মুসলিম দেশগুলোর যৌথবাহিনী গঠনের ইঙ্গিত, থাকবে পাকিস্তানও – বর্ণমালা টেলিভিশন

মুসলিম দেশগুলোর যৌথবাহিনী গঠনের ইঙ্গিত, থাকবে পাকিস্তানও

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ September, ২০২৫ | ৮:২৩ 108 ভিউ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যেন এক অশেষ ধারাবাহিকতা। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন কিংবা ইয়েমেন—যেখানেই চোখ রাখা যায়, সেখানেই আগুনের লেলিহান শিখা। তবে সাম্প্রতিক দোহা হামলা পরিস্থিতিকে এক নতুন মোড় দিয়েছে। কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুধু হামাসের বৈঠককে লক্ষ্য করেই হয়নি, বরং পুরো আরব বিশ্বকে যেন প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছে। কাতারে এই হামলার পর নড়েচড়ে বসেছে আরব দেশগুলো। জরুরি বৈঠকে বসেন বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ার বিষয়টি সামনে আনেন। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, যদি জাতিসংঘের বাইরে এমন কোনো কার্যকরী বাহিনী গঠিত হয়, তাহলে পাকিস্তান তা‌তে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। মঙ্গলবার, (১৬ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয় সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। দার বলেন, পাকিস্তানের ‘বিশাল এবং কার্যকর’ সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে, যা প্রচলিত যুদ্ধে সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই যদি কোনো বহুজাতিক ব্যবস্থা গঠিত হয়, যেখানে সদস্যরা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ভূমিকা রাখে, পাকিস্তান সেখানে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বাহিনীকে আক্রমণের জন্য নয়—শান্তি প্রতিষ্ঠা, আগ্রাসী শক্তিকে থামানো ও দখলদারিত্ব রোধের জন্য গঠন করা উচিত। সাক্ষাৎকারে দার আরও বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এক ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বা নিষেধাজ্ঞাও প্রয়োগ করা যেতে পারে, যাতে কোনো রাষ্ট্র তাদের কথা না শুনলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তিনি বলেন, আরব দেশ ও আরব লীগের মধ্যে এই ব্যাপারে আলোচনা চলছে এবং এটি একটি যৌক্তিক প্রস্তাব। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়—পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে পাকিস্তানের কী ভূমিকা হবে? তাতে দার বলেন, পাকিস্তান উম্মাহর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে; পারমাণবিক অস্ত্র কেবল প্রতিরোধের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় এবং ব্যবহার করার ইচ্ছা নেই। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের ‘বড়, সুপরিচিত ও কার্যকর’ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী রয়েছে এবং প্রয়োজনে প্রচলিত পদ্ধতিতেও প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা সম্ভব। আল জাজিরার উপস্থাপক যখন নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্ক ও ২০১১ সালের ওসামা বিন লাদেন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টানেন এবং প্রশ্ন করেন—কোনো শক্তিশালী দেশের হামলার শিকার হলে পাকিস্তান কি একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে?—ইসহাক দার জবাবে বলেন, ‘আমরা আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ বরদাশত করব না। ছোট অথবা বড়—যে দেশই হোক না কেন আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাব।’ তিনি যুক্ত করেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে থামাতে কার্যকর কিছু করেনি, তবু কিছু ঘটনা—যেমন ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়—যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে ভূমিকা রেখেছ। কাতারে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে দার বলেন, কাতারে হামলা অযৌক্তিক এবং “দস্যুবৃত্তি” বলে তিনি অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বহু দেশে হামলা চালিয়ে এসেছে অথচ আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তগুলো তার ওপর কার্যকর হচ্ছে না। তাই তিনি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সমসাময়িক সংস্কারের প্রয়োজন যে ভীষণ তা বারবার বলেছেন। দার বলেন, ‘বিশ্বে শান্তি রক্ষার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রস্তাব বছরের পর বছর উপেক্ষিত থেকে যায়। গাজা ইসরায়েলের হাতে আর কাশ্মির ভারতের হাতে—এমন পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় কী আশা করা যায়?’ তিনি যুক্ত করেছেন, সব রাষ্ট্র—বড় হোক বা ছোট—সমান মর্যাদা পাওয়া উচিত। গাজা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে দার কূটনীতি ও আলোচনাকেই প্রধান সমাধান হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, আলোচনা সময় নেবে, কিন্তু আন্তরিক হলে সমাধান সম্ভব। অন্যথা, নেপথ্যে খারাপ উদ্দেশ্য থাকলে কোনো সমাধান মিলবে না। অবশেষে ইসহাক দার আবারও জোর দিয়েছেন—পাকিস্তান শান্তি চায় এবং পারমাণবিক অবস্থানের কারণে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চায় না। তবু নাগরিকদের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যখন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রভাব কমে যায়, তখন বিকল্প ব্যবস্থা বা প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপের দরকার হতে পারে—এমনটাই তার দৃঢ় অবস্থান। সূত্র : ডন

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড-এনসিটি চুক্তির অর্থ কী? ভারতে ক্যানসার ওষুধের দাম কমতে পারে ৭০ শতাংশ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছেই গেল এনসিটি রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি ১০ দিনে চেলা নদীর পাড় কেটে ২৫ লাখ ঘনফুট বালু খেয়ে নিল বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ১০ এয়ারবাস ক্রয়ের চুক্তি করলো বিমান; অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কায় বিশ্বব্যাংক-এডিবি ২০ হাজার শ্রমিকের উদ্বেগ-প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ১৫ বছরের চুক্তি সম্পন্নঃ DP World-এর হাতে তুলে দেয়া হলো এনসিটি ‘সবকিছু যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে দিয়েছি ধরে নেবেন না’- ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কড়া জবাব ​‘উত্তেজনার বশে মামলা করেছিলাম’: ভুল স্বীকার করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা তুলে নিলেন বাদী কফিল উদ্দিন দিলারা চৌধুরী এবং তার স্বামীর বঙ্গবন্ধুবিরোধিতা ও ইতিহাস বিকৃতি’র শেকড় ১৯৭১-এ প্রোথিত অর্থনীতির বেহাল দশা, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুকিতে দেশঃ অথচ দেশে আসছে কোটি টাকার চোরাই BMW স্পোর্টস কার সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথি হামলা: নিহত ৩, আহত ৩৬; আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি রামপালে ৪৪২ মে:ও: সৌরবিদ্যুৎঃ উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সৌদি বিনিয়োগ আওয়ামীলীগ আমলেই; জানালেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিন্দু পরিচয়ের কারণে ইউনূস আমলে পাসিং আউট প্যারেডের আগে নেভাল একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত হন পৃথ্বী নন্দী ধর্মের নামে শিশুকে ভয় দেখানো, নির্যাতন-কে শিশুর মানসিক ক্ষতির কারণ বলছে জাপান সরকার বাণিজ্য চুক্তি ও বিলিয়ন ডলারের ক্রয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট, জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র জলপরী দেখতে চলল পুজো-অর্চনা, জালে মিলল সিলভার কার্প মাছ এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায় নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন