ইলিশের জেলাতেই নাগালের বাইরে ইলিশ: ৩ মণ ধান বেচে মিলল ১ কেজি ইলিশ – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইলিশের জেলাতেই নাগালের বাইরে ইলিশ: ৩ মণ ধান বেচে মিলল ১ কেজি ইলিশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ August, ২০২৬ | ৪:৪২ 67 ভিউ
লক্ষ্মীপুর সদরের হামছাদী গ্রামের কৃষক মো. হাসানের ঢাকা থেকে আসা মেয়ে বহুদিন পর বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। ইলিশের জেলা লক্ষ্মীপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছের স্বাদ বহুদিন পাননি তিনি। তাই মেয়ে বাড়ি পা রাখলেই তাকে ইলিশ খাওয়াবেন—এমন ইচ্ছা মনে লালন করছিলেন কৃষক হাসান। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সেই ইচ্ছা পূরণ করা যেন এক কঠিন লড়াই। হাটে ৩ মণ ধান বিক্রি করে পাওয়া ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্য থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা খরচ করে ১ কেজি ওজনের মাত্র ১টি ইলিশ কিনতে পেরেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে এটিই তার প্রথম ইলিশ কেনা। শুনতে গল্পের মতো মনে হলেও, এটিই এখন মেঘনা তীরের জেলা লক্ষ্মীপুরের সাধারণ কৃষকদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ইলিশের জন্য বিখ্যাত এই জেলায় বর্তমানে ১ কেজি ইলিশ কিনতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে অন্তত দুই মণ ধানের দাম। জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে সবজি, মাছ ও ধানের মূল্যের চরম বৈপরীত্য দেখা গেছে। কৃষকেরা বলছেন, মাঠের ঘাম ঝরানো ধান হাটে তুলে যে দাম মিলছে, তা দিয়ে রূপালি ইলিশ তো দূরের কথা, সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে কৃষকের গোলায় ওঠা নতুন ধান, অন্যদিকে মেঘনার তাজা ইলিশ—দুটিই এ অঞ্চলের মানুষের শ্রমের ফসল হলেও দামের বিচারে তাদের অবস্থান এখন আকাশ আর পাতাল। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাত ও মানভেদে বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। বিপরীতে, আকারভেদে ১ কেজি ইলিশের দাম ঠেকেছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ফলে ১ কেজি ওজনের একটি মাছ কিনতে হলেও একজন কৃষককে দুই থেকে আড়াই মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। রায়পুর বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. কামাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আগে ধান বিক্রি করে বাড়ির জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ কিনতাম। এখন বাজারে গিয়ে টাকা পকেটে নিয়ে শুধু ঘুরে আসি, কেনার সাহস পাই না। দুই মণ ধান বিক্রি করে যদি এক কেজি ইলিশ কিনি, তবে সংসারের বাকী খরচ সামলাবো কীভাবে? তাই এখন ইলিশ শুধু বাজারেই দেখি।” লক্ষ্মীপুর শহরের প্রবীণ মাছ বিক্রেতা মো. রুহুল আমিন, যিনি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে সেখানে মাছ বিক্রি করছেন, জানান যে বিগত দুই বছরের তুলনায় এবার ইলিশের বাজার অনেক বেশি চড়া। মেঘনায় মাছ ধরায় প্রায় ৬০ হাজার জেলে নিয়োজিত থাকলেও সরবরাহ ও আকারের ওপর ভিত্তি করে ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতা বিশেষ করে কৃষকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ