নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কারাগার থেকে পালানো জঙ্গিদের নিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, নিরাপত্তা উদ্বেগ
‘হেনস্তা নয়, ইউনূসের কাছে জবাব চেয়েছি’, দাবি বিক্ষোভকারীর
যশোরে বাড়ির সামনে ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধ, লাঠির আঘাতে আহত শিল্পী সমু চৌধুরী
নোবেল জয়ের ২০ বছরে ইউনূস: অভিনন্দনের দিনেও হামে শিশুমৃত্যু থামেনি, সরকারি হিসাবেই ১,১৭০ ছাড়ালো শিশু মৃত্যুর সংখ্যা
কর্ণফুলী টানেল যেভাবে অকার্যকর করা হলো, ৩৩৬ কোটি টাকার বিকল্প সড়ক নির্মাণ- কেন?
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে আবার লুকোচুরি
বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার কোথায়? তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করলেই গ্রেপ্তার—উঠছে অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন
গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায়ে চাপে ইউনূসঃ ক্ষমতায় থাকতে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় ও ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে উঠছে স্বার্থের দ্বন্দ্বের প্রশ্ন
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় ইউনূস। আদালতের পর্যবেক্ষণে সরাসরি বলা হয়েছে, এটি “ক্লাসিক কর ফাঁকির উদাহরণ”।
৬৬৬ কোটি কর ফাঁকি’র মামলা ও ঘটনার ক্রম পড়ুন এখানে:
এই রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ইউনূসের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত ‘রাজনৈতিক হয়রানি ও নিপীড়নের’ যুক্তিটি বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচ কর বছরের জন্য করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দেন। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া ৪২.৬৫ শতাংশ রিটার্নকে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে কর ফাঁকি দিতে চেয়েছিল গ্রামীণ কল্যাণ।
আদালত জানায়, সংস্থা দুটি পৃথক করদাতা। একটির কর কেটে রাখা হয়েছে বলে অন্যটির দায় মেটে না। বকেয়া আদায়ের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
যেদিন ঢাকায় এই রায় প্রকাশ হয়, একই দিনে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন ড. ইউনূস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই একদল বাংলাদেশি তাকে “সন্ত্রাসী” ও “বাংলাদেশ ধ্বংসকারী” বলে স্লোগান দেন বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ক্ষমতায় থাকতে সুবিধা নেওয়া
রায়ের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া একের পর এক সুবিধা নিয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:
• ৭ আগস্ট ২০২৪: শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ৬ মাসের সাজা বাতিল। পরদিন ৮ আগস্ট তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।
• ১১ আগস্ট ২০২৪: দুদকের মামলা প্রত্যাহারের আবেদনে গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ মামলা থেকে খালাস।
• ১০ অক্টোবর ২০২৪: এনবিআর গ্রামীণ ব্যাংকের আয়কর অব্যাহতি ২০২৯ সাল পর্যন্ত পুনর্বহাল করে।
• ডিসেম্বর ২০২৪ – জুন ২০২৫: গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান পরিষেবার জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের ‘সমাধান সার্ভিসেস’ এর পেমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স প্রদান।
• এপ্রিল ২০২৫: উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করা।
বিশ্লেষকদের মতে প্রধান উপদেষ্টা নিজে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তার সরকারের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কাছে সুবিধা চাইছে, তখন স্বার্থের দ্বন্দ্ব (Conflict of Interest) কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে? তিনি কি সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছিলেন?
হাইকোর্টের এই রায় ওবামা, হিলারি ক্লিনটনসহ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের স্বাক্ষরিত ‘প্রটেক্ট ইউনূস’ ক্যাম্পেইনের নৈতিক ভিত্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]