নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ
জীবনযাত্রার ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা
মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ: ‘জীবন বাঁচাতে চুপ ছিলাম অন্তরীণ সরকারের সময়, তবু এনসিপি-জাশির আক্রমণ থামছে না’
থানায় পিঠ বাঁচলেও ডিসি অফিসে ধোলাই খেলেন পুলিশ হত্যাকারী সমন্বয়ক মাহাদী
আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!
কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী
মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই থাকায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ৩ শতাধিক বই জব্দ করল জেলা প্রশাসন
রাজশাহীতে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের ইতিহাস সংক্রান্ত প্রায় তিন শতাধিক বই জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।
গতকাল ১০ই জুন, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী হাকিম পাঠাগারটির বাসে তল্লাশি চালিয়ে বইগুলো জব্দ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে “আওয়ামী লীগ” নেতাদের নিয়ে লেখা বই রয়েছে অভিযোগ তুলে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, “পাঠাগারে বই পড়তে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাসের ভেতরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে লেখা বই দেখতে পান। পরে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।“
মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন বলেন, “আওয়ামী লীগের পতনের পরও এসব বই পাওয়া উদ্বেগজনক। একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। আমরা বইগুলো জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাজশাহীতে বই সংরক্ষণের আলাদা কোনো স্থান না থাকায় বইগুলো বাসের মধ্যেই রাখা হয়েছিল। তবে এসব বই কাউকে পড়তে দেওয়া হতো না।”
তবে এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কয়েকজন সাধারণ পাঠকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কে কোন বই পড়বে, কোন বই পড়বে না কিংবা পড়তে দেওয়া হবে না- এটা রাষ্ট্র ঠিক করে দেবে না। এগুলো তো জঙ্গিবাদ বিষয়ক বই নয়। আওয়ামী লীগের যে নেতারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন , তাঁরা তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখেছেন, রণাঙ্গনের স্মৃতি লিখেছেন, এসব বইকে কি আওয়ামী লীগের বই বলা যাবে?
মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনক, স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে রচিত বই জব্দের মত গর্হিত কাজটি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির ইন্ধনে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি, বলেন এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।
তল্লাশির সময় মহানগর ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির এবং রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুজ্জামান প্রীতম উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।