নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিএনপি ও পুলিশের অস্বীকারের পরেও সত্য উদ্ঘাটন; পুলিশ-বিএনপি’র যৌথ অভিযান ও হামলা!
পুরান ঢাকায় গণশৌচাগার দখল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়
এডিপি বাস্তবায়নে ১৬ বছরের সর্বনিম্ন রেকর্ড: কর্মকর্তাদের সক্ষমতার অভাবে থমকে আছে প্রকল্প বাস্তবায়ন
দেশটা দিনে অচল থাকে, রাইতে হারিকেন: স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখল বাংলাদেশ
‘ভাইয়া কার্ড বেচে’ স্লোগান: ২ মাস ধরে দিনে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সড়ক অবরোধ
ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ নদীতে ফেলছেন কৃষক, এমপি ব্যস্ত সংসদে ‘তারেক বন্দনায়’
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিচারিক নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে তীব্র বিতর্ক
কোথায় চলেছে দেশ: জ্বালানি সংকটে অচল ১৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কিছু চলছে রেশনিং করে
দেশে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের ওপর। এর বেশির ভাগই পূরণ হচ্ছে দূরবর্তী কেন্দ্র ও দেশের বাইরে থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।
এতে বড় ধরনের সঞ্চালন লস হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে উচ্চ সক্ষমতার ব্যয়সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্তত ৬ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির আওতায়। এসব কেন্দ্র সচল রাখতে চাহিদার মাত্র ২৭ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি সংকটের কারণে আদানি, পায়রা কিংবা রামপালের মতো কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ ঢাকায় আনা হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটের কারণে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বিপিডিবিকে। এতে একদিকে যেমন ঢাকার পার্শ্ববর্তী বৃহৎ সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকছে, অন্যদিকে দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ব্যয়।
এতে পাওয়ার গ্রিডের লোকসান বাড়ছে, বিদ্যুতের দামেও তৈরি হচ্ছে বড় আকারে চাপ।
তিতাসের আওতাধীন রয়েছে ৬ হাজার ৭৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক ২০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন ৯৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে কেবল ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে নরসিংদী ঘোড়াশালে ১ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব কয়টি ইউনিটই বর্তমানে বন্ধ। কেন্দ্রটি চালাতে হলে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
জ্বালানি সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে বন্ধ রয়েছে ৭১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক উচ্চ সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রও।
মেঘনাঘাটে উচ্চ দক্ষতা ও ব্যয়সাশ্রয়ী ২ হাজার মেগাওয়াটের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো একসঙ্গে চালানোর মতো গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না বিপিডিবি। তাই গ্যাসের রেশনিং করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে হলে এর যেকোনো দুটি অথবা একটি বন্ধ রাখতে হয় বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বিতরণ কোম্পানি তিতাসের আওতাধীন ১৪৫ মেগাওয়াটের আগ্রিকো, সিদ্ধিরগঞ্জে ২৪০ মেগাওয়াট, এইচপিএসের ১০০ মেগাওয়াট, ইজিসিবি (ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ) ৪১২ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাটে আইপিপিভিত্তিক ৪৫০ মেগাওয়াট, সামিট-মেঘনাঘাট ৩৩৫ মেগাওয়াট, আরপিসিএলের ২১০ মেগাওয়াট, আরইবির মাধবদী ৩৭ মেগাওয়াট, আশুলিয়ায় ৩৪ মেগাওয়াট, গাজীপুরের মাওনায় ৩৩ মেগাওয়াট, রূপগঞ্জে ৩৩ মেগাওয়াট, এইচপিএলের ৩৬০ ও রিজেন্টের ১০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, “তিতাসের দৈনিক যে চাহিদা সে অনুসারে গ্যাস পাওয়া যায় না। যে কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে আবাসিকেও বড় ধরনের সংকট। সাধারণত দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেলে তিতাসের আওতাধীন সব গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। সেখানে বরাদ্দ এখন ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও কম।”
তিনি আরো বলেন, “বরাদ্দের বিষয়টি নির্ভর করছে পেট্রোবাংলার অ্যালোকেশনের ওপর। সেখান থেকে গ্যাস মিললে বিদ্যুৎসহ সব গ্রাহকের গ্যাস স্বাভাবিক থাকবে। এর বাইরে এককভাবে তিতাসের কিছু করার নেই।”
জানা গেছে, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কম হওয়ায় দূরবর্তী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আনতে হচ্ছে। আর তা কেন্দ্রীয়ভাবে সঞ্চালন ও বিতরণ করতে গিয়ে বড় আকারের সিস্টেম লস হচ্ছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতির কারণে পিজিবিপিএলসি তাদের তিন ধরনের সঞ্চালন লাইনের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। যদিও এরই মধ্যে বিদ্যুতের সঞ্চালন ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে।
বিইআরসির কাছে পাঠানো প্রস্তাবে পাওয়ার গ্রিড জানিয়েছে, ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে লোড সেন্টারে বিদ্যুৎ আনতে দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এছাড়া পটুয়াখালীর পায়রায় অবস্থিত বৃহৎ কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে গিয়েও বড় আকারে আর্থিক ব্যয় বাড়ছে পাওয়ার গ্রিডের।
পাওয়ার গ্রিড সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থার সিস্টেম লস কমবেশি হলেও সামগ্রিকভাবে লোকসান বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চালন সংস্থার লোকসান ৩.০৪ শতাংশ, যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৩.১৩ শতাংশ। তবে এ তথ্য চলতি অর্থবছরের পুরো হিসাব নয়। অর্থবছর শেষ হলে সঞ্চালনে গত অর্থবছরের চেয়ে সিস্টেম লস বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে বিপিডিবির চাহিদা অনুযায়ী দূরবর্তী কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ আনতে হচ্ছে পাওয়ার গ্রিডকে। এতে সঞ্চালন লস বেশি হচ্ছে। ব্যয় কমাতে হলে মেরিট অর্ডার ডিসপ্যাচ অনুযায়ী ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখা প্রয়োজন।”
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সঞ্চালন লোকসানের যথাযথ কারণ বিইআরসিকে জানিয়েছি। যার ভিত্তিতে সঞ্চালন ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোয় এ লোকসান কমাতে হলে লোড সেন্টারের পার্শ্ববর্তী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তাতে সঞ্চালন লোকসান অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।”

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।