আমদানির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ হওয়ায় এখন পণ্যের আমদানি বেড়েছে – বর্ণমালা টেলিভিশন

আমদানির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ হওয়ায় এখন পণ্যের আমদানি বেড়েছে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ March, ২০২৫ | ১০:৫৮ 187 ভিউ
ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ হওয়ায় এখন পণ্যের আমদানি বেড়েছে। এতে পণ্যের জোগান বেড়ে মজুত ও খুচরা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ডলারের হিসাবে আমদানি কমলেও পরিমাণে বেড়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমেছে ও এলসির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ হওয়ায় ঋণপত্রের পুরো পণ্যই দেশে আসছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদারকি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান বা আত্মগোপন করেন। তাদের অনেকেই এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেকটা কমে গেছে। পাশাপাশি আমদানিকারকের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে পণ্যের আমদানি বাড়ছে। আগে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্য আমদানি ও সরবরাহ করার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তারা নিজেদের মতো করে পণ্য আমদানি করে তা বাজারজাত করতেন। এতে চট্টগ্রাম ও ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ সক্রিয় ছিল। সরকার পতনের কারণে গ্রুপটিও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ওই সিন্ডিকেট পণ্য আমদানির যে এলসি খুলত তার সব পণ্য আমদানি না করে বিদেশে টাকা পাচার করে দিত। এতে হিসাবে পণ্য বেশি আমদানি হলেও বাস্তবে ছিল কম। গ্রুপটি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের এলসি খুলতে দিত না। তারা নিজেরা পরিকল্পিতভাবে পণ্য আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করত। নিত্যপণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও তারা একইভাবে টাকা পাচার করত। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজের বড় আমদানিকারক ছিল এস আলম গ্রুপ। ফলের বড় আমদানিকারক ছিল নাসা গ্রুপ। ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণ করত বেক্সিমকো গ্রুপ। এছাড়া আরও কয়েকটি বড় গ্রুপ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করত। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে নিত্যপণ্য আমদানির আড়ালে টাকা পাচারের ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে। প্রতিবছর রোজার আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম থাকে ঊর্ধ্বমুখী। সরকার নানা পদক্ষেপ ও হুমকি-ধমকি দিয়েও দাম কমাতে পারে না। কিন্তু এবার সরকার রোজায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। পণ্য ও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল করা হয়েছে। রোজানির্ভর পণ্য ১ থেকে ৫ শতাংশ মার্জিন দিয়েও আমদানি করা যাচ্ছে। এসব পণ্য আমদানিতে ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দামে ডলারের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাকিতে বা বৈদেশিক ঋণ নিয়ে পণ্য আমদানিরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যেসব উদ্যোক্তা নিত্যপণ্য বা এর কাঁচামাল আমদানি করবেন তাদের অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এলসি ফি বা কমিশন বা অন্যান্য চার্জ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা রয়েছে। রোজার অনেক আগে থেকে এসব পদক্ষেপ নেওয়ায় আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি এলসি খোলার হারও বেড়েছে। ফলে সরবরাহ বেড়েছে। আমদানির অপেক্ষায় আরও পণ্য রয়েছে যেগুলো আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চলে আসবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। ডলারের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। এসব কারণে পণ্যের আমদানি খরচ কমেছে। আগে নিত্যপণ্য ঢাকা ও চট্টগ্রামভিত্তিক গুটিকয়েক বড় গ্রুপ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করত। এবার সরকার বড় বড় গ্রুপের পাশাপাশি ছোট ছোট উদ্যোক্তাদেরকেও আমদানিতে উৎসাহিত করেছে। এতে দেশের বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও এলসি খুলে পণ্য আমদানি করেছেন। আগে আমদানি করত শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো। যে কারণে তারা আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। এখন চারদিক থেকে আমদানি হওয়ায় এককভাবে কেউ বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বাজারে একই পণ্যের দামে হেরফের হচ্ছে। আমদানি ও উৎপাদন খরচের ভিন্নতার কারণে এমনটি হচ্ছে। তবে সয়াবিন তেল পরিশোধনকারী কোম্পানি কয়েকটি। এর বাজার তাদের বৃত্ত থেকে বের করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে সয়াবিন তেলের দাম না বাড়লেও বাজারে এর সংকট রয়েছে। এদিকে নিত্যপণ্যের বড় আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী কয়েকটি গ্রুপকে সরকার থেকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে। এতেও দাম কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের বড় যে সিন্ডিকেট ছিল সেটি এবার তেমনভাবে সক্রিয় নয়। তাদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ এখন তদন্ত হচ্ছে। সবজিসহ আরও কিছু পণ্যের দাম কমাতে এবার সরকার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। আড়ত থেকে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়ে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখন উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছে। ফলে সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি শিল্প পণ্যের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। আগে রাজনৈতিক দলের পক্ষে মাফিয়াগুলো যেভাবে সক্রিয় থাকত, এখন সেভাবে নেই। এতেও সরবরাহ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ডলারের হিসাবে নিত্যপণ্য আমদানি কমেছে। কিন্তু পরিমাণে বেড়েছে। ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকায়, ব্যাংকের নির্ধারিত দরে ডলারের জোগান পাওয়ায়, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমায় এবং এলসির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে নিত্যপণ্যের আমদানি ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। কিন্তু পণ্যের আমদানি বেড়েছে ২২ শতাংশ। এর মধ্যে লবণ ও চিনির আমদানি ব্যয় কমেছে ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ, আর আমদানি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি ব্যয় কমেছে ১৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আর আমদানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। পরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি খরচ কমেছে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ, আমদানি বেড়েছে ১৪ শতাংশ। অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি খরচ অস্বাভাবিক মাত্রায় কমার পরও কারখানাগুলোতে কাঁচামালের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে। এ খাতে আমদানি খরচ কমেছে ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অথচ আমদানি বেড়েছে। ভোজ্যতেলের কাঁচামাল আমদানির নামে এস আলম গ্রুপসহ কয়েকটি গ্রুপ বড় অঙ্কের টাকা পাচার করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে সয়াবিন তেলের কাঁচামাল আমদানি প্রায় ৭৮ শতাংশ কমার পরও এর সরবরাহে ঘাটতি নেই। আগে ডলার সংকটের কারণে ফল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। যে কারণে এগুলোর আমদানি একেবারেই কম হতো। এখন ডলারের জোগান বাড়ায় আমদানিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আমদানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কারণে এলসির খরচ কমেছে ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার