বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে বৈষম্য: দরিদ্রের চেয়ে অধিক সুবিধা ভোগ করছে ধনীরা – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ৭ October, ২০২৬
১১:২৫ pm
8 ভিউ

বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে বৈষম্য: দরিদ্রের চেয়ে অধিক সুবিধা ভোগ করছে ধনীরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ October, ২০২৬ | ১১:২৫ 8 ভিউ
বিদ্যুৎ ভর্তুকির বড় অংশই পাচ্ছে তুলনামূলক সচ্ছল পরিবার। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবার মোট বিদ্যুৎ ভর্তুকির ৩৩ শতাংশ সুবিধা পেলেও সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পায় মাত্র ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে দরিদ্রদের তুলনায় ধনী পরিবারগুলো বিদ্যুৎ ভর্তুকির সুবিধা দ্বিগুণের বেশি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি ধীর। এর প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে। এর সঙ্গে নিত্যপণ্যের উচ্চ দাম মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকির বোঝাও ক্রমে বাড়ছে। ২০১৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সরকারের ভর্তুকি ছিল ৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ২০২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। এর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশই ব্যয় হয় বিদ্যুৎ খাতে। বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের ভর্তুকি হিসাব করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত খরচ দাঁড়ায় ১৫ টাকা ১৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে সরকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৪ টাকা ৫৩ পয়সা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, আবাসিক গ্রাহকেরা মোট বিদ্যুৎ ভর্তুকির প্রায় ৭২ শতাংশ সুবিধা পায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবার পায় ৩৩ শতাংশ, আর সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ পরিবার মিলেও ভর্তুকির মাত্র ৩০ শতাংশের সুবিধা পায়। তবে দরিদ্র পরিবারের আয়ের তুলনায় বিদ্যুৎ ভর্তুকির গুরুত্ব বেশি। বিদ্যুতের কম দামের প্রত্যক্ষ সুবিধা এবং ভর্তুকি পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের কম দামের পরোক্ষ সুবিধা মিলিয়ে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এ সুবিধার মূল্য তাদের কর-পূর্ব আয়ের ১৮ দশমিক ১ শতাংশের সমান। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভর্তুকি তুলে দিলে বাড়বে দারিদ্র্য বিকল্প কোনো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না করে বিদ্যুৎ ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দিলে দারিদ্র্যের হার ২ দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। এতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে আয়বৈষম্য পরিমাপের জিনি সহগ ১ দশমিক ৬ পয়েন্ট বাড়তে পারে। তবে বড় ধরনের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাদ দিলে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হবে। এর পরিমাণ জিডিপির ১ দশমিক ৯ শতাংশের সমান। বিশ্বব্যাংকের মতে, ভর্তুকি তুলে নেওয়ার ফলে সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের অতিরিক্ত ব্যয় পুরোপুরি পুষিয়ে দিলেও সরকার জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে। জ্বালানি খাতে সংস্কারের তাগিদ শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি সক্ষমতা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও খাতটির ভিত্তি দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। এর পেছনে দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ধারাবাহিক নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল দেশীয় গ্যাস। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমেছে। একই সময়ে নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়নি। ২০১৭ সালেও বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পুরো চাহিদা নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে মেটাতে পারত। এখন মোট গ্যাসের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ মেটাতে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাড়ায় উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে। বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪৩ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। তবে জ্বালানি সরবরাহের সংকট ও সঞ্চালনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ খাত এখনো চাপে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এ মুহূর্তে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন উন্নত করাই সবচেয়ে জরুরি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দরিদ্রকে সহায়তা দিয়ে আবার করের চাপ অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, সরকারি কর ও সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, বাস্তবে তা যথেষ্ট হচ্ছে না। ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক দেখেছে, প্রত্যক্ষ কর ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমায়। এতে জিনি সহগ ৫২ দশমিক ৪ থেকে কমে ৫০ দশমিক ৭ হয়। দারিদ্র্যের হারও ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে পরোক্ষ কর সেই সুফলের বড় অংশ নষ্ট করে দেয়। পরোক্ষ করের প্রভাব বিবেচনায় নিলে জিনি সহগ বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৪ এবং দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৬ শতাংশে উঠে যায়। অর্থাৎ সরকার একদিকে দরিদ্র মানুষকে সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে পরোক্ষ করের মাধ্যমে তাদের ওপর বাড়তি চাপও তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে, ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধার তুলনায় বেশি অর্থ কর হিসেবে পরিশোধ করছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগাকে ধরতে অভিযানে বাধা ডা. শাহাদাতের বিআইডিএস-এর প্রতিবেদন: বিদেশি অনুদানে টান পড়ায় ধুঁকছে ছোট ও মাঝারি এনজিও মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ভয়াবহ উদ্বেগ প্রকাশ, তিন ধাপে কমল প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সিলিন্ডারে ১২ কেজি গ্যাসের ৪ কেজিই উধাও! বাতাস বেচে লাখপতি ব্যবসায়ী ‘ব্যবসা করতে হলে টাকা দে’: কুমিল্লায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর পা ভাঙল যুবদল নেতা বগুড়ায় সারের মজুদে গরমিল, এক ডিলারের গুদামেই হদিস নেই ১৭৬ বস্তার বিএনপি ও গণঅধিকারের দখলে বিএলএফ প্রধান শেখ মনির দৈনিক বাংলার বাণী ভবন এক ধাক্কাতেই দারিদ্র্যসীমার নিচে দেশের সোয়া ৬ কোটি মানুষ! বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিতে বৈষম্য: দরিদ্রের চেয়ে অধিক সুবিধা ভোগ করছে ধনীরা বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: শৈলকুপায় ১২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে ৩ নম্বর ইট ব্যবহার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী-বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক; ইউএন ও ভলকার তুর্ক নীরব ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামবে বলছে বিশ্বব্যাংক, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি অধরা রয়ে যাবে? আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ ঘরে তালা: ঘর বরাদ্দে আর্থিক অনিয়ম, সন্ধ্যায় নারী-মাদকের কারবার সেন্ট মার্টিনে জামায়াতের অনভিজ্ঞ কর্মীদের বিনা মূল্যে খৎনার পর অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ বিরোধী ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বিএনপি সরকার: এইচআরডাব্লিউ বিদেশিদের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক টার্মিনাল: ঝুঁকিতে রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ