জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে ডুমুর গাছের দারুণ ম্যাজিক – বর্ণমালা টেলিভিশন

জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে ডুমুর গাছের দারুণ ম্যাজিক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ July, ২০২৫ | ৮:১৭ 246 ভিউ
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় এক নতুন আশার কথা জানালেন সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইক রাউলি ও তার সহকর্মীরা। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশেষ কিছু ডুমুর গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে সেটিকে স্থায়ীভাবে পাথরে—অর্থাৎ ক্যালসিয়াম কার্বোনেটে রূপান্তর করতে পারে। গবেষকরা পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়ার সামবুরু কাউন্টিতে তিনটি ভিন্ন প্রজাতির ডুমুর গাছ নিয়ে এই গবেষণা চালান। এতে দেখা গেছে, গাছগুলো শুধু শিকড় বা পাতায় নয়, বরং কাঠের গভীর স্তর ও আশপাশের মাটিতেও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট জমা রাখছে। এর ফলে কার্বন দীর্ঘদিন ধরে মাটিতে সংরক্ষিত থাকে এবং বাতাসে ফেরত যায় না। প্রকৃতপক্ষে, গবেষকরা গাছের কাঠে হালকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ছিটিয়ে বুদ্‌বুদের মাধ্যমে নিশ্চিত হন সেখানে কার্বনেট রয়েছে। দেখা যায়, গাছের গভীরে চুনাপাথর ও চক তৈরি হয়েছে। এমনকি আশপাশের মাটিতেও মিলেছে ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের উপস্থিতি। গবেষণা দলের প্রধান রাউলি বলেন, আমরা ধারণা করেছিলাম, এই প্রক্রিয়া গাছের পৃষ্ঠতলে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, কাঠের গভীর স্তরেও এই পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় বাতাসের অতিরিক্ত কার্বন গাছের দেহ ও মাটিতে স্থায়ীভাবে আটকে যায়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি অক্সিজেন ও কার্বনের প্রাকৃতিক চক্রেরও অংশ। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে এ ধরনের গাছ রোপণ করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। শুধু পরিবেশ নয়, ডুমুর গাছ খাদ্যের উৎস হিসেবেও মানুষের উপকারে আসে। ফলে এটি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে আরও গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের ওপর। বিশেষ করে জলবায়ু, পানি ব্যবস্থাপনা ও গাছের জীবনীশক্তি—সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবুও, বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। প্রকৃতিনির্ভর এই সমাধান জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। তথ্যসূত্র : নিউ সায়েন্টিস্ট

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাঁদাবাজী-ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্যে বেঁচে ফেরাকে ‘কপাল জোরে বেঁচে গেলাম’ বললেন এভারেস্ট জয়ী বাবর আলী ‘জয় বাংলা’কে দাবিয়ে রাখা যাবে না’: আদালত চত্বরে জামিন পেয়েই গর্জে উঠলেন আইভী বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ ‘রেড জোন’ করা হবে, মিলবে ‘সবকিছু’ নোবেল জয়ের ২০ বছরে ইউনূস: অভিনন্দনের দিনেও হামে শিশুমৃত্যু থামেনি, সরকারি হিসাবেই ১,১৭০ ছাড়ালো শিশু মৃত্যুর সংখ্যা সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হুথি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা, যৌথ সহয়তা’র ‘মক্কা জোট’ যৌথ নিন্দা প্রকেশেই সীমিত টঙ্গীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা পুড়ে ছাই: মার্কিন ওষুধ-চুক্তির সাথে একসূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন কর্মচারীদের নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে একদিনে দুই মৃত্যু: চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, সোনাইমুড়ীতে মাঠে মিলল প্রবাসীর মরদেহ যা দেখছেন চোখের সামনে, পর্দার পেছনের বাস্তবতা কেমন – সেটা কি জানেন? দৌলতপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান, ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০ অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার সাগরে বসানো লাইটিং সিস্টেমে হানা প্রবৃদ্ধি আরও কমবে বাড়বে মূল্যস্ফীতি ফাঁকা শাহজালালের বহির্গমন টার্মিনাল কাজ করেনি সতর্কবার্তা সৌদিতে নতুন হামলা বিদ্যুৎ উৎপাদনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি রূপপুরে সোমবার বন্ধ থাকবে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ঢাকাসহ দেশজুড়ে স্মরণানুষ্ঠান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা