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিল্পায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো, কর অব্যাহতি ও অনিয়ম কমানো এবং রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। সংস্কারের দায়িত্ব ও মালিকানা সরকারের হাতে থাকলে তা বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বন্ধ কলকারখানা চালু, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহণব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তেল ও ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে সারের মূল্যবৃদ্ধি কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও ভর্তুকি ব্যয়ও বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট জ্বালানি ও মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে ৩০ থেকে ৪০টি দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য সংকটকালীন সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিভিন্ন উৎস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এটি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোনো অর্থ নয়; সম্ভাব্য বৈশ্বিক সহায়তার পরিসর। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে এসব দেশের বৈদেশিক ঋণদাতাদের প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সুদ বাবদ। ফলে জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে। ৪৫০-৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা : সাইডলাইন বৈঠকে আইএমএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি নতুন ঋণ সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত ও চূড়ান্ত পর্যায়ের দরকষাকষি করছে বাংলাদেশ। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঋণ প্রস্তাব আইএমএফ দপ্তরে পাঠানো হয়। ঢাকা ও আইএমএফের মধ্যকার চলমান আলোচনায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হলে আগামী ডিসেম্বরেই দ্বিপক্ষীয় ঋণ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। নতুন এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংস্কারকে প্রধান শর্ত হিসাবে সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার ও রাজস্বনীতি পৃথকীকরণ, ব্যাংকিং খাতের তদারকি বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ হ্রাস, করছাড় প্রক্রিয়া যৌক্তিককরণ এবং বিভিন্ন জরুরি খাতে প্রদেয় সরকারি ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেছে। এআইয়ের প্রভাবে বদলাবে শ্রমবাজার : বিশ্ব অর্থনীতির আরেকটি বড় আলোচ্য বিষয় এআইয়ের দ্রুত বিস্তার। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সোমবার ব্যাংককে বলেছেন, এআইয়ের কারণে বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির কাজের ধরন বদলে যেতে পারে, কাজের মান কমতে পারে অথবা কিছু পদ বিলুপ্ত হতে পারে। উন্নত অর্থনীতিতে এর প্রভাব ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এসব চাকরির সবই বিলুপ্ত হবে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। কিন্তু একই প্রযুক্তি শ্রমবাজার, শিক্ষা ও করব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে নজর : উন্নয়ন অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোও সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য। অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় অর্থায়নের জন্য সরকারি সম্পদের পাশাপাশি বেসরকারি পুঁজি কাজে লাগানোর ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন রাশেদ আল তিতুমীর। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফল সংরক্ষণ, হালাল খাদ্যপণ্য এবং চট্টগ্রাম ও রেনং বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার