ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২১ এপ্রিল, ২০২৫ | ১১:২২ 138 ভিউ
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রোমে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের আলোচনার মধ্যে ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা অভিযানের অংশ হিসেবে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো বলে দাবি করেছে তারা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলা বা এতে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সোমবার (২১) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল। হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, সানার শু'উব জেলায় ফারওয়া মহল্লার একটি বাজারে বিমান হামলা চালানো হয়। আগেও এই এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুথিদের উপগ্রহ চ্যানেল আল-মাসিরাহ প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের পাশে মানুষের আর্তচিৎকার, একজন শিশুর নিথর দেহ কোলে নিয়ে আহাজারি করছেন অনেকে। আহতদের স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রোববার দিবাগত রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চলে—অমরান, হোদেইদা, মারিব ও সা’দা প্রদেশেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত সপ্তাহে ইয়েমেনের রাস ইসা জ্বালানি বন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হন। এই হামলা এমন সময় চালানো হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রোমে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের সঙ্গে তেহরানকে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা-অভিযান পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। কারণ, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের ইরানের সমর্থিত বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে এবং ইয়েমেনকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি প্রভাব প্রতিরোধের একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটি অংশ। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে হুথিরা তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে, ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের জেরে হুথি যোদ্ধারা রেড সি ও আশেপাশের জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। হুথিদের দাবি—তাদের হামলা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। এই জলপথ, বিশেষ করে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী, বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। হুথিদের হামলায় এই পথ ব্যবহার করা বিপজ্জনক হয়ে উঠলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তেহরানকে চাপ দিচ্ছে। এদিকে ইরান সরাসরি হুথিদের পক্ষ না নিলেও তাদের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরেই রেফারিং ছাড়লেন স্লাভকো ভিনচিচ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কাব্রালের বাঁকানো শট ‘বিশ্বকাপের সেরা গোল’ কোটা সংস্কারের পর বিসিএসে নারীদের নিয়োগে বড় পতন, প্রশ্নের মুখে সংস্কার ভারতের বাংলাদেশ সফর ঝুলে থাকার আবহেই মিরাজের সাক্ষাৎকার: বরফ গলবে কি? ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মার খাননি দাবি করে আম্মার- ‘আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি’ যেসব কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ককটেল নিক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক চুরি গুরু পাপে লঘু দণ্ড পুঁজিবাজারে, উৎসাহিত হচ্ছে কারসাজি চক্র সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার, ৩৪৫৩ কেজি মাংস উদ্ধার! কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি চুয়াত্তরেও সেই জাদু রুনা লায়লার কণ্ঠে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮ কোরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যারা মানুষ কেন নাক খোঁটে জানেন? বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির: দেশের জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই চরম গ্যাস সংকটে উৎপাদনে ধস: সংকটে শিল্প, শঙ্কায় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান চট্টগ্রামে নালা থেকে উদ্ধার ১৪শ গুলির বড় অংশই একে-৪৭ ও মেশিনগানের বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বে দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টা বিএনপির অপর গ্রুপের মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?