নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-সারজিসরা
স্ত্রীর সঙ্গে খুনির ফোনালাপ, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন ছয় নারী
মাগুরায় যুবদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু।
রংপুরের কাউনিয়ায় দিনদুপরে বাড়ির সামনেই আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
ফেনীতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অ্যাডভোকেট পাপিয়া: মমতা-রাহুল কিংবা মোদি সবাই শেখ হাসিনার নিরাপত্তার ব্যাপারে একমত
ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগকে নিয়েই অবাধ নির্বাচন ও পুনর্মিলনের আহ্বান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
১৯শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্ধারণ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রতিশোধের বদলে পুনর্মিলনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান।
সেন্টার ফর ইউএসএ-বাংলাদেশ রিলেশনস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সশরীরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
মূল বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কায়কাউস আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রানা হাসান মাহমুদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনাকে “নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাঁকে সরকার প্রধানের পদ থেকে সাংবিধানিক আইনগতভাবে অপসারণ করা হয়নি- যেহেতু তিনি কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, উগ্র ইসলামপন্থীদের সহিংস ও প্রাণঘাতী বিক্ষোভের মুখে বাধ্য হয়ে তিনি দেশ ছাড়েন এবং মুহাম্মদ ইউনূস আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে এবং বেআইনি পন্থায় বাধা দিয়েছেন।
ডিসেম্বরে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার আগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অপর বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন।
শেখ হাসিনার আহ্বান
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই দেশটির গণতান্ত্রিক নীতির পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান নেওয়া উচিত।
“আমি যুক্তরাষ্ট্রকে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে বেছে নিতে বলছি না। আমি বলছি, গণতন্ত্রকে বেছে নিতে। আমি হস্তক্ষেপ চাই না; বরং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি সমর্থন চাই। আমি চাই, বাংলাদেশিরা অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সরকার নির্ধারণ করুন,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এই নীতিগুলো কোনো দলের নয়, জনগণের। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নিক, তা আমি চাই না। আমি শুধু চাই, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একই সার্বজনীন গণতান্ত্রিক নীতির আলোকে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করা হোক: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, সংবিধানসম্মত শাসন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং আইনের অধীনে সমান সুরক্ষা। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের ভিত্তিতে নয়, পুনর্মিলনের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে।”
শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেরসহ যে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।
বিচারপ্রক্রিয়ায় সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবার, বেআইনিভাবে আটক হওয়া মানুষ এবং অভিযুক্তদের ন্যায্য আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার—সবকিছু বিবেচনায় রাখতে হবে। কাউকে বাদ না দিয়ে বা প্রতিশোধের শিকার না করে রাজনৈতিক অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ হিসেবে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, জলবায়ু কার্যক্রম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানব উন্নয়নের কথা বলেন।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগে সহযোগিতা বিস্তারের আহ্বান জানান।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, জাপান ও ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সজীব ওয়াজেদের অভিযোগ
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত-ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসন (প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কার) এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) বিক্ষোভসংশ্লিষ্ট জনসমাবেশ ও সংগঠিত করার কাজে সহায়তার জন্য ৫ কোটি ডলার দিয়েছিল।
মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রক্রিয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামরিক নেতাদের প্রভাবিত করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সজীব ওয়াজেদ আরও বলেন, ইউনূস সরকার বিক্ষোভকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার স্বীকার ও সমর্থন করেছে যে দায়মুক্তির আওতায় থাকা ব্যক্তিরা নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন।
ইউনূস সরকার কারাগার থেকে দণ্ডিত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়েছে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁদের মধ্যে একজনকে এক মার্কিন নাগরিকের হত্যাকারী হিসেবে শনাক্ত করেন সজীব ওয়াজেদ।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ই অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউনূসকে ২০২৬ সালের হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন পুরস্কার দেন। বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতার পট-পরিবর্তনে সম্পৃক্ত ইউনূসকে এ পুরস্কার প্রদানের মাত্র চার দিন পরই সজীব ওয়াজেদের এই কড়া বক্তব্যগুলো আসে।
ব্যবসা ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহযোগিতার কথা
মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কায়কাউস আহমদ বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে ব্যবসায়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।
তাঁর ভাষ্য, দুই দেশের ব্যবসার পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগে প্রান্তিক মানুষ কীভাবে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও গৃহহীনতা কাটিয়ে উঠেছেন, তার কয়েকটি উদাহরণও দেন তিনি।
সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. নুরন নবী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ইউনূসের শাসনামলে তিনি যাকে “জনতার শাসন” বলেছেন, সে বিষয়ে কথা বলেন এবং সতর্ক করেন, তারিক রহমানের সময়েও এমন পরিস্থিতি চলতে পারে। ইউনূসকে “শান্তির নয়, সহিংসতার দূত” বলে বর্ণনা করেন।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক রানা হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ঘটনাবলির প্রভাব দেশের সীমানার বাইরেও পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের অধিকার নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থিত সাংবাদিক, নীতিবিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কংগ্রেসের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে রানা হাসান মাহমুদ স্বাধীন ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপস্থিত ছিলেন সাবেক কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকেরা
সম্মেলনে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, নীতিবিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো; এফডিআইসির সাবেক সহকারী কমিশনার ক্রিস্টোফার বায়ার্ন; ডিজিএ-অ্যালব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক পরিচালক অ্যান্থনি রেনজুলি; গোল্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজির সভাপতি এলি এম. গোল্ড; এমইআইয়ের মাইকেল রুবিন; হাডসন ইনস্টিটিউটের অপর্ণা পান্ডে; ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির মোনা ডেভ; মিডল ইস্ট ফোরামের ব্র্যান্ডন মার্টিন ও ক্যামিল জেনকিন্স; জিএটির ইকবাল নুজিমি; জেডব্লিউআইডিসির স্যাম ওয়াইম্যান; ইউপিএফের লেনিভা লিওন, ইউরিকো আরাকাওয়া, কোমিকো সাকায়ে ও হিরোয়ো কুরোকি; এবং এপিএফের জেবা জেবুননেসা।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন নিউজম্যাক্সের জন গিজি; এজেন্স ফ্রান্স-প্রেসের বেইই সিও; রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েসের নিল ম্যাককেব; আইএফসির গৌতম মেহতা; হিন্দুস্তান টাইমসের শশাঙ্ক মাত্তো; টিভি আসাহির মারিকো কাশিওয়ামাতা; এফডিডির আহমদ শারাউই; ইন্ডিয়া টুডের রোহিত শর্মা; ওয়াশিংটন এক্সামিনারের কলাম লেখক অ্যাডেল নাজারিয়ান; এপিআইয়ের জাইদ মাসতোহ; এবং গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি ভিউয়ের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি সে হুন কিম।
এ ছাড়া আরও অনেকে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সেন্টার ফর ইউএসএ-বাংলাদেশ রিলেশনস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]