নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে গেছে, হুমকিতে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি
১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেল বাংলাদেশ, উল্টো সর্বোচ্চ ঋণ পরিশোধের চাপ
৭৭ শতাংশ বেড়েছে সরকারের ব্যাংকঋণ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি
বাজারের বেশিরভাগ সবজি শতক হাঁকালেও কাঁচা মরিচ একাই ৪০০ নট আউট
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন
গ্যাস সংকটে অচল ট্যানারি: কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে দেশের চামড়া শিল্প
বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির: দেশের জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই
পাঁচটি দেশের ওপর রেমিট্যান্সের ৬২ শতাংশ নির্ভরতা, বাড়ছে কৌশলগত ঝুঁকির শঙ্কা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রবাসী আয়। তবে এই আয়ের বড় অংশই এখন নির্ভর করছে সীমিত কয়েকটি দেশের ওপর। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৬১ দশমিক ৬১ শতাংশ এসেছে মাত্র পাঁচ দেশ থেকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের অতিনির্ভরতা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশ—সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—থেকে এসেছে ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার।
দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে ৫০৭ কোটি ডলার। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে যথাক্রমে ৪৫৮ কোটি, ৩৪০ কোটি ও ৩০১ কোটি ডলার।
শীর্ষ পাঁচ দেশের বাইরে থাকা ইতালি, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এ পাঁচ দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৮৯১ কোটি ৪২ লাখ ডলার। ফলে প্রথম ১০টি দেশ থেকেই এসেছে দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৮৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের উৎস কয়েকটি দেশের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকা স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শ্রমবাজার, অভিবাসন নীতি বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সৌদি আরবের ওপর বাংলাদেশের রেমিট্যান্স নির্ভরতার অন্যতম কারণ দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর উপস্থিতি। নির্মাণ, পরিবহন, সেবা খাত ও গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত এসব কর্মী নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন।
তবে দেশটির শ্রমবাজারের বড় অংশ এখনো অদক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মীনির্ভর হওয়ায় ভবিষ্যতে আয় প্রবাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা রেমিট্যান্সের ধরন কিছুটা ভিন্ন। এসব দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ স্থায়ী অভিবাসী, উদ্যোক্তা ও উচ্চ আয়ের পেশাজীবী। ফলে এসব উৎস থেকে আসা অর্থ তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াতেও বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ, সেবা ও ব্যবসা খাতে কর্মরত প্রবাসীদের আয় এসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ভূমিকা রাখছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে নীতি পরিবর্তন, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধি, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শুধু বিদ্যমান বাজারের ওপর নির্ভর না করে নতুন শ্রমবাজার তৈরি এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, কয়েকটি দেশের ওপর রেমিট্যান্সের অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকের আধিক্যের কারণে সেখানকার আয় সব সময় স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে। বিপরীতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে প্রবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখান থেকে আসা রেমিট্যান্সের স্থায়িত্বও বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় না, দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ, আবাসন খাত, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখে।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে হলে শ্রমবাজারের বৈচিত্র্য বাড়ানো, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নতুন গন্তব্যে কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দিতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের বড় শক্তি কয়েকটি দেশ হলেও ভবিষ্যতের জন্য এ নির্ভরতা কমানোই হবে নীতিনির্ধারকদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।