রায়পুরের রহস্যঘেরা ‘জিনের মসজিদ’ – বর্ণমালা টেলিভিশন

রায়পুরের রহস্যঘেরা ‘জিনের মসজিদ’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ May, ২০২৫ | ১০:৪৯ 207 ভিউ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের পির ফজলুল হক সড়কের দেনায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত মসজিদ-ই-জামে আবদুল্লাহ ‘জিনের মসজিদ’ হিসাবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৩৫ বছর আগে কোনো এক রাতে শত শত জিন তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট, প্রস্থ ৭০ ফুট। ৪টি মিনার রয়েছে। ‘জিনের মসজিদ’ খ্যাত ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে একসঙ্গে এক হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসজিদটি নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণেই মসজিদটি জিন নির্মাণ করেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। মসজিদের পশ্চিমে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে। মসজিদটির সামনে রয়েছে বিশাল দিঘি। আজান দেওয়ার জন্য রয়েছে পুরোনো একটি মিনার। তবে এটি বর্তমানে পরিত্যক্ত। ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে এখানে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮৮৮ সালে এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান মাওলানা আবদুল্লাহ ভারতে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন। বাড়ি আসার পর থেকেই তিনি একটি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ভারত থেকে কারিগর এনে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত মাওলানা আবদুল্লাহর বংশধররাই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। সরেজমিন দেখা যায়, মাটি থেকে ১৩টি সিঁড়ি পার হয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। মসজিদের ভেতরে হালকা কারুকাজ রয়েছে। ভেতর ও বারান্দায় একসঙ্গে হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। একপাশের সিঁড়ি মসজিদের নিচে নেমে গেছে। সেখানে সব সময় পানি থাকে। অনেকে এ পানিতে বিভিন্ন নিয়তে ওজু করেন। অনেকে বোতলে করে নিয়ে পান করেন। মসজিদের নিচের এ জায়গাটি প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল্লাহর ইবাদতখানা ছিল বলে জানা গেছে। মসজিদের পাশেই কওমি মাদ্রাসা ও মুসাফিরখানা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কথা হয় দেনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আবু তাহেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবসর পেলেই আমরা এখানে ছুটে আসি। তবে বয়স্কদের কাছ থেকে মসজিদটির নির্মাণের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাইনি। জিনের তৈরি মসজিদ-এ বিশ্বাস থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ও উপজেলা কাজি সমিতির সভাপতি মোতাচ্ছেম বিল্লাহ বলেন, মসজিদের নকশায় ১৬টি গম্বুজ ও সামনে একটি বারান্দার আকৃতি রয়েছে। ব্যয়বহুল হওয়ায় সেগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এখন বারান্দাটি নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা লুৎফুর রহমান বলেন, আমার বাবা ও দাদা এ মসজিদে ইমামতি করেছেন। আমিও ১৪ বছর ধরে ইমামতি করছি। তবে এটি জিনের মসজিদ নয়, জিন কিছুই করতে পারে না। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল্লাহর নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাওলানা আবদুল্লাহর কাছে অনেকেই জানতে চেয়েছেন মসজিদটি জিনের টাকা কিংবা জিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কি না। তার উত্তর ছিল, মসজিদটি জনগণের টাকায় নির্মিত। ভারত থেকে কারিগর এনে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রায়পুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মেয়র এবিএম জিলানী ও সদস্য সচিব সফিকুল আলম আলমাস বলেন, মসজিদটি আসলে কে নির্মাণ করেছেন, তা এখনো রহস্যঘেরা। তবে এটি জিনের মসজিদ, জিনরাই এক রাতে তৈরি করেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ