নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে হত্যার নেতৃত্বে ছিল জামায়াতের নেতাকর্মীরা, বাড়ি-হাসপাতালে দু’দফা মব হামলা
বছরে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার পণ্য আসছে বাংলাদেশে
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ: ৪০ দিন বাকি, সাধারণ পরিষদের রায়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
“তোমরা একা নও, এই দেশ তোমাদেরও”: দুর্গাপূজায় সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার বার্তা; সম্প্রীতির ডাক
পাকিস্তানে ট্রেনে নারী পর্যটকের মোজা-অন্তর্বাস শুঁকছে পুলিশ: “স্বাভাবিক কিনা?”, উঠেছে প্রশ্ন
সারাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের অবাধ চলাফেরায় আপত্তি না থাকলেও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের চলাফেরায় উষ্মা বিপ্লবী পরিষদের
নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফাঁদে বাংলাদেশ, সামনে দীর্ঘ সংকট অপেক্ষমান
সারকাণ্ডে কৃষকের পেটে লাথিঃ অবৈধ বিএনপি সিন্ডিকেটের নগ্ন স্বেচ্ছাচারের প্রমাণপত্র
রংপুরের পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগের নামে যে চরম স্বেচ্ছাচারিতা চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি আজ সারা দেশের রাজনীতির রূঢ় ও নির্মম চিত্রের নিখুঁত প্রমাণ। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দলীয় প্যাড ও সিলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেস যে বেপরোয়া অপব্যবহার করেছেন, তা গোটা জাতীয় সংস্কৃতিরই এক ভয়াবহ রূপ। যে দলীয় পরিচয় হওয়ার কথা ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার, সেটিই আজ হয়ে উঠেছে নিজের ঘর ভরার হাতিয়ার।
স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর থেকে ফুফাতো ভাই পর্যন্ত—পারিবারিক সিন্ডিকেট বসিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সর্বত্রই আজ লুণ্ঠনের মহোৎসব চলছে। রাষ্ট্রীয় সুবিধা যেখানে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা, সেখানে আত্মীয়তার সুতোয় বাঁধা একটি ছোট বৃত্তই সবকিছু দখলে নিয়েছে। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা সেবার মানসিকতা এখানে কোনো বিবেচনাই নয়; একমাত্র মাপকাঠি—কে কার আপন।
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ গত ১৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তালিকাটি। রাঙ্গার স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত ওই তালিকায় ৯টি ইউনিয়নের ১৯টি ডিলার পদের জন্য সরাসরি তাঁর নিজের স্ত্রী সুলতানা ফেরদৌসি ও ডালেসের স্ত্রী সুইটি বেগমকে বসানো হয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিনিয়র সহসভাপতির ছেলে, ডালেসের ফুফাতো ভাই ও শ্বশুরের নাম। আরও আছেন এক ইউনিয়ন সভাপতি, এক সাবেক সভাপতি, চারজন সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সহকোষাধ্যক্ষ ও কৃষক দলের এক নেতা। তালিকার দিকে তাকালে বোঝা যায়, এটি ডিলার বাছাইয়ের কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নয়; এটি দলীয় পদ ও পারিবারিক সম্পর্কের ভাগবাঁটোয়ারার দলিল। এই নথিই প্রমাণ করে, সারা দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে পারিবারিক সাম্রাজ্য গড়া হচ্ছে।
এই অবৈধ সিন্ডিকেট কেবল নৈতিকতার পতন ঘটাচ্ছে না, খেটে খাওয়া কৃষকের পেটে সরাসরি লাথি মারছে। যে কৃষক রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফসল ফলান, সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া তাঁর মৌলিক প্রয়োজন। অথচ সেই সারের বিতরণব্যবস্থা যদি গুটিকয়েক ক্ষমতাবানের পকেটে চলে যায়, তাহলে এর খেসারত দিতে হয় সেই কৃষককেই—বাড়তি দামে, বাড়তি ভোগান্তিতে, আর অনিশ্চিত ফলনের শঙ্কায়।
ডিলারশিপের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে লুণ্ঠনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডিলারশিপ কেনা-বেচার এই অভিযোগ সত্য হলে সেই বিপুল অর্থ শেষ পর্যন্ত কার পকেট থেকে উঠে আসবে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পিষ্ট, তখন এই চক্র সর্বত্র লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। একদিকে মানুষের নাভিশ্বাস, অন্যদিকে ক্ষমতাবানদের পারিবারিক ব্যবসার রমরমা—এই বৈপরীত্যই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় লজ্জা।
আমরা হুঁশিয়ার করে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—কৃষকের রক্তচুষে গড়ে ওঠা এই নির্লজ্জ স্বেচ্ছাচারের সিন্ডিকেট অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এই লুটেরা রাজত্ব আর এক মুহূর্তও সহ্য করা হবে না। জনরোষের আগুনে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের পতন অবশ্যম্ভাবী, এবং বঞ্চিত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এই স্বেচ্ছাচারের কবর রচনা করবেই!

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]