ইসলামপন্থি বা ইসরাইল কোনোটিই নয়, যুবরাজ সালমান হাঁটছেন ভিন্ন পথে – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইসলামপন্থি বা ইসরাইল কোনোটিই নয়, যুবরাজ সালমান হাঁটছেন ভিন্ন পথে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ February, ২০২৬ | ১০:৩০ 104 ভিউ
কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি বলয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে রিয়াদের অবস্থানও ছিল কঠোর। একই সঙ্গে ধারণা ছিল, যেকোনো সময় ইসরাইলের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে সৌদি। এমনকি ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর ১৬ দিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে ‘ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি’ বাস্তবায়নের আশার কথা বলেছিলেন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গঠিত আব্রাহাম অ্যাকোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বার বার বলেছিলেন। এমনকি রিয়াদ শিগগিরই ইহুদি রাষ্ট্র স্বীকার করবে বলেও তিনি একাধিক বার জানিয়েছেন। তবে গাজায় আগ্রাসনের পর এসব আলোচনা অতীত হয়ে গেছে। সৌদি আসলে কোনো পথেই হাঁটেনি। যুবরাজ সালমান তার দেশকে না নিয়ে গেলেন ইসলামপন্থিদের দলে না এগুলেন পশ্চিমাদের দিকে। আসলে তিনি কোন পথে হাঁটছেন তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির কয়েকটি কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে টানাপোড়েন, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা এবং সৌদি গণমাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী ভাষা বাড়ার ঘটনায় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন-যুবরাজ সালমান ইসলামপন্থি একটি আঞ্চলিক জোটের দিকে ঝুঁকছেন কিনা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাও কি উবে যাচ্ছে? তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্বেগ অনেকটাই অতিরঞ্জিত। তারা বলছেন, রিয়াদ কোনো আদর্শিক ইসলামপন্থি জোটে যোগ দিচ্ছে না, বরং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবেই নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত ও বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু গাজা যুদ্ধের বিপর্যয় যুবরাজ সালমানের অবস্থান কঠোর করেছে। যুদ্ধ শেষ হলেও এখন ইসরাইলের সঙ্গে দ্রুত স্বাভাবিককরণে আগ্রহী নয় সৌদি নেতৃত্ব। এর মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (পরমাণু) করেছে রিয়াদ, যাকে ঘিরে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। পরে তুরস্ক ওই চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে- এমন খবরও ছড়ায়। তবে উপসাগরীয় রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আসলে কোনো জোটে বাঁধা পড়তে চাইছে না। যুবরাজ সালমান বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আমিরাতকে বার্তা দিচ্ছেন- সৌদির বিকল্প অংশীদারও আছে। একইভাবে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, বাণিজ্য বাড়ানো এবং তুরস্কের সঙ্গে ফের জোরালো সম্পর্ক- এসবই বাস্তববাদী কূটনীতি। এক সময় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এখন সৌদি ও তুরস্ক অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে আমিরাতের সঙ্গে সৌদি দ্বন্দ্ব ইয়েমেন ও সুদানের মতো অঞ্চলে স্পষ্ট হয়েছে। তবে এটিও আদর্শিক নয়, বরং প্রভাব ও স্বার্থের লড়াই। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মত- সৌদি আরব ‘হেজিং’ করছে, অর্থাৎ একাধিক দিক খোলা রাখছে। ইসলামপন্থিদের দিকে ঝুঁকে পড়া বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক চিরতরে বাতিল-কোনোটাই এখনই বাস্তবতা নয়। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৬ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করে জামায়াত আমিরের বহুতল ভবন নির্মাণ পিরোজপুরে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতীদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও ওসি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম অটোরিকশা সংগঠনের ক্ষমতার দাপটে ফাউ খাওয়ার ধুম, বকেয়া টাকা চাইলে ক্যান্টিন বন্ধের হুমকি চবি ছাত্রদল নেতার ব্যানারে অতি ক্ষুদ্র অক্ষরে শেখ হাসিনা সরকারের শিক্ষকবিষয়ক স্লোগান: প্রধান শিক্ষক আটক, রাজনৈতিক মামলা সাংবাদিকতার কারণে রূপা-বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান অ্যামনেস্টির সুনামগঞ্জে চাঁদাবাজির সময় জামায়াতের রোকন ও দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধিকে গণধোলাই কুমিল্লায় বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-অগ্নিসংযোগ: যুবদল-ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা বাসা থেকে মব করে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শারমিনকে আটক, প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ ৬ মাসে অন্তত ১৮৭ শিশু যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, ১২৭ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে: মানবাধিকার সংস্থা জেএমবিএফের উদ্বেগ “তৃতীয় বিশ্বের নরক” থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধের বিল নিয়ে ন্যান্সি মেইস: ভাষা ও নীতি দুটোই বিতর্কের কেন্দ্রে, মার্কিন জনমত বাড়ছে পুঞ্জীভূত লোকসানে ২২ ব্যাংক, ক্ষতি ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা বোমা মেরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি “ভাত দে কাপড় দে, নইলে গদি ছাইড়া দে”- স্লোগানে প্রকম্পিত প্রেসক্লাব এলাকা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির পর এবার সিসিটিও তুলে দেওয়া হচ্ছে বিদেশিদের হাতে বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির পর ওসির ‘তৈলাক্ত’ পোস্ট: ‘আমিনুল স্যারকে আবারও আহ্বায়ক চাই’ এলপিজির দাম বাড়ানো হলো ২৫২ টাকা, বাজারে এমনিতেও পাওয়া যায় না সরকার নির্ধারিত দামে! বৈশ্বিক লিঙ্গ সমতা সূচকঃ ২০ বছরে বেড়েছিল ৮.৫ পয়েন্ট, এক বছরেই কমলো ৬.২; নারীর রাজনীতিতে ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ কমেছে ‘আউটসোর্সিং’ করে নরসিংদী থেকে ‘ফ্রিল্যান্সার’ ভাড়ায় এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পেঁয়াজের বাজারে: ‘আমরা দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ, দাম বাড়লে কীভাবে বাঁচবো?’