মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম – বর্ণমালা টেলিভিশন

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬ | ৫:০৪ 57 ভিউ
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে সরকার একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা বিবেচনা করছে। প্রস্তাবিত এই সিস্টেমটির নাম হতে পারে ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্স প্ল্যাটফর্ম। যদিও এটি শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদ তৈরি করেছে, তবুও সংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ব্যয়, জটিলতা এবং শ্রমিক কল্যাণসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। নতুন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো এই সমস্যাগুলো কমিয়ে এনে একটি আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা তৈরি করা। তবে সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের অনেকেই মনে করছেন, এটি বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে বরং আরও একটি অতিরিক্ত স্তর যোগ করতে পারে। মালয়েশিয়ার ৭০০-এর বেশি বেসরকারি নিয়োগ সংস্থার সংগঠন পাপা (পারসাতুয়ান আগেন্সি পেকারজান মালয়েশিয়া) এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির সহ-সভাপতি সুরেশ তান বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ একটি জটিল প্রক্রিয়া—যেখানে ডকুমেন্টেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা, প্রশিক্ষণসহ বহু ধাপ রয়েছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেন—নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঝুঁকি কে নেবে? প্রাথমিক খরচ কে বহন করবে? শ্রমিক অযোগ্য হলে বা পালিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তার মতে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর ভূমিকা কমিয়ে দিলে পুরো ব্যবস্থার দায়বদ্ধতা হ্রাস পেতে পারে। সুরেশ তান দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইএলও এবং আইওএমের সুপারিশ সঠিকভাবে বোঝা হচ্ছে না। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব সংস্থা মূলত পর্যবেক্ষণ ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে, সরাসরি নিয়োগ পরিচালনার জন্য নয়। শ্রমিকদের ওপর নিয়োগ ব্যয় চাপানো নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে ঋণ ও শোষণ কমানোর ওপর তারা গুরুত্ব দেয়। মালয়েশিয়ায় ২০০৭ সাল থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে শ্রমিক নিয়োগ চালু ছিল। তবে সুরেশ তানের মতে, এই পদ্ধতি সফল হয়নি। তার আশঙ্কা, উৎস দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি বাদ পড়লে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে, দায়বদ্ধতা কমে যেতে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। তিনি বিকল্প হিসেবে একটি দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রস্তাব করেন, যা দুই দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোকে সংযুক্ত করবে। ইমিগ্রেশন বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, নতুন সিস্টেম চালু হলে একজন শ্রমিক নিয়োগে খরচ হতে পারে প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪,০০০ রিঙ্গিত)। এই খরচের মধ্যে থাকতে পারে বিমান ভাড়া, প্রসেসিং ফি এবং এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ সার্ভিস চার্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। এজেন্টদের হিসাব অনুযায়ী, ন্যূনতম বেতন ১,৫০০ রিঙ্গিত, আর মোট প্রাথমিক খরচ (লেভি ও বীমা ছাড়া) প্রায় ৬,০০০ রিঙ্গিত। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা দুটি বড় সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল: ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) এবং ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম (এন-আই-আই-এস/নিস)। সরকার ইতোমধ্যে এফডব্লিউসিএমএসে ব্যয় করেছে ৩৮১ মিলিয়নের বেশি রিঙ্গিত এবং প্রায় ২.৩৫ মিলিয়ন পাস পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, এন-আই-আই-এস প্রকল্পে ব্যয় করছে প্রায় ১.০১ বিলিয়ন রিঙ্গিত। এ অবস্থায় নতুন আরেকটি প্ল্যাটফর্ম চালুর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এফডব্লিউসিএমএস: পারমিট ও কোটা ব্যবস্থাপনা, এন-আই-আই-এস: সীমান্ত নিরাপত্তা, টুরাপ: এজেন্টবিহীন সরাসরি নিয়োগ। তবে বাস্তবে এই বিভাজন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে উচ্ছ্বসিত মন্তব্য জামায়াত আমিরের মাদ্রাসাছাত্রকে বছরজুড়ে শিক্ষক ও ৩ ছাত্রের ধর্ষণ: ‘ইসলামের স্বার্থে’ আপোস মীমাংসায় অভিভাবকদের সম্মতি ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ, বিএনপিকর্মী ল্যাংড়া খোকন পলাতক তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয় সোনাগাজীতে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অর্ধকোটি টাকার মাছবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, তিন দেশে প্রাণ গেল ৩৭০০ মানুষের বিচারকের বাড়ি থেকে ১৯ লাখ টাকার সোনাসহ মামালাল চুরি: বিএনপির ২ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোদ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪ ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায় ‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের বড় ধাক্কা: ইনজুরিতে পাকেতা