পাকিস্তানের সব বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত – বর্ণমালা টেলিভিশন

পাকিস্তানের সব বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ May, ২০২৫ | ১০:৫৫ 148 ভিউ
পাকিস্তানের সব বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। বুধবার রাতে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন করে এই পদক্ষেপ নিলো ভারত। এর ফলে পাকিস্তানি সংস্থার কোনও বিমান এখন থেকে আর ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ভারতের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের পক্ষ থেকে বুধবার একটি ‘নোটিস টু এয়ার মিশন’ (এনওটিএএম) জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানে নথিভুক্ত বিমান বা পাকিস্তান দ্বারা পরিচালিত বিমান ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। সামরিক বিমানের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে।’ পহেলগাঁওয়ের হামলায় তাদের কোনও হাত নেই, প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে পাকিস্তান। তবে ভারত এই ঘটনায় ইসলামাবাদকেই দায়ী করেছে। সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করেছে ভারত। এর পর পাকিস্তানও কয়েকটি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া। বলা হয়েছিল, ভারতের কোনও বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। সেই ঘোষণার ছয় দিনের মধ্যে ভারতও অনুরূপ পদক্ষেপ করল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, পহেলগাঁও ঘটনার পর ভারতের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা করছে ইসলামাবাদ। ভারত যেকোনো দিন তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আশঙ্কায় ইতিমধ্যে পাকিস্তান একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে। আকাশসীমায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভারতের বিমান তো সেখানে নিষিদ্ধ আছেই, ভারতের আকাশসীমা দিয়ে কোনও বিদেশি বিমানও যদি পাকিস্তানে প্রবেশ করে, তাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া পাকিস্তানি আকাশে কোনও বিমান প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সব বিমান বুধবার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আপাতত পাকিস্তানের বিমানগুলি ভারতের আকাশসীমা এড়িয়েই চলছিল। কিন্তু বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত তাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল। এখন চাইলেও কোনও পাকিস্তানি বিমান ভারতের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না। মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশিয়ানিয়ার দেশগুলিতে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানের বিমান ভারতের উপর দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বার ইসলামাবাদকে সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ ওই বিমানগুলিকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছোতে হবে। যাত্রাপথ দীর্ঘ হওয়ায় বিমানে জ্বালানিও লাগবে আগের চেয়ে বেশি। ফলে খরচ বাড়বে। সময় বেশি লাগবে। বাড়তে পারে টিকিটের দামও। পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করায় ভারতের অনেক বিমানকেও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। পহেলগাঁওয়ে হামলার ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পর পাকিস্তান এবং ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হয়ে চলেছে ক্রমশ। দুই দেশকেই ‘দায়িত্বশীল সমাধান’ খুঁজতে বলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না-হয়, তার বন্দোবস্ত করতে বলেছে আমেরিকা। অন্য দেশগুলিকেও ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিয়ে একই বার্তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। পহেলগাঁও ঘটনার পর তারা ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সমালোচনা করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। দুই দেশকে ‘শান্ত’ করতে যখন উদ্যোগী হয়েছে আমেরিকা, তখনই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আরও এক পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের