হত্যার পর লাশ ঘিরে প্রকাশ্যে উল্লাস – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই, ২০২৫
৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
158 ভিউ

হত্যার পর লাশ ঘিরে প্রকাশ্যে উল্লাস

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ জুলাই, ২০২৫ | ৮:৪০ 158 ভিউ
বুধবার দিন গড়িয়ে তখন সন্ধ্যার কাছাকাছি। পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কম্পাউন্ডে তখন চিরচেনা ভিড়ে ভাটা পড়েছে। রোগীর স্বজনদের আনাগোনাও কমেছে। ঠিক এমন সময়ই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে শুরু হয় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে সেখানে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর নিথর দেহ টেনেহিঁচড়ে কম্পাউন্ডের বাইরের সড়কে এনে শত শত মানুষের সামনে চলে উন্মত্ততা। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই হত্যাকাণ্ডস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ কাছে আসে। তাতে দেখা যায়, লাশ ঘিরে সন্ত্রাসীদের নৃশংস আচরণ। ঘটনার সময় অদূরেই চলছিল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তায় ছিলেন আনসার ক্যাম্পের সদস্যরাও। তবে এমন সন্ত্রাস আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসেনি। যখন তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, তখন চিকিৎসক জানান, আগেই মারা গেছেন সোহাগ। গতকাল প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছিলেন, শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। সোহাগের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও লাশের ওপর চলতে থাকে নৃশংসতা। রক্তাক্ত নিথর দেহটি রাস্তার মাঝখানে ফেলে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে চলে ভয়াবহ উন্মত্ত উল্লাস। একজন নয়, একাধিক যুবক লাশের নাক-মুখে এবং বুকের ওপর একের পর এক আঘাত করে যেতে থাকে। ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আতঙ্কিত অনেক লোকজন ভিড় করে তাকিয়ে কী যেন একটা ঘটনা দেখছেন! কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, সোহাগের অর্ধবিবস্ত্র নিথর দেহ দুই তরুণ টেনেহিঁচড়ে রাস্তার মাঝখানে নিয়ে আসে। ওই সময় আশপাশে শত শত লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। ভিডিওতে দেখা যায়, নিথর দেহ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসা লোকদের মধ্যে একজন মোবাইলে কথা বলছিল। ওই সময় দুই হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকা সোহাগের রক্তাক্ত মুখের ওপর কিলঘুষি দিতে থাকে আরেকজন। অন্য এক তরুণ দৌড়ে এসে পড়ে থাকা নিথর দেহের বুকের ওপর লাফাচ্ছিল! মানুষজনও দেখছিল এমন ভয়ংকর দৃশ্য। প্রকাশ্যে কেন এই নৃশংসতা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসার সঙ্গে পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তার দোকানের নাম সোহানা মেটাল। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের কাছে। তবে নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু নামে আরও দুজন। তারা অনেকটা ওই অবৈধ বাণিজ্যের ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল। তা না হলে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা। এর জেরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বে ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন সোহাগকে তার দোকান থেকে ডেকে আনা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সোহাগ ও হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মহিন, টিটুসহ জড়িত অন্যরাও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিত এবং স্থানীয়ভাবেও তাদের সবাই যুবদলের নেতা বলে জানে। তবে সংগঠনে তাদের কোনো পদ রয়েছে কি না, পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী, আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার মূলহোতা মহিনকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেক আসামিকে যৌথ বাহিনী আটক করেছে। নিহতের ভাগ্নি মীম আক্তার জানান, তার মামার পরিচিত লোকজনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার মামা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসা করতেন। কিন্তু টিটু, মহিনসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন এই ব্যবসায় ভাগ বসাতে চাচ্ছিল। ওই প্রতিপক্ষের লোকজনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, খুনিরা সোহাগের কাছে ব্যবসার ৫০ শতাংশ অংশীদার দাবি করেছিল। নইলে লাভের ৫০ শতাংশ চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে ওই গ্রুপটি কয়েকদিন আগে তার মামাকে হত্যার হুমকিও দেয় এবং তিন দিন তার দোকান খুলতে দেয়নি। নিহতের অন্য এক স্বজন জানান, বুধবার দুপুরে টিটু সোহাগের বাসায় খাওয়া-দাওয়া করে। ভাত খাওয়ার সময় টিটু সোহাগকে বলে সব মিটমাট করে ফেলবে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই যেন ব্যবসা করা যায়, সেজন্য সবার সঙ্গে বসে একবার কথা বললেই হবে। এই কথা বলে টিটু সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করা ৪০ থেকে ৫০ জন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের এডিসি আমিনুল কবির তরফদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হলো সাত খুন মামলার তারেক সাঈদকে সেনাপ্রধানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের সাক্ষাৎ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র মোকাবিলার ঘোষণা আইফোন চুরির অপবাদে যুবককে মারধর, মাথার চুল কর্তন দুই মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের ক্লাবে কোহলি, শচীনকে টপকে দ্রুততমের রেকর্ড টিআইবি: দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত বাজার থেকে নিখোঁজ, সকালে মিলল লাশ: বান্দরবানে গহিন পাহাড়ে যুবককে নৃশংস হত্যা মুদি দোকানে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, বাইরে বের হতেই দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা অসুস্থ অবস্থায় একবছর কারাবন্দি: জামিনে মুক্তির একমাস পরে মৃত্যু সাংবাদিক আজহারের প্রবাসী জামায়াত কর্মী ফুফার স্ত্রীর বিছানায় পুত্রের হাতে আটক শিবির নেতাকে হাঁসুয়ার কোপ, বাড়িতে আগুন দুই পরাশক্তির স্বার্থের ফাঁদে রূপপুর: সাশ্রয়ী রুশ মডেল বনাম ব্যয়বহুল মার্কিন প্রযুক্তি- কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ? ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরেই ভারতের জার্সি তুলে রাখছেন কোহলি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ পড়া প্রাথমিকের শিক্ষকদের ৫ দফা দাবিতে মাঠে নামার ঘোষণা সাফ টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাতে পারে ভারত পদ্মা সেতুকে ঝুঁকিতে ফেলে সাড়ে ৬ কোটি ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি পেল গায়েবি প্রতিষ্ঠান! প্রতি মাসে মিলছে গড়ে ৫৭টি অজ্ঞাত মরদেহ, শনাক্ত করা যাচ্ছে না যথাযথভাবে গ্যাস-বিদ্যুতে ভর্তুকির হিসাব মিলছে না, ২ মাসেই উধাও বরাদ্দের ৬০ ভাগ অর্থ কিয়েভে রাশিয়ার হামলা, লক্ষ্যবস্তু ডাটা সেন্টার; ইন্টারনেট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ইউক্রেন