যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছরের দম্ভ চুরমার করে দিল ইরান – বর্ণমালা টেলিভিশন

যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছরের দম্ভ চুরমার করে দিল ইরান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ৫:৫৫ 11 ভিউ
ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা লিবিয়া—বিগত তিন দশকে পেন্টাগন যেখানেই বিমান হামলা চালিয়েছে, প্রতিপক্ষ ছিল সামরিকভাবে দুর্বল। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত আমেরিকার সেই দীর্ঘদিনের ‘অজেয়’ আকাশশক্তির মিথ বা রূপকথাকে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতাও সব সময় যুদ্ধের ময়দানে জয় নিশ্চিত করতে পারে না। পশ্চিম ইরানে আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ভূপাতিত হওয়া এই যুদ্ধের একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। যুদ্ধের স্কেল অনুযায়ী একটি বিমান হারানো বড় কোনো ক্ষতি মনে না হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রথম কোনো শত্রুদেশের আকাশসীমায় মার্কিন পাইলটচালিত যুদ্ধবিমান সরাসরি তাদের গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত হলো। যদিও পরবর্তীতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু এই একটি ঘটনাই ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই দিনে পারস্য উপসাগরের কাছে কুয়েতে ইরানের গোলার আঘাতে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমানও ধ্বংস হয়েছে। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, স্টেলথ প্রযুক্তিহীন এবং নিচ দিয়ে ওড়া যুদ্ধবিমানগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন আমেরিকার আরও বেশ কিছু ‘উড়ন্ত বস্তু’ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি পরিবহন বিমানও ছিল। ওই অভিযানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার দাবিও করেছে তেহরান। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে উদ্ধার তৎপরতাও এখন কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশটির অবকাঠামোতে নিয়মিত সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ‘দুর্বল করা’ আর ‘পুরোপুরি ধ্বংস করা’ এক কথা নয়। ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আইএডিএস) বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও টিকে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দেখিয়েছে। উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার সক্ষমতা এখনো তাদের রয়েছে, যা মার্কিন রণকৌশলকে ধীর করে দিচ্ছে এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধের শুরুতে ইসফাহান ও বুশেহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আমেরিকার বেশ কিছু এমকিউ-৯ রিপার (অন্তত ১২ টি) ড্রোন ভূপাতিত করেছিল ইরান। ড্রোন হারানো রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল হলেও, এর আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি উপেক্ষা করার মতো নয়। এর ফলে গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, একটি চালকযুক্ত বিমান হারানো মানেই হলো উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ জনমত ও পাইলট বন্দী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া। আমেরিকার সামরিক ডকট্রিন বা মূলনীতির ভিত্তি হলো আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য। কিন্তু বর্তমান সংঘাত দেখাচ্ছে যে, আধিপত্য মানেই ‘অজেয়’ হওয়া নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ইরান সংঘাতও দেখিয়ে দিচ্ছে, সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই হলো জানমালের ক্ষয়ক্ষতি। আকাশ এখন আর কেবল আমেরিকার একার নয়; এটি এখন গতিশীল এবং ক্ষমাহীন এক রণক্ষেত্র। এই পরিস্থিতিতে পেন্টাগন এখন স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করার প্রযুক্তিতে আরও জোর দেবে। ‘লোয়াল উইংম্যান’ বা এআই চালিত ড্রোনের ব্যবহারও বাড়বে। তবে কেবল আকাশশক্তি দিয়ে যুদ্ধ জয় সম্ভব নয়; এর সঙ্গে সাইবার অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য এবং কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয় জরুরি। সবশেষে, ৩ এপ্রিলের এই ক্ষয়ক্ষতি আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ না করলেও তাদের ‘অনায়াস আধিপত্যের’ অহমিকা ভেঙে দিয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ যে কতটা অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ, ইরানের পাহাড়গুলো আজ সেই সত্যই বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। এনডিটিভি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ ফের ইরানে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল! দেশের রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিদ্যমান কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ আইএমএফের বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর ছুঁড়ে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি: তদন্ত কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তেল পাম্পে জরুরি লাইন রাখার নির্দেশ চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও ইরানে হামলা করবে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে স্পষ্ট বার্তা যুক্তরাজ্যের মাউশির মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ হরমুজে পা রাখলেই সব যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের দেশের রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিদ্যমান কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ আইএমএফের ইরানকে সাহায্যকারী জাহাজেও হামলা করার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা জেলগেটে স্বাক্ষরের অনুমতি চেয়ে ব্যারিস্টার সুমনের রিট হজে বিধি লঙ্ঘন করলেই গুনতে হবে বড় জরিমানা পুলিশে শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল প্রিয় নবীর প্রিয় দোয়া ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষেধ এবার নামলো চীন, আরেক সমুদ্রপথে অবরোধ ইরানের সাথে আবারও আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত ট্রাম্পের