বাইডেন কখনোই ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির চাপ দেননি – বর্ণমালা টেলিভিশন

বাইডেন কখনোই ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির চাপ দেননি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ April, ২০২৫ | ১১:১০ 170 ভিউ
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন কখনোই যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেয়নি—এমনটাই স্বীকার করেছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। চ্যানেল ১৩–এর এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, বাইডেন প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রাখতে ইসরাইলকে নজিরবিহীন ছাড় দিয়েছে, এমনকি যখন আগ্রাসনের আর কোনো পরিষ্কার সামরিক লক্ষ্য অবশিষ্ট ছিল না। চ্যানেল ১৩–এর এই অনুসন্ধান, যার অনুবাদ প্রকাশ করেছে ড্রপ সাইট নিউজ। এটি দেখিয়েছে, ওয়াশিংটনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও গোপনে স্বীকার করেছেন—এই আগ্রাসন ছিল শুধু হত্যার জন্য হত্যা, ধ্বংসের জন্য ধ্বংস। নয়জন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে মার্কিন রাজনৈতিক প্রভাব, কূটনৈতিক গোপনীয়তা ও শান্তি প্রচেষ্টার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যর্থতার চিত্র। ইসরাইলের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল হার্জগ বলেন, ঈশ্বর ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতি দয়া করেছেন এই সময়ে বাইডেন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনোই মার্কিন প্রশাসন আমাদের বলেনি যে ‘এখন যুদ্ধবিরতি করো’। কখনো বলেনি। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে করার বিষয় না। এই বক্তব্যটি প্রতিফলন করে বাইডেন প্রশাসনের সেই নীতির, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দেওয়া হয় গাজায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য—যে অভিযানে ৫২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইলান গোল্ডেনবার্গও বলেছেন, এই যুদ্ধ ছিল এক প্রকার নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংস, যেখানে কোনো কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্প প্রতিষ্ঠার চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়নি। প্রকাশ্যে ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও বাইডেন প্রশাসনের প্রকৃত অভ্যন্তরীণ অবস্থান ছিল ভিন্ন—তারা আদৌ কোনো চাপ প্রয়োগ করতে চায়নি। এমনকি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে ইসরাইলকে বাঁচাতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বাইডেন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আইনজীবী স্টেসি গিলবার্ট প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের লেখালেখি থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়—যে রিপোর্ট মিথ্যাভাবে দাবি করে যে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইনের লঙ্ঘন করেনি। গিলবার্ট বলেন, এই রিপোর্ট মিথ্যার এক ভয়ানক দলিল, যেখানে মানবিক সহায়তা বাধা ও বসতিস্থাপনকারী ইহুদি সন্ত্রাসীদের হামলার মতো সুপ্রতিষ্ঠিত ঘটনাগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের পথে কোনো বাধা না থাকায় ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আর কোনো বাস্তবতাই ছিল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে জিম্মি বিনিময় আলোচনাও ভেস্তে দেন—কারণ এতে যুদ্ধবিরতির চাপ তৈরি হতো। মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের ভয়ে নেতানিয়াহুই আলোচনা ভেঙে দেন। যুদ্ধের মধ্যে বাইডেন ও নেতানিয়াহুর এক ফোনালাপে বাইডেন তাকে ‘অসত্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে ফোন কেটে দেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ আছে। তবে সে অবস্থানও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—বাইডেন অল্পদিন পরই আবারো ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেন, এমনকি ২০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ বন্ধ রাখার সাময়িক সিদ্ধান্তের পরও। এই অনুসন্ধান আরও দেখায়, বাইডেন প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক চুক্তি করতে চেয়েছিল, যেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল ইসরাইলের। কিন্তু নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জ্যাক লিউ বলেন, ইসরাইলের এই অবস্থান তাকে অবাক করেছে, আর হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা আমোস হোচস্টেইন বলেন, এই কৌশলগত সুযোগ নষ্ট হওয়াটা অবিশ্বাস্য। সূত্র অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে এই চুক্তি স্থগিত রাখেন, আশা করেছিলেন ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় এলে কৃতিত্ব তাকেই যাবে। চ্যানেল ১৩–এর অনুসন্ধানটি বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগগুলোর পক্ষে জোরালো প্রমাণ হাজির করেছে—তারা শুধু কূটনৈতিকভাবে ইসরাইলের মিথ্যাচার ঢেকে দিয়েছে না, বরং একটি জাতিগত নিধন অভিযানে সক্রিয় সহযোগী হয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের