ইয়েমেনি বন্দরে মার্কিন হামলায় হতাহত ১৮৪ – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইয়েমেনি বন্দরে মার্কিন হামলায় হতাহত ১৮৪

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ April, ২০২৫ | ৫:৪০ 149 ভিউ
গুরুত্বপূর্ণ রাস ইসা তেলবন্দরসহ ইয়েমেনের কয়েকটি বন্দরে চালানো মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত ও ১২৬ জন আহত হয়েছেন। এটিই এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলা বলে দাবি করেছে হুথি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ। হুদাইদার স্বাস্থ্য অফিসের বরাত দিয়ে আল মাসিরাহ টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই হামলাটি একাধিক এলাকায় চালানো হলেও মূল আঘাতটি হেনেছে রাস ইসা বন্দরের আশপাশে। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বলছে, এই বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল হুথিদের তেলের জোগান ও অর্থনৈতিক উৎস ধ্বংস করা। CENTCOM-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জ্বালানি উৎস ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে’। এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মুহাম্মদ আল-আত্তাব জানিয়েছেন, ‘যখন বন্দরটিতে লোকজন কাজে ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই হামলার প্রথম চারটি বোমা বর্ষণ তখনই হয়। এ সময় ট্রাকচালকসহ বহু সাধারণ শ্রমিক ছিলেন ঘটনাস্থলে’। স্থানীয়দের মতে, আক্রমণের আকস্মিকতায় বহু নিরীহ শ্রমিক ও কর্মী হতাহত হন। হামলার ভিডিও ফুটেজে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা, ধ্বংসস্তূপ ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির দৃশ্য দেখা যায়। আল মাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনি রেড ক্রিসেন্ট ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। মূলত রাস ইসা, হুদাইদাহ ও আস-সালিফ—এই তিনটি বন্দর দিয়েই ইয়েমেনে প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি ও ৮০ শতাংশ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে। জাতিসংঘের মতে, রাস ইসা বন্দর ও তেল পাইপলাইন হলো ‘অপরিহার্য ও অপরিবর্তনীয় অবকাঠামো’। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এই হামলা হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের অংশ। এর আগে মার্চে দুই দিনের মার্কিন হামলায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানান হুথি কর্মকর্তারা। হুথিদের দাবি, লোহিত সাগরে তারা ইসরাইল-সংযুক্ত জাহাজের বিরুদ্ধে ১০০-র বেশি হামলা চালিয়েছে, যা গাজার ওপর চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া। হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি বলেন, ‘আমেরিকার এই অপরাধ আমাদের গাজার পাশে দাঁড়ানোর সংকল্পকে একটুও দুর্বল করবে না, বরং আরও শক্তিশালী করবে’। অন্যদিকে ওয়াশিংটন হুথিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যতক্ষণ না হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বন্ধ করছে, ততক্ষণ মার্কিন হামলাও চলবে’। এদিকে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই হামলা শুধু ইয়েমেনের ভেতরে নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার সূচনা করতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধক্লান্ত ইয়েমেন আরও একটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। সূত্র: আল-জাজিরা

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের