নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই
পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ ঘরে তালা: ঘর বরাদ্দে আর্থিক অনিয়ম, সন্ধ্যায় নারী-মাদকের কারবার
বিরোধী ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বিএনপি সরকার: এইচআরডাব্লিউ
বিদেশিদের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক টার্মিনাল: ঝুঁকিতে রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ
সেন্টমার্টিনে খতনার পর ৫০ শিশুর ইনফেকশন-রক্তক্ষরণ, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
সাত দশক পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসাম থেকে বাংলাদেশে মিথানল
সেন্ট মার্টিনে জামায়াতের অনভিজ্ঞ কর্মীদের বিনা মূল্যে খৎনার পর অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ
টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিনা মূল্যে খৎনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশু ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দুজনকে টেকনাফে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় পুরো দ্বীপে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর সেন্ট মার্টিন অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও খৎনা কর্মসূচির আয়োজন করে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি দল পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খৎনা করায়। শিশুদের বিনা মূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়।
স্বজনরা জানান, খৎনার পর কিছু শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফোলা ও পুঁজ দেখা দেয়, আবার কারও পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁরা শিশুদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, খৎনার সময় পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সতর্কতা মানা হয়নি। তবে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের নির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করতে হবে।
হাসপাতালের সহকারী উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খৎনা করানো ৫০ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। তিনি বলেন, “অনেকের সংক্রমণ ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ছিল। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ ফয়সাল ও আইনুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।”
দ্বীপের বাসিন্দা কবির আহমেদ তাঁর নয় বছরের ছেলে আইনুল ইসলামকে এই কর্মসূচিতে খৎনা করিয়েছিলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়ানো সত্ত্বেও ছেলের অবস্থা দেখে তিনি খুব চিন্তিত। চিকিৎসায় কোনো সমস্যা ছিল কি না, সে সন্দেহও তাঁর আছে। তিনি আরও জানান, ছেলেকে টেকনাফে নেওয়ার জন্য কোনো ট্রলার না পাওয়ায় তিনি যেতে পারছেন না।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম জানান, চিকিৎসক দল বিনা মূল্যে ২১০ শিশুর খৎনা করিয়েছে। “দুই দিন পর কিছু শিশুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। কেন এমন হলো, আমরা জানি না,” বলেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, চিকিৎসক দলটি দ্বীপে দুই শতাধিক শিশুর খৎনা করিয়েছে, যাদের মধ্যে ৫০ জন সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের চিকিৎসা নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দ্বীপে মেডিকেল ক্যাম্প করার বিষয়ে চিকিৎসক দলের কেউ তাঁদের কিছু জানায়নি।
কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসকের বক্তব্য নিতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় শিক্ষক আয়াস উদ্দিন কাজল বলেন, রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতায় ৫০ জনেরও বেশি শিশু অসুস্থ হয়েছে। দ্বীপের অধিকাংশ পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনিক চৌধুরী বলেন, খৎনার পর কয়েকটি শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। চিকিৎসক দলের অবহেলা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]