নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে বিপর্যস্ত ৬৯ শতাংশ পরিবার
বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প
জয় বাংলা—রণাঙ্গনের গর্জন থেকে চেতনার মহাকাব্য
ব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে গোপনে দেশত্যাগ ওয়াশিংটনের প্রার্থী ফ্লাভিও’র; পরিবারের সদস্যদেরও ভিসা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন
জাপান-বাংলাদেশ ইপিএঃ চার বছর পরিশ্রমের ফসল; রপ্তানিতে নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে কার্যকরের সম্ভাবনা
বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ
ইউনূসের জাপান সফরের ১৭ মাসঃ পাঁচ বছরে জাপানে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর চুক্তির অগ্রগতি কতোটা?
আমার দেশ-এর প্রোপাগান্ডা, তুরাগ থেকে বিমানসেনার লাশ উদ্ধার, বাহিনীতে র নাকি টিটিপির তৎপরতা: প্রশ্ন অনেক
টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সুরির লাশ উদ্ধার করে। উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই থানার এসআই অনুপম দাস বলেন, লাশ ভেসে ওঠার পর থানা পুলিশ সেখানে যায়। এলাকাটি আমাদের থানার শেষ সীমান্তে পড়েছে। বিষয়টি নৌ পুলিশের হওয়ায় তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আমরা তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পাই। তার কাছে একটা মোবাইল ফোন ছিল। সেটির মাধ্যমে আমরা তার পরিচয় শনাক্ত করি, বলেন তিনি।
ফিরোজ উদ্দিন বলেন, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত হবে।
নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। তার কাছে পাওয়া ফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে দাবি করে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রোপাগান্ডা ছড়ায় বিতর্কিত সংবাদমাধ্যম দৈনিক আমার দেশ। সেখানে সুরিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট দাবি করে বেশ কিছু মুখরোচক কথা ছড়ানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভেতরে র-এর তৎপরতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
যদিও পরবর্তীতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এসব বক্তব্য সত্য নয় বলে জানায়।
গত বছরের ৪ঠা আগস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, পত্রিকার প্রতিবেদনে তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ বিমান বাহিনীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতার বিষয়টি নিছকই গুজব ছিল। তদুপরি পরবর্তীতে বিমান বাহিনীর ভেতরে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান-টিটিপির সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের তুর্কি নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবার জুলকারনাইন সায়ের একটি তুর্কি পাসপোর্টের ছবি ও তথ্য শেয়ার করে জানান, এটি মাহমুদুর রহমানের পাসপোর্ট। যা তুর্কি সরকার ইস্যু করেছে এবং এর মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক সময়েও ভ্রমণ করেছেন।
জুলকারনাইনের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহমুদুর রহমান তুর্কি নাগরিকত্ব কীভাবে পেয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
জুলকারনাইন প্রশ্ন তুলেছেন, যদি অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুর্কি নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে তার পরিমাণ অনেক বড় (কোটি কোটি টাকা), এত বিপুল অর্থ কীভাবে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে? বৈধ চ্যানেলে বিদেশে এত অর্থ পাঠানোর সুযোগ না থাকায় তিনি কি হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন? নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সংস্থা তাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে এই নাগরিকত্ব দিয়েছে?
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন দেশে অবস্থান করলেও কোথাও কোনো চাকরি বা লাভজনক কাজ করেননি বলে জানা যায়। এই সময়কালে তার খরচের উৎস জমানো অর্থ বা পরিবারের সহায়তা হতে পারে, কিন্তু ২০২০ সালের দিকে তুর্কি নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ (সাধারণত ৪-৫ লাখ মার্কিন ডলার বা সমমানের রিয়েল এস্টেট/ব্যাংক ডিপোজিট) কীভাবে যোগাড় করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এই মাহমুদুর রহমানের দুর্নীতি-সম্পৃক্ততার প্রচুর তথ্য আগেও প্রকাশিত হয়েছে।
তুর্কি নাগরিকত্ব বিনিয়োগ কর্মসূচি (Citizenship by Investment) অনুযায়ী, ২০২০ সালের আশেপাশে রিয়েল এস্টেটে ন্যূনতম ২৫০,০০০ থেকে ৪০০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, যে বিনিয়োগ অন্তত ৩ বছর ধরে রাখতে হয়। এই অর্থ বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই সাংবাদিক নিজেই কি অবৈধ পথে অর্থ পাচার করেছেন?
মাহমুদুর রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরে আসার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন এবং আমার দেশ পত্রিকা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি নিয়েছেন। এই নাগরিকত্বের অভিযোগ তার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মাহমুদুর রহমানের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জুলকারনাইন আশা প্রকাশ করেছেন যে, মাহমুদুর রহমান নিজেই এই বিষয়গুলো খোলাসা করবেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফিরোজ উদ্দিন বলেন, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত হবে।
নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। তার কাছে পাওয়া ফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে দাবি করে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রোপাগান্ডা ছড়ায় বিতর্কিত সংবাদমাধ্যম দৈনিক আমার দেশ। সেখানে সুরিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট দাবি করে বেশ কিছু মুখরোচক কথা ছড়ানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভেতরে র-এর তৎপরতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
যদিও পরবর্তীতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এসব বক্তব্য সত্য নয় বলে জানায়।
গত বছরের ৪ঠা আগস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, পত্রিকার প্রতিবেদনে তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ বিমান বাহিনীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতার বিষয়টি নিছকই গুজব ছিল। তদুপরি পরবর্তীতে বিমান বাহিনীর ভেতরে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান-টিটিপির সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
পড়ুন: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে টিটিপি-আইএসআইএস-কে’র গোপন নেটওয়ার্ক! পেশোয়ার থেকে সতর্কতা!
দেশি ও আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, ঢাকার এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি, যশোরের মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটিসহ কয়েকটি বিমান ঘাঁটিতে জঙ্গি সংগঠন টিটিপি নিয়োগ বা অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ ঘটনার পর বেশ কিছু গ্রেপ্তার ও আন্তঃবাহিনীর তৎপরতা চালানো হয়। পরবর্তীতে কয়েকজন স্কোয়াড্রন লিডার, জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) এবং বিমান সেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা আটকের তথ্য মিলেছে। তৎপরতা টের পেয়ে বেশ কিছু সদস্য তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান বলে সংবাদ প্রচার হয়। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, টিটিপির তৎপরতা ঢাকতেই আমার দেশ পত্রিকার পক্ষ থেকে র-বিষয়ক গুজব ছড়ানো হয়েছিল। গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।” ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, আমার দেশ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা ‘র’-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে। জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।” ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে উঠেছে অনেক প্রশ্ন। মুখ বন্ধ করতেই কি তাহসিফকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে? বিমান বাহিনীর যেসব কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাহসিফ, তাদের কেউ কি রুষ্ট হয়েছিলেন তাহসিফের প্রতি? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন সচেতন মহল। উল্লেখ্য, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সেই গুজব প্রতিবেদন তৈরি করা সৈয়দ আবদাল বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব।আমার দেশ-সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের তুর্কি নাগরিকত্ব এবং অর্থ পাচারের গোমর ফাঁস
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের তুর্কি নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবার জুলকারনাইন সায়ের একটি তুর্কি পাসপোর্টের ছবি ও তথ্য শেয়ার করে জানান, এটি মাহমুদুর রহমানের পাসপোর্ট। যা তুর্কি সরকার ইস্যু করেছে এবং এর মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক সময়েও ভ্রমণ করেছেন।
জুলকারনাইনের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহমুদুর রহমান তুর্কি নাগরিকত্ব কীভাবে পেয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
জুলকারনাইন প্রশ্ন তুলেছেন, যদি অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুর্কি নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে তার পরিমাণ অনেক বড় (কোটি কোটি টাকা), এত বিপুল অর্থ কীভাবে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে? বৈধ চ্যানেলে বিদেশে এত অর্থ পাঠানোর সুযোগ না থাকায় তিনি কি হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন? নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সংস্থা তাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে এই নাগরিকত্ব দিয়েছে?
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন দেশে অবস্থান করলেও কোথাও কোনো চাকরি বা লাভজনক কাজ করেননি বলে জানা যায়। এই সময়কালে তার খরচের উৎস জমানো অর্থ বা পরিবারের সহায়তা হতে পারে, কিন্তু ২০২০ সালের দিকে তুর্কি নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ (সাধারণত ৪-৫ লাখ মার্কিন ডলার বা সমমানের রিয়েল এস্টেট/ব্যাংক ডিপোজিট) কীভাবে যোগাড় করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
পড়ুন: ফুলবাড়ি হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মাহমুদুর রহমানের অপকর্মের খতিয়ান
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এই মাহমুদুর রহমানের দুর্নীতি-সম্পৃক্ততার প্রচুর তথ্য আগেও প্রকাশিত হয়েছে।
তুর্কি নাগরিকত্ব বিনিয়োগ কর্মসূচি (Citizenship by Investment) অনুযায়ী, ২০২০ সালের আশেপাশে রিয়েল এস্টেটে ন্যূনতম ২৫০,০০০ থেকে ৪০০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, যে বিনিয়োগ অন্তত ৩ বছর ধরে রাখতে হয়। এই অর্থ বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই সাংবাদিক নিজেই কি অবৈধ পথে অর্থ পাচার করেছেন?
মাহমুদুর রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরে আসার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন এবং আমার দেশ পত্রিকা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি নিয়েছেন। এই নাগরিকত্বের অভিযোগ তার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মাহমুদুর রহমানের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জুলকারনাইন আশা প্রকাশ করেছেন যে, মাহমুদুর রহমান নিজেই এই বিষয়গুলো খোলাসা করবেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]