নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বিআইডিএস-এর প্রতিবেদন: বিদেশি অনুদানে টান পড়ায় ধুঁকছে ছোট ও মাঝারি এনজিও
বগুড়ায় সারের মজুদে গরমিল, এক ডিলারের গুদামেই হদিস নেই ১৭৬ বস্তার
বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে বৈষম্য: দরিদ্রের চেয়ে অধিক সুবিধা ভোগ করছে ধনীরা
বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প
বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: শৈলকুপায় ১২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে ৩ নম্বর ইট ব্যবহার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই
পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন
এক ধাক্কাতেই দারিদ্র্যসীমার নিচে দেশের সোয়া ৬ কোটি মানুষ!
বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে বাংলাদেশের প্রায় সোয়া ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েক দশকে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা এখন উল্টো দিকে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি ধীর। এর প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের উচ্চ দাম মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা হিসেবে দিনে ৩ ডলার আয় বিবেচনায় নিলে চরম দারিদ্র্যের হারও ২০২২ সালের ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ১০ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, দারিদ্র্য বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ গত চার বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এতে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট। জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজের সময় কমেছে, কোনো কোনো কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে শিল্প খাতে।
শুধু ২০২৬ অর্থবছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৫ অর্থবছরের পর নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভালো নয়। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নারীরা তুলনামূলক বেশি চাকরি হারিয়েছেন। তবে শ্রমবাজারের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ ২০২৫ সালের পর থেকে শ্রমশক্তি জরিপের নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে কত মানুষ কাজ হারিয়েছেন বা কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি কতটা খারাপ হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাড়ছে ঝুঁকি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, আর্থিক খাত, রাজস্ব, জ্বালানি ও সরকারি বিনিয়োগে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা কমিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি করে এসব দুর্বলতা আরও প্রকট করেছে।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বৈশ্বিক দাম বেড়েছে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের জ্বালানি তেল আমদানির বিল বেড়েছে ১০৭ শতাংশ এবং সারের আমদানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি রাজস্বের ওপরও চাপ তৈরি হবে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের ঘুরে দাঁড়ানো বিলম্বিত হতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আরও ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে মূল্যস্ফীতি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বা তার নিচে রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তায় বড় দুর্বলতা
অর্থনৈতিক সংকটে পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশে জ্বালানি ও সার ভর্তুকির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল সমস্যা অর্থের পরিমাণ নয়, বরং প্রশাসনিক অদক্ষতা। ২০২৬ সালে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৯০টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এত বেশি কর্মসূচির কারণে সহায়তার গভীরতা কমেছে। পাশাপাশি আলাদা যোগ্যতার নিয়ম, একই ব্যক্তির একাধিক তালিকায় থাকা এবং সহায়তা পৌঁছানোর জটিল প্রক্রিয়ার কারণে প্রশাসনিক ব্যয় বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের ৬২ শতাংশই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে না। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ১৮ শতাংশ এসব সুবিধা পাচ্ছে।
বিদ্যুৎ ভর্তুকিতেও একই ধরনের বৈষম্য রয়েছে। শহরের সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবার একাই মোট বিদ্যুৎ ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক পায়।
তবে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, পরিবারভিত্তিক সহায়তার জন্য এটি একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সঠিকভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা যায় কি না, তার ওপর।
বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমায়। একই ধরনের সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ভুল থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে দারিদ্র্যের হার আরও শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে। এতে প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও নির্ভুল করা এবং একটি সমন্বিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা গেলে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে। এতে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এ জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হবে জিডিপির শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]