তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনায় বসবে না – বর্ণমালা টেলিভিশন

তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনায় বসবে না

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ March, ২০২৫ | ১০:৩০ 170 ভিউ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনায় বসবে না। শনিবার (৮ মার্চ) তিনি এ কথা বলেন, একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে সামাল দেওয়ার দুটি উপায় রয়েছে: সামরিক পদক্ষেপ অথবা একটি চুক্তি করা, যাতে তারা পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।’ এ প্রসঙ্গে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে খামেনি বলেন, ওয়াশিংটনের আলোচনার আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের শর্ত ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। খামেনি বলেন, ‘কিছু শক্তিধর দেশ আলোচনা নিয়ে যেভাবে জোর দিচ্ছে, তা আসলে কোনো সমস্যার সমাধান নয় … তাদের কাছে আলোচনা মানে নতুন নতুন দাবি তোলা। এটি শুধু ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে নয় … ইরান অবশ্যই তাদের শর্ত মেনে নেবে না।’ট্রাম্প তার প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যা তেহরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি দেশটির তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনতে চেয়েছিল। ২০১৭-২০২১ মেয়াদে ট্রাম্প ইরান ও বিশ্বশক্তিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন, যা তেহরানের পরমাণু কার্যক্রমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। ২০১৮ সালে ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করলে, ইরান সেই শর্ত লঙ্ঘন করে তার পারমাণবিক কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করে। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ’র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের জন্য কূটনৈতিক সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কারণ, তেহরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা অস্ত্র-উপযোগী পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তার পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেন, ‘বলপ্রয়োগ ও ধমক মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো প্রতিরোধ করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা নতুন নতুন দাবি নিয়ে আসছে, যা ইরান কখনোই মেনে নেবে না, যেমন—আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব।’ ইরান দাবি করে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ বলে মনে করে। সম্প্রতি ইরান তার প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডারে নতুন সংযোজনের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম ড্রোনবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং একটি ভূগর্ভস্থ নৌঘাঁটি। এসব তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের