নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করল ইরান
হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প
ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৮
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তান
হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম
১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এবার নামলো চীন, আরেক সমুদ্রপথে অবরোধ
হরমুজ ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। প্রবেশমুখে জাহাজ মোতায়েন ও ভাসমান বাধা বসানোর মাধ্যমে তারা কার্যত ওই অঞ্চলে উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, শোলের প্রবেশপথে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি চীনা কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি ভাসমান ব্যারিয়ার অবস্থান করছে। ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা ছবিতে এই উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
এ দিকে নিজেদের জেলেদের সুরক্ষায় ফিলিপাইন-ও কোস্টগার্ড ও মৎস্যজীবী সহায়তা জাহাজ মোতায়েন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজের কারণে প্রায়ই ফিলিপাইনের জেলেদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা জানান, ১০ ও ১১ এপ্রিল স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বাধা স্থাপন করে চীন। তিনি বলেন, শোলের ভেতরে ছয়টি এবং বাইরে আরও তিনটি চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছিল, যা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছিল।
স্কারবরো শোল, যা ফিলিপাইনে ‘বাহো দে মাসিনলোক’ এবং চীনে ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার ক্ষেত্র। এটি ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও চীনও এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।
গত বছর চীন সেখানে একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়, যা ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘দখলের অজুহাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফিলিপাইন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ১০টি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেছে।
দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। যদিও ২০১২ সালের এক অচলাবস্থার পর থেকে চীন কার্যত স্কারবরো শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
এ দিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্কারবরো শোল এলাকায় ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা ছিল তাদের ১১তম যৌথ অনুশীলন। ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের এক রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন বিরোধে ফিলিপাইনের অবস্থান সমর্থন করা হলেও স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সে রায়ের আওতার বাইরে ছিল। আদালত তখন বলেছিল, ওই এলাকায় চীনের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
সূত্র: রয়টার্স

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।