আইএমএফ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা – বর্ণমালা টেলিভিশন

আইএমএফ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ July, ২০২৫ | ৯:৫৪ 174 ভিউ
চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রণয়নে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে দেশের মানুষ কী চায়, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। আরও জানা যায়, নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে জুলাইয়ের শেষদিকে। এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতির অংশ হিসাবে গত মুদ্রানীতির লক্ষ্য ও অর্জনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কতুটুকু ফারাক রয়েছে, কেন লক্ষ্য অর্জিত হয়নি-সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে মে পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি জুন পর্যন্ত তথ্য চলে আসবে। তখন লক্ষ্য ও অর্জনের মধ্যকার ব্যবধান আরও স্পষ্ট হবে। এছাড়া মুদ্রানীতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) প্রত্যাশা কী, তা জানতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব আলোচনায় স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করতে ঋণের সুদহার কমানো, টাকার প্রবাহ বাড়িয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের হার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আগামী মুদ্রানীতিতে বিবেচনা করা হবে। সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমন করলে বৈশ্বিক মন্দা দেখা দেয়। এ মন্দা ক্রমেই প্রকট হয়। মন্দার কারণে ডলার সংকটে জর্জরিত হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একেবারে কাবু হয়ে পড়ে। টাকার মান কমে, পণ্যমূল্য বেড়ে এবং কর্মসংস্থান কমে এর ধকল সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ে দারুণভাবে আঘাত করে। এখনো এর ধকল কাটিয়ে ওঠতে পারেনি বাংলাদেশ। জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, তিন অর্থবছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এবার এই মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা প্রয়োজন। দেখা যাক, বাংলাদেশ কী করে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানতে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ পর্যন্ত টানা তিন অর্থবছর সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আইএমএফ-এর চাপে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে আরও কঠোর করা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মুদ্রানীতিকে আরও বেশি কঠোর করে। ফলে নীতির সুদহার যেখানে ৪ শতাংশ ছিল, তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। ঋণের সুদহার যেখানে ৮ থেকে ৯ শতাংশ ছিল, এখন তা বেড়ে ১২ থেকে ১৮ শতাংশে উঠেছে। এত চড়া সুদ দিয়েও ব্যাংক থেকে অনেকে ঋণ পাচ্ছেন না। কারণ, ব্যাংকে গত সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তারল্য যেটুকু আছে, এর মধ্য থেকে সরকারই সবচেয়ে বেশি ঋণ নিচ্ছে। সরকারকে ঋণ দেওয়ার পর বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার মতো তারল্য খুব কমই আছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ তলানিতে নেমেছে। সদ্য বিদায়ি অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বেড়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেকের সামান্য বেশি। তবে জুনে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়েছিল ৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে একদিকে ঋণের সুদহার বেড়েছ, অন্যদিকে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়েনি। ফলে ব্যাংকে তারল্যের জোগান বাড়েনি। এতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমেছে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়েনি, উলটো আরও কমেছে। টানা তিন বছর সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে উৎপাদন খাতে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তেমনই কর্মসংস্থানের হার হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের যে ছাত্র আন্দোলন পরিচিত পেয়েছে কোটাবিরোধী আন্দোলন হিসাবে, এর নেপথ্যে ছিল অর্থনৈতিক সংকট। কয়েক বছর ধরে লুটপাটের কারণে দেশ থেকে টাকা পাচার হয়েছে। ফলে দেশে শিল্প গড়ে ওঠেনি। নতুন নতুন কর্মসংস্থান বাড়েনি। এতে শ্রমবাজারে যারা আসছে, তাদের সরকারি চাকরি ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে নতুন ব্যবসার দুয়ারও ছিল একরকম বন্ধ। কোটার কারণে মেধাবীরা সরকারি চাকরিতে ঢুকতে পারছিল না। ফলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচতে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। সে আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে গত বছরের ৫ আগস্ট। এক বছর হতে চলেছে, এখনো কর্মসংস্থানের গতি বাড়ানো যায়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, চড়া সুদহার এবং বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। এদিকে আইএমএফ ঋণের শর্ত হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমাতে মুদ্রানীতিকে ব্যবহার করার চাপ দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এককভাবে মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়-এটি মানতে নারাজ। কারণ, তারা অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিচ্ছে। অনেক দেশ মুদ্রানীতি ব্যবহার করে মূল্যস্ফীতি কমাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বাংলাদেশও পারবে। কিন্তু এটাও মানছে না যে, অন্য দেশের অবস্থা আর বাংলাদেশের অবস্থা এক নয়। অন্য দেশে মুদ্রানীতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাংলাদেশে সেটি সম্ভব নয়। আইএমএফ চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড়ের সময়ও বলেছে, মূল্যস্ফীতির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করতে হবে। সন্তোষজনক বলতে বোঝানো হচ্ছে, ৫ থেকে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার। গত বছরের জুলাইয়েই এ হার বেড়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় সরকারের ঋণের জোগান দেওয়া বন্ধ করা এবং পণ্যমূল্য কমানোর ফলে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। গত মে মাসে এ হার কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নামে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত জুলাইয়ে এ হার ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ উঠেছিল। জুনে মূল্যস্ফীতির হার আরও কিছুটা কমবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ হার ৬ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা কর্মসংস্থানের দিকে সবচেয়ে নজর দিতে চায়। ফলে মুদ্রানীতিতে আগের কঠোরতা আর রাখতে চাচ্ছে না। কিছুটা শিথিল করতে চায়। এজন্য কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণের জোগান বাড়াতে চায়। এ লক্ষ্যে এসব খাতে কম সুদে ঋণের জোগান দিতে চায়। ইতোমধ্যে এনজিও লিংকেজ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে এসব খাতে ঋণের জোগান বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যেসব তহবিল রয়েছে, সেগুলো থেকেও ঋণের জোগান বাড়ানো হবে। কারণ, এগুলোর সুদহার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করা হবে এসব তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে। চলতি বাজেটে অনেক খাতে কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব খাতে ঋণের জোগান বাড়াবে। এছাড়া বড় শিল্প ও রপ্তানি খাতকেও চাঙা করা হবে, যাতে কর্মসংস্থানের হার বাড়ে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মুদ্রানীতিতেও সে সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমেও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। সরকারি খাতের যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চালু করা হবে। যেগুলো সম্প্রসারণ করার সুযোগ আছে, সেগুলোর কলেবর বাড়ানো হবে। এভাবে সরকারি খাতেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। নতুন সরকারের সময়ে মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য ছিল ডলার বাজার স্থিতিশীল করা। সেটি অর্জিত হয়েছে। ফলে এখন একটু ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে আইএমএফ আপত্তি করলে সেটি উপেক্ষা করা হবে। বৃহস্পতিবার মুদ্রানীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজশাহীতে মতবিনিময় করেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী ও এনজিও প্রতিনিধিরা। তারা এক বাক্যে সুদের হার কমানোর মত দিয়েছেন। এরপর সিলেটেও মতবিনিময় করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও অন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে মুদ্রানীতির খসড়া প্রণীত হবে। কারণ, এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইএমএফ-এর মতামতকে নয়, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে দেশের মানুষ কী চায় তার ওপর। এদিকে আইএমএফ-এর রাজস্ব খাত সংস্কারের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। মুদ্রানীতিতে একই ধারা রাখলে ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর খেপে যেতে পারে-এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। কারণ, ইতোমধ্যে সুদের হার কমানোর জোর দাবি তুলেছেন তারা।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার