নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে হত্যার নেতৃত্বে ছিল জামায়াতের নেতাকর্মীরা, বাড়ি-হাসপাতালে দু’দফা মব হামলা
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ: ৪০ দিন বাকি, সাধারণ পরিষদের রায়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
“তোমরা একা নও, এই দেশ তোমাদেরও”: দুর্গাপূজায় সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার বার্তা; সম্প্রীতির ডাক
পাকিস্তানে ট্রেনে নারী পর্যটকের মোজা-অন্তর্বাস শুঁকছে পুলিশ: “স্বাভাবিক কিনা?”, উঠেছে প্রশ্ন
সারকাণ্ডে কৃষকের পেটে লাথিঃ অবৈধ বিএনপি সিন্ডিকেটের নগ্ন স্বেচ্ছাচারের প্রমাণপত্র
সারাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের অবাধ চলাফেরায় আপত্তি না থাকলেও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের চলাফেরায় উষ্মা বিপ্লবী পরিষদের
নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফাঁদে বাংলাদেশ, সামনে দীর্ঘ সংকট অপেক্ষমান
বছরে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার পণ্য আসছে বাংলাদেশে
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আমদানি নীতির স্বচ্ছতা রক্ষায় একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। একদিকে দেশে শুকনো ফল—বিশেষ করে কিসমিস ও আলু বোখারার চাহিদা মেটাতে আফগানিস্তানের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কহীন দেশ ইসরায়েল থেকে পরোক্ষ আমদানি নিয়ে নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বছরে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকার ইসরায়েলি পণ্য আসছে বাংলাদেশে। আর আফগানিস্তান থেকে এসেছে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার পণ্য।
কিসমিস ও আলু বোখারায় আফগাননির্ভরতা এবং স্থানীয় বাজার চিত্র
বাংলাদেশের জর্দায়, পোলাও, বিরিয়ানি ও মিষ্টান্ন তৈরিতে কিসমিস ও আলু বোখারার চাহিদা অত্যন্ত ব্যাপক। তবে বিশাল এই চাহিদার সিংহভাগই মেটাতে হয় আমদানির মাধ্যমে।
দেশের বাজারে মানসম্পন্ন কিসমিস ও আলু বোখারার প্রধান উৎস আফগানিস্তান। ভারতের মাধ্যমে বা সরাসরি তৃতীয় দেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে আফগান শুকনো ফল বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে স্থানীয় বাজারে মুহূর্তেই আকাশচুম্বী হয় এসব পণ্যের দাম।
আফগানিস্তান ছাড়াও ভারত, ইরান এবং চীন থেকে কিছু কিসমিস ও শুকনো ফল আমদানি হলেও গুণগত মান ও স্বাদের কারণে আফগান পণ্যের ওপরই আমদানিকারকদের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।
ইসরায়েল থেকে পণ্য আমদানির বিতর্ক ও সরকারি বাণিজ্য নীতি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে ইসরায়েল থেকে পরোক্ষভাবে পণ্য প্রবেশ বা আমদানির উৎস গোপন করার বিষয়ে সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ইসরায়েলি যেসব পণ্য বাংলাদেশে ভিন্ন নামে ঢুকছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ মাছের তেল। এছাড়া ডাইং কারখানার জন্য ফিনিশিং এজেন্ট, এনজাইম, ফ্লেক্স বোনা কাপড় ইত্যাদি।
এর বাইরে বিভিন্ন সাইবার সিকিউৃরিটি বিষয়ক প্রযুক্তি পণ্য, নিরাপত্তা সংস্থার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামও রয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তি পণ্য ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম মূলত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের সরবরাহকারীর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত ‘আমদানি নীতি আদেশ’ অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সে দেশ থেকে যেকোনো পণ্য সরাসরি আমদানি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (দুবাই) মতো ফ্রি-ট্রেড হাবগুলোকে ব্যবহার করে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের মূল উৎপত্তিস্থল গোপন রেখে দেশে পণ্য আনার চেষ্টা করেন।
অতীতে বিভিন্ন শিল্পপণ্য, বিশেষ প্রযুক্তি ও কেমিক্যাল সামগ্রী থার্ড-পার্টি সাপ্লায়ারের মাধ্যমে আসার অভিযোগ উঠলেও কাস্টমস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এসব বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা দেখাচ্ছে।
শুল্ক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, বন্দরগুলোতে বিল অব এন্ট্রি ও কান্ট্রি অব অরিজিন সনদ কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে ইসরায়েলের মতো নিষিদ্ধ উৎসের পণ্য কোনো কৌশল অবলম্বন করে দেশে প্রবেশ করতে না পারে।
আমদানি বাণিজ্য সচল রাখতে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে এবং বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ বাণিজ্য এড়িয়ে চলতে বাংলাদেশকে একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল গ্রহণ করতে হবে:
কিসমিস ও আলু বোখারার ক্ষেত্রে কেবল আফগানিস্তানের ওপর নির্ভর না করে তুরস্ক, উজবেকিস্তান, কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে আমদানির পথ সুগম করা প্রয়োজন।
দুবাই বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে আসা শিপমেন্টগুলোর প্রকৃত উৎপত্তিস্থল নিশ্চিত করতে এনবিআর ও কাস্টমস গোয়েন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ বা ইসরায়েলি পণ্য বাজারে ঢুকতে না পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্কভার যৌক্তিকীকরণ করলে সাধারণ ভোক্তারা সহনীয় দামে মানসম্মত পণ্য পাবেন এবং চোরাচালান বন্ধ হবে।
এক নজরে মূল তথ্য-উপাত্ত
বিষয় বিদ্যমান পরিস্থিতি ও তথ্য
প্রধান আমদানিকৃত শুকনো ফল কিসমিস ও আলু বোখারা
প্রধান সরবরাহকারী দেশ আফগানিস্তান (অন্যান্য: ভারত, ইরান)
ইসরায়েল থেকে আমদানি নীতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (আইনগত বাধা)
ঝুঁকির খাত ৩য় দেশের (যেমন দুবাই/সংযুক্ত আরব আমিরাত) মাধ্যমে উৎপত্তিস্থল গোপন করার সম্ভাবনা
তদারকি সংস্থা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কাস্টমস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
আমদানি বাণিজ্যে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অন্ধ নির্ভরতা যেমন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, তেমনি নীতিবহির্ভূত বা বিতর্কিত উৎস থেকে পণ্য আসা প্রতিরোধ করা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।
কিসমিস-আলু বোখারার বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আফগাননির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজারের অনুসন্ধান এবং ইসরায়েলি পণ্যের পরোক্ষ প্রবেশ রুখতে এনবিআরের কঠোর তদারকিই এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: একাত্তর বিজনেস

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]