Y ক্রোমোজোম হ্রাসে পুরুষ জাতি বিলুপ্তির শঙ্কা কতটা যৌক্তিক, বিজ্ঞান কী বলছে – বর্ণমালা টেলিভিশন

Y ক্রোমোজোম হ্রাসে পুরুষ জাতি বিলুপ্তির শঙ্কা কতটা যৌক্তিক, বিজ্ঞান কী বলছে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ July, ২০২৬ | ৫:২৭ 159 ভিউ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হারিয়ে যাচ্ছে Y ক্রোমোজোম, তবে কি বিলুপ্ত হবে পুরুষ?’ শীর্ষক একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে। এই ফটোকার্ডটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ‘বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা একটি পোস্টে হাজারের বেশি রিয়েকশন, কমেন্ট ও শেয়ার রয়েছে। ব্যবহারকারীদের অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। পোস্টটি শেয়ার করে একজন লিখেছেন, ‘নিশ্চয়ই কেয়ামতের কিছু আলামত বা লক্ষণ রয়েছে। তা হলো, পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এমনকি ৫০ জন নারীর জন্য মাত্র একজন পুরুষ তত্ত্বাবধায়ক বা পরিচালক হবে।— সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর ৮১; সহীহ মুসলিম।’ প্রচারিত পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন লেখেন, ‘সহজ-সরল মানুষ বেশি দিন বাঁচে না।’ আরেকজন মজা করে কমেন্ট করেছেন, ‘তাও তো বগুড়ায় সিঙ্গেল মেয়ে পাই না।’ অন্য একজন লেখেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়।’ আবার একজন ব্যঙ্গ করে কমেন্ট করেন, ‘নাসার গবেষকদের চেয়ে আমাদের বাংলাদেশের চায়ের দোকানের গবেষকেরা অনেক দূর চলে গেছে।’ উল্লেখ্য, ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত সুতার মতো কাঠামো যা প্রোটিন এবং ডিএনএ দিয়ে গঠিত। এটি জীবের সমস্ত বংশগতীয় তথ্য বহন করে এবং পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হতে সাহায্য করে। মানবদেহে সাধারণত ৪৬টি (২৩ জোড়া) ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে দেহের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলে অটোজোম। আর লিঙ্গ নির্ধারণকারী ১ জোড়া ক্রোমোজোমকে (নারীদের ক্ষেত্রে XX এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে XY) বলে সেক্স ক্রোমোজোম। সে হিসাবে Y ক্রমোজোম কমে যাওয়ার অর্থ হলো ছেলেশিশুর জন্ম কমে যাওয়া এবং কন্যাশিশু জন্মের হার বৃদ্ধি পাওয়া। আলোচিত দাবির বিষয়ে বিজ্ঞান সাময়িকী ও গবেষকদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল দাবিটি আংশিক সত্য, তবে বিভ্রান্তিকর। Y ক্রোমোজোম কমে যাওয়ার তথ্যটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলেও, এর কারণে পুরুষ বা মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। Y ক্রোমোজোম হ্রাসের গল্প বিজ্ঞানীদের মতে, আজ থেকে প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে মানুষের শরীরে সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমের বিকাশ ঘটে। এর আগে নারীদের মতো একই ক্রোমোজোম জোড়ায় জোড়ায় ছিল। এগুলোর বৈশিষ্ট্যও ছিল একই। মানুষের পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণকারী ‘ওয়াই’ (Y) ক্রোমোজোমটি ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং আগামী ৬০ থেকে ৭০ লাখ বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এর ফলে কি পুরুষ জাতি পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে? বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৮ কোটি বছরের স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাসে ওয়াই ক্রোমোজোমটি তার আদি জিনের প্রায় ৯৭ শতাংশই হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে নারীর শরীরে থাকা ‘এক্স’ (X) ক্রোমোজোমে যেখানে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০টি জিন থাকে, সেখানে পুরুষের ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোমে জিনের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫টিতে। এর মধ্যে মাত্র একটি জিন পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণ করে (SRY জিন) এবং বাকি কয়েকটি জিন শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্রোমোজোমের এই ক্ষয় কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; ফ্রুট ফ্লাই বা ফলখেকো মাছির মতো অনেক প্রাণী ইতিমধ্যে তাদের ওয়াই ক্রোমোজোম প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। কেন সংকুচিত হচ্ছে ওয়াই ক্রোমোজোম ওয়াই ক্রোমোজোমের এই দ্রুত ক্ষয়ের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন জিন বিজ্ঞানীরা: ১. উচ্চ মিউটেশনের ঝুঁকি: ওয়াই ক্রোমোজোমটি কেবল পুরুষের অণ্ডকোষে সক্রিয় থাকে। সেখানে প্রতিনিয়ত এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শুক্রাণু তৈরির জন্য দ্রুত ও অনবরত কোষ বিভাজনের প্রয়োজন হয় বলে এই ক্রোমোজোমটি অনবরত উচ্চ জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ২. স্ব-মেরামতের অক্ষমতা: মানবদেহের অন্য জোড়া ক্রোমোজোমগুলো কোনো ধরনের জিনগত ক্ষতির শিকার হলে নিজেদের মধ্যে ডিএনএ পুনঃসংযোজন (রিকম্বিনেশন) করে তা মেরামত করে নিতে পারে। কিন্তু পুরুষের শরীরে কেবল একটিই ওয়াই ক্রোমোজোম থাকায় এটি কোনো সঙ্গী পায় না। ফলে নিজের ত্রুটিগুলো নিজে মেরামত করতে পারে না এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল জিনগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিখ্যাত জিন বিজ্ঞানী অধ্যাপক জেনি গ্রেভসের মতে, এই ক্ষয়ের গতি যদি একই রকম থাকে, তবে আগামী ৬০ থেকে ৭০ লাখ বছরের মধ্যে মানুষের শরীর থেকে Y ক্রোমোজোম পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে আশার কথা হলো, ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই কোটি বছর ধরে এই ক্ষয়ের গতি বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। Y ক্রোমোজোম ছাড়া পুরুষ? ওয়াই ক্রোমোজোম বিলুপ্ত হলে মানুষের প্রজনন কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মৌমাছি বা কিছু সরীসৃপ পারলেও মানুষ অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস (পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াই কেবল ডিম্বাণু থেকে সন্তান জন্ম দেওয়া) পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। সাধারণভাবে, মানুষের প্রজননের জন্য এমন কিছু জিনের প্রয়োজন হয়, যা কেবল শুক্রাণুর মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে মানবজাতির টিকে থাকার জন্য পুরুষের অস্তিত্ব অপরিহার্য। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, Y ক্রোমোজোম চলে গেলেও পুরুষ বিলুপ্ত হবে না। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ জাপানের আমামি দ্বীপের এক বিপন্ন প্রজাতির ইঁদুর—আমামি স্পাইনি র‍্যাট। ২০২২ সালের শেষের দিকে বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল PNAS-এ প্রকাশিত জাপানের হোক্কাইদো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসাতো কুরোইওয়ার একটি গবেষণা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা দেখেন, এই ইঁদুরগুলোর শরীর থেকে বিবর্তনের ধারায় Y ক্রোমোজোম এবং পুরুষের বৈশিষ্ট্যবাহী SRY জিন—দুটোই পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেছে! পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ইঁদুরের ক্রোমোজোম দেখতে হুবহু এক। তাও তারা দিব্যি পুরুষ ও স্ত্রীতে বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করছে। প্রকৃতি কীভাবে বিকল্প ‘সুইচ’ বানাল বিজ্ঞানীরা এই ইঁদুরের ডিএনএ ম্যাপিং করে এক অবিশ্বাস্য রহস্যের জট খোলেন। তাঁরা দেখেন, Y ক্রোমোজোম হারিয়ে গেলেও পুরুষ ইঁদুরদের শরীরে একটি সাধারণ ক্রোমোজোমের (Autosome) ভেতর নতুন একটি জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে। তাদের শরীরের SOX9 নামক একটি জিনের পাশে ডিএনএ-র একটি বাড়তি অংশ তৈরি হয়েছে, যা কেবল পুরুষ ইঁদুরের মধ্যেই আছে। সাধারণ প্রাণীদের ক্ষেত্রে Y ক্রোমোজোমের কাজ ছিল ওই SOX9 জিনকে সক্রিয় করা। কিন্তু এই ইঁদুরদের ক্ষেত্রে Y ক্রোমোজোম না থাকলেও, সাধারণ ক্রোমোজোমে ঘটে যাওয়া নতুন এই পরিবর্তনটি নিজেই একটি ‘সুইচ’ হিসেবে কাজ করছে এবং কোনো সাহায্য ছাড়াই শুক্রাশয় তৈরি করে পুরুষত্ব টিকিয়ে রাখছে। মানুষের ভবিষ্যৎ কী? Y ক্রোমোজোমের এই ক্রমাগত ক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিবর্তনের দীর্ঘ ধারায় এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর ইঁদুরের গল্পটি মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি জীবন্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সুদূর ভবিষ্যতে যদি মানুষের Y ক্রোমোজোম কখনো বিলুপ্ত হয়েও যায়, তারপরও মানবজাতি নতুন কোনো জিনের মাধ্যমে পুরুষ সত্ত্বা টিকিয়ে রাখতে পারবে। এমনও হতে পারে, পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মানুষের শরীরে ভিন্ন ভিন্ন নতুন লিঙ্গ-নির্ধারণী জিন তৈরি হবে, যা সুদূর ভবিষ্যতে মানুষকে একাধিক নতুন প্রজাতিতে বিভক্ত করতে পারে। অর্থাৎ, Y ক্রোমোজোম হারিয়ে বা কমে যাওয়ার দাবিটি সত্য হলেও ‘পুরুষ বিলুপ্ত হয়ে যাবে’— এই দাবিটি সঠিক নয়। এ ছাড়া বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, Y ক্রোমোজোম ছাড়াও প্রকৃতিতে বিকল্প উপায়ে পুরুষত্ব টিকিয়ে রাখার পথ ইতিমধ্যেই তৈরি হতে শুরু করেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার