নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আন্দোলন-বিপ্লবে পড়াশোনায় ভাটা: ১৫ বছরের সর্বনিম্নে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার
ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৩০
জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ, উত্তেজনা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের ৫ ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ
ছাত্রলীগ-কে মবযোগ্য/হত্যাযোগ্য করে তোলা জুলাইয়ের ‘কালচারাল বয়ান’ এবং অতঃপর……
যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, তানভীর আহ্বায়ক
ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের গোপন ভিডিও করা ক্যান্টিনকর্মী আটক, বিক্ষোভে উত্তাল খুবি
তিন ধাক্কায় নাজুক এসএসসির ফল
মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশের সময়ই মহামারি করোনার ধাক্কা, নবম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের চাপ এবং সরকার পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা সংস্কারের মধ্যেই ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা ফলাফল হাতে পেয়েছে। তাদের পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই ব্যাচটি পরীক্ষা দিতে বসেছে। দশম শ্রেণিতে কারিকুলাম পরিবর্তন, করোনার ফলে ভিত্তিমূলক শিক্ষায় ঘাটতি এবং দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবারের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
কোনো কোনো সময় শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে বসার মতো পরিবেশও পায়নি।
এছাড়াও সিসিটিভি ও বডি ওয়ার্ন ক্যামেরাসহ নকল প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করছেন তারা।
তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গুণগত মানের পরিবর্তনই মুখ্য বিষয়। সরকারকে সেদিকে নজর দিতে অনুরোধ করেছেন তারা।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন।
সরকারের দাবি, এবার কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়িয়ে ফলাফল ভালো দেখানোর সুযোগ ছিল না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে উত্তর দিয়েছে, সে অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব জায়গায় দুর্বলতা আছে সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, আমাদের বোর্ডে পাসের হার কমেছে, কিন্তু জিপিএ-৫ বেড়েছে। যেভাবে লিখেছে, সেভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে। কোনো বৈষম্য করা হয়নি।
এবারের ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম। তিনি এবারের ফলাফলের পেছনে সরকারের শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর পরিকল্পনা, দশম শ্রেণিতে কারিকুলাম পরিবর্তন, নকল না করতে দেওয়ার চেষ্টা ও করোনার কারণে ভিত্তিমূলক শিক্ষায় দুর্বলতাকে প্রভাবক হিসেবে দেখছেন।
ফলাফল
তিনি বলেন, শতাংশিক হারে শিক্ষার গুণগত মানের কোনো বিচার করা যায় না। ফলে পাসের শতাংশ কম না বেশি, তা বিষয় নয়। শিখন ফলের অর্জন কতটা হচ্ছে, তা মূল বিষয়। শতাংশিক হারে যে ফল এসেছে, তার সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মানের কোনো সম্পর্ক নেই। ফ্যাসিস্ট আমলে ওভারমার্কিং, মূল্যায়নের ওপর নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ থাকত, এবার সেরকম কোনো নির্দেশনা নেই। একজন শিক্ষার্থী যেমন শিখেছে, তেমন নম্বরই পাবে; এবারের ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে হয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী নিজে বোর্ডের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ফলাফল ভালো এবং সন্তোষজনক। আমাদের এখানে বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের ছাত্ররা ভালো করেছে। কিন্তু মানবিকের শিক্ষার্থীরা একটু খারাপ করেছে। এজন্য সার্বিক ফল খারাপ হয়েছে। আর ইংরেজি ও গণিতে খারাপ হওয়ায় ফল একটু খারাপ হয়েছে। প্রশ্ন স্ট্যান্ডার্ড হয়েছিল। দুর্বল ছাত্রদের কাছে কঠিন মনে হলেও মেধাবী ছাত্রদের কাছে সহজ ছিল।
অন্যদিকে ফলাফলকে সামগ্রিকভাবে বেশ হতাশাজনক বলছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কেন এই হতাশাজনক ফল হলো, তার পেছনের কারণটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। ১৯ বছরের মধ্যে পরপর দুই বছর ফল খারাপ হলো। কিন্তু ২০২২, ২৩, ২৪ সালে দেখা যায়, ফলাফল ৮০ শতাংশের ওপর ছিল। এবার কেন খারাপ করল, তা আমাদের খতিয়ে দেখা দরকার।
এর পেছনের কারণগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে দুটি-তিনটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভিত্তিমূলক শিক্ষায় একটা গ্যাপ ছিল। বিশেষ করে কোভিডের পর বাচ্চাদের শিখন ঘাটতি হয়ে আসছিল। পরে তারা পাবলিক পরীক্ষা দিল এবং ফল খারাপ হলো। দ্বিতীয়ত, বোর্ডগুলো থেকে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে ফেল করেছে। আমাদের সরকারের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও দেখলাম ইংরেজি ও গণিতে তারা ক্রমেই খারাপ করছে। তার একটা প্রতিফলন এখানে দেখা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, কিছু প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আলোচনা করা দরকার। যেমন ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। দেখা যাবে, গত বছরও এই প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। সেখানে হয়তো শিক্ষার মান খারাপ বা শিক্ষকদের অবস্থা ভালো নয়।
এডুকেশন ওয়াচের এই গবেষক বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নকল প্রতিরোধসহ নানা কথাবার্তায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিল, বাচ্চাগুলো ট্রমাটাইজড হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরা যেহেতু আমাদেরই সন্তান, এদের নিয়ে সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে। হয় তাদের সেকেন্ড চান্স এডুকেশনের সুযোগ দিতে হবে, যেন তারা আগামীতে পাস করতে পারে। অন্যদিকে যারা সিস্টেম থেকে ড্রপআউট হয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে টেকনিক্যাল বা ভোকেশনাল এডুকেশনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। উদ্যোগ না নিলে তারা আমাদের জন্য বোঝায় পরিণত হবে, রাস্তার কিশোর গ্যাং তৈরি হবে এবং সমাজ থেকে ঝরে যাবে।
নতুন কারিকুলাম, পুরোনো সংকট, সঙ্গে সরকার বদলের পরিস্থিতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, যে শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে ছিল। সেসময় তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের নতুন কারিকুলামে পড়েছে। আবার দশম শ্রেণিতে এসে আমরা চলে গেলাম ২০১২ সালের কারিকুলামে। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একইসঙ্গে, এই শিক্ষার্থীরা করোনার সময় হাইস্কুলে মাত্র প্রবেশ করেছিল। তাদের মৌলিক বা ভিত্তিমূলক শিক্ষারও দুর্বলতা রয়েছে।
এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহারও শিক্ষাব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম। তার মতে, এর ফলে নকল না করার ম্যাসেজটাও কিন্তু শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে গেছে। সিসিটিভি থাকার কারণে অন্য যেকোনো কিছু করা কঠিন ছিল। তবে এটাও সত্য যে, তাদের শিখন ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে করোনার সময় তারা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে পারেনি। এটা ফলাফলের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।
ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাবের হোসেন বলেন, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ সবসময়ই ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। তবে এবারের ব্যাচটির পেছনের গল্প কিছুটা ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পরই করোনা মহামারির মুখোমুখি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে ওঠার পর নতুন শিক্ষাক্রম চালু হওয়ায় তাদের পড়াশোনায় বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়েছে।
পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, এই শিক্ষার্থীরা নবম শ্রেণিতে এক সিলেবাস পড়েছে, দশম শ্রেণিতে আরেক সিলেবাস। এতে একটা প্রভাব পড়েছে। আর মানবিকের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে খারাপ করায় ফল খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি তারা মাধ্যমিক শ্রেণিতে ওঠার সময় করোনার ধাক্কা এবং গত দুই বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
ফলাফলকে ‘খারাপ’ বলতে নারাজ শিক্ষামন্ত্রী
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। ফলাফলের এই পতনের কারণ নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অবশ্য ফলাফলকে ‘খারাপ’ বলতে নারাজ। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়াশোনা করেছে, সেভাবেই ফল পেয়েছে। সুন্দর রেজাল্ট হয়েছে।
ফলাফলের নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছে, সেটিই দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের মানবিক নম্বর বা কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ির কারণে শিক্ষকরা নম্বর দিতে সংকোচ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য, ‘মন খুললে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না।’
অতীতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবারের পরীক্ষায় মূল্যায়ন ছিল আগের তুলনায় কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক। শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমীন বলেন, পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র, সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ওয়ার্ন ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, অতীতে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ ও পাসের হার বাড়ানোর যে সংস্কৃতি ছিল, সরকার সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে।
৩১২ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস
এবার ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এ নিয়ে সরকারের করণীয় জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
তিনি জানান, অতীতেও শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা হয়েছিল। এবারও ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ফল প্রকাশের দিনই তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা ঘোষণা না করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর জন্য একটি সিস্টেম রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াতেই কাজ করা হবে।
ইংরেজি-গণিতে দুর্বলতা
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজিতে পাসের হার সবচেয়ে কম। এই বিষয়ে সব বোর্ড মিলিয়ে ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এই বিভাগে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে বরিশালেও ইংরেজিতে পাসের হার কম।
গণিতেও পাসের হার কম। সব বোর্ড মিলিয়ে ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী গড়ে পাস করেছেন। এখানেও সবচেয়ে খারাপ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এই বিভাগে পাস করেছে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৭৭ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, এটি বছরের পর বছর ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতি। এতদিন আমাদের শিক্ষক নিয়োগ, স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে। সনদপত্র জালিয়াতি হয়েছে। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরে নষ্ট করে ফেলেছে। এটির পরিবর্তন করতে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল খারাপ হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাদ্রাসার ফল খারাপ হওয়ার বিষয়টি তিনি ওই মুহূর্তেই জানতে পেরেছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
সামগ্রিক পরিবর্তনে কাজ করছে সরকার
সরকারের দৃষ্টিতে এবারের ফলাফল শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়। শিক্ষার্থীরা প্রকৃত মেধা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়েছে কি না, সেটিকেই বড় বিষয় হিসেবে দেখছে সরকার।
তারা দীর্ঘদিনের ভেঙে পড়া কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভেঙে পড়া শিক্ষা কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। একদিকে একাডেমিক কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম যুক্ত করার কাজ চলছে।
তার মতে, দীর্ঘ সময়ের সংকট কয়েক মাসে পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, যারা ভালোভাবে পড়ালেখা করেছে, তারাই ভালো ফল করেছে। সার্বিকভাবে ফলাফল ভালো হয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।