অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার – বর্ণমালা টেলিভিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৮:৩৪ 78 ভিউ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার ১৮ মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, পদ্ধতিগত দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসলীলার পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল এক ভয়াবহ অস্থির সময়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘রিফর্মস বুক’ বা সংস্কার তালিকায় সরকারের গত দেড় বছরের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা এক কথায় রাষ্ট্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি সাহসী ও কাঠামোগত প্রচেষ্টার দালিলিক প্রমাণ। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এই স্বল্প সময়ে ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন প্রণয়ন এবং ৬ শতাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যার ৮৪ শতাংশই ইতোমধ্যে কার্যকর। এটি কেবল সংখ্যার বিচার নয়, বরং রাষ্ট্রপরিচালনার মৌলিক স্তম্ভগুলো-প্রশাসন, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ‘ভাঙন’ সামাল দেওয়া ছিল এই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক খাতকে পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগগুলো অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের সংস্কারে যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, তা উল্লেখ করার মতো। র‌্যাবকে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ হিসাবে পুনর্গঠন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ১,২০০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া-জনগণকে দেওয়া জওয়াবদিহিতার প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জ্বালানি খাতে বিশেষ আইন বাতিল করে জনশুনানির মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চিন্তার প্রতিফলন। এছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য ও শ্রম অধিকারের মতো স্পর্শকাতর খাতে যে আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা সরাসরি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তবে ১৮ মাসে অর্জিত এই অগ্রগতি যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, জুলাই বিপ্লবের যে মূল চেতনা-বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন-তা বাস্তবায়নে এই কাঠামোগত সংস্কারগুলোই হবে মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সংস্কার যাত্রা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা হিসাবে পৌঁছায়, সেটাই হবে এ সরকারের চূড়ান্ত সাফল্য।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাচার বাড়ি থেকে ফেরার পথে শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১ কেন ওয়াদুদকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন জানালেন মৌসুমী অবসরের ঘোষণা দিলেন নেইমার উল্টোরথে ব্রাজিলের ‘মিশন হেক্সা কমপ্লিট’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ জনের মৃত্যু দেশের ১২ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস উলিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে উচ্ছ্বসিত মন্তব্য জামায়াত আমিরের মাদ্রাসাছাত্রকে বছরজুড়ে শিক্ষক ও ৩ ছাত্রের ধর্ষণ: ‘ইসলামের স্বার্থে’ আপোস মীমাংসায় অভিভাবকদের সম্মতি ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ, বিএনপিকর্মী ল্যাংড়া খোকন পলাতক তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয় সোনাগাজীতে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অর্ধকোটি টাকার মাছবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, তিন দেশে প্রাণ গেল ৩৭০০ মানুষের বিচারকের বাড়ি থেকে ১৯ লাখ টাকার সোনাসহ মামালাল চুরি: বিএনপির ২ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোদ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা