নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পথে পথে ভাড়া নৈরাজ্য
লঞ্চের ভাড়া ৬০% বাড়ানোর দাবি
রেলে ব্যয় বাড়ল বাড়বে লোকসান
বিদেশগামী শ্রমিকদের কল্যাণ ফি বাড়ল
কল্যাণ ফি বাড়ল সাড়ে পাঁচ হাজার, শ্রমিকের টাকার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
পরিকল্পনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে শুরু নারীবান্ধব ‘গোলাপি’ বাস সার্ভিসঃ এক মাসেও মেলেনি নারীদের সাড়া
রিটেনে পাস করলে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে আসবা, ফোন করে দেব: ফজলুর রহমান
১০-১২ বার লোডশেডিং: অন্ধকারে ডুবছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা
জাতীয় গ্রিডে তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির জেরে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পৃথক দুটি ডেডিকেটেড ফিডার লাইন থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরকে লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রানওয়ে ও যাত্রীদের টার্মিনালগুলো বারবার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা বিশ্বমানের যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। রাতে হুট করে আলো নিভে যাওয়ায় টার্মিনাল ভবনে আসা দেশি-বিদেশি যাত্রীদের তীব্র দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
যাত্রীদের অনেকে এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বিমানবন্দরের নিজস্ব বিকল্প জেনারেটর চালু করা হচ্ছে। তবে মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হওয়া এবং জেনারেটর পুরোপুরি চালু হওয়ার মাঝে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের একটি সময়ের ব্যবধান (টাইম গ্যাপিং) থাকছে।
রাতে বিদ্যুৎ গেলে এই ৩০-৪০ সেকেন্ড পুরো বিমানবন্দর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
তবে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রানওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল যন্ত্রপাতিতে পৃথক আনইন্টারাপ্টিবল পাওয়ার সাপ্লাই (আইপিএস) ব্যাকআপ রাখা হয়েছে।
ফলে অন্ধকারের মধ্যেও বিমান ওঠানামা বা এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল।
বিদ্যুৎ খাতের এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চরম সংকট। চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য দৈনিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে সরবরাহ অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে—কোনো কোনো দিন যা মাত্র ১৮০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে ঠেকছে।
সংকট তীব্র হওয়ার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, গত ১৯শে আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে এলএনজি কার্গো সংকটের কারণে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
দীর্ঘ পথ ভ্রমণের পর বিমানবন্দরে এসে এমন অন্ধকার ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভোগান্তিতে পড়া একাধিক যাত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতি তারা আগে কখনো দেখেননি। রানওয়ে সুরক্ষিত থাকলেও টার্মিনাল ভবনে এ ধরনের বিরতিহীন লোডশেডিং দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশন, বাসাবাড়ির আবাসিক গ্রাহক এবং বাণিজ্যিক শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের প্রভাবে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]