নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আমলাদের চাপে পিছু হটল সরকার, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা মিলবে ৫০ হাজার
বাংলাদেশকে ৫ বছরে শোধ করতে হবে ২৬ বিলিয়ন ডলার, বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আইএমএফের বাড়তি নজর
ঢাকায় তিন মার্কিন এপিডেমিওলজিস্টের নীরব সফর: যার একজন ইউএস আর্মির সদস্য, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
প্রেমের টানে হুটহাট বাংলাদেশে উড়ে যাওয়া নাগরিকদের কঠোর বার্তা চীন সরকারের
দেড় মাসেই উন্নয়নের জোয়ারে পদ্মায় ভেসে গেল ৫২৭ কোটি টাকার প্রকল্প!
ডেঙ্গু ঠেকাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যুগান্তকারী সমাধান: বললেন লুঙ্গি লম্বা করে ও পায়জামা পরতে
সুস্থ অবস্থায় কারাগারে যাওয়ার ৯ দিন পর পরিবার পেল যুবলীগ নেতার মরদেহ, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ
বন্যার ৯ম দিনেও জলবন্দি বাঁশখালী: অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের ও অবৈধ বাঁধের বলি হাজারো পরিবার
ভয়াবহ বন্যার নবম দিনেও চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কাটেনি জলাবদ্ধতা। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি উপজেলার পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে গেলেও পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র-তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এখনো হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের, লবণ চাষের জমি ও মাছের ঘেরে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
৩৭৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার পুকুরিয়া থেকে পুঁইছড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের পশ্চিম পাশের ইউনিয়নগুলোই এখন সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ছনুয়া, শেখেরখীল, দক্ষিণ চাম্বল, শিলকূপ, গণ্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, কাথরিয়া ও পশ্চিম পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সমুদ্রসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো অথই পানি।
শীতকালে এসব জমিতে লবণ চাষ হলেও বর্ষা নামতেই অতি মুনাফার লোভে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করা হয়, যা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য।
সমুদ্রের এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও পানি আটকে থাকার এই রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “সমুদ্র-তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পর এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, অন্য সব এলাকা থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলেও সমুদ্রের একদম পাশের অঞ্চলগুলোতে পানি আটকে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গত ১৩ই জুলাই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিত নির্দেশনা দিয়ে অবৈধ বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
অন্যদিকে খানখানাবাদ, সাধনপুর, বৈলছড়ি, চাম্বল, পৌরসভাসহ যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। বন্যার তীব্র স্রোতে মাটির তৈরি শত শত ঘরবাড়ি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে গৃহহীন বহু পরিবার ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচেই কোনো রকমে রাত কাটাচ্ছে।
কৃষিজমির গ্রীষ্মকালীন ফসল সম্পূর্ণ পচে গেছে এবং অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষীরা।
খানখানাবাদ ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. দিদারুল আলম বলেন, “আমার এলাকায় ধীরে ধীরে পানি কমলেও ঘরবাড়ি ও সড়ক অবকাঠামোর যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি চালসহ জরুরি ত্রাণ দিচ্ছি এবং বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছি।”
উপকূলের বন্যাকবলিত বাসিন্দা রাহুল দাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভয়াবহ বন্যায় আমাদের মাটির ঘর ধসে গেছে। পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই এখনো আশ্রয় কেন্দ্রেই দিন কাটাচ্ছেন। ত্রাণ আসলেও আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি মাথা গোঁজার ঠাঁই। আর এই এলাকার অবৈধ চিংড়ি ঘের ও বাঁধগুলো গুঁড়িয়ে না দিলে ভবিষ্যতে এই জলাবদ্ধতা আমাদের স্থায়ী অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।”
দুর্যোগপ্রবণ বাঁশখালীতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের চেয়েও মানবসৃষ্ট খাল দখল, অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবৈধ চিংড়ি ঘেরকে সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার জন্য প্রধান দায়ী মনে করছেন পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল। প্রশাসনের নির্দেশনার পরও অবৈধ বাঁধগুলো দ্রুত অপসারণ করা না হলে উপকূলের কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।