সিসা লাউঞ্জে অভিযান ঘিরে লঙ্কাকাণ্ড – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১৭ মে, ২০২৫
৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
131 ভিউ

সিসা লাউঞ্জে অভিযান ঘিরে লঙ্কাকাণ্ড

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ মে, ২০২৫ | ৮:৩৭ 131 ভিউ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক্স) সিসাবিরোধী বিশেষ অভিযান ঘিরে রীতিমতো লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। রাজধানীর বনানীতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শেষরাত পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এতে খোদ নারকোটিক্স মহাপরিচালকসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ সিসা, হুঁকা (সিসা সেবনের উপকরণ) এবং মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। সূত্র জানায়, বহৃস্পতিবার নারকোটিক্স মহাপরিচালক হাসান মারুফ সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য একাধিক টিম গঠন করে দেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে হাজির হন। নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযানকারী দলের সদস্যরা বনানী ১১ নম্বর রোডে অবস্থিত হেইজ নামের একটি সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাইরে থেকে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রেখে ভেতরে সিসা সেবনের আসর বসানো হয়েছিল। একপর্যায়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর সেখানে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখা যায়। চিত্রজগতের উঠতি মডেল, নায়িকাসহ শতাধিক তরুণ-তরুণীকে রীতিমতো বেসামাল অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের কেউ কেউ মদ্যপ ছিলেন। লাউঞ্জের একটি কক্ষে কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে সিসা সেবন করতে দেখা যায়। মধ্যরাতে সেখানে অভিযান দলের উপস্থিতি দেখে তারা রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে মারমুখী হয়ে ওঠেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে কয়েকজন তরুণীকে নিয়ে তারা ৬ জন সিসা সেবন করছিলেন। আকস্মিক সেখানে নারকোটিক্সের উপস্থিতি দেখে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এমনকি অভিযান টিমের সদস্যদের তারা মারতে উদ্যত হন। পরে খবর পেয়ে নারকোটিক্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তাও দোভাসীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে রাতেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। নারকোটিক্স জানায়, হেইজ সিসা লাউঞ্জ রাজধানীর সব থেকে বড় এবং কুখ্যাত মাদক স্পট হিসাবে পরিচিত। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর সঙ্গে জড়িতরা ব্যাপক ক্ষমতাধর হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ফলে এতদিন তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার অভিযান চালানোর পর প্রতিষ্ঠানটির ১২ জন মালিকের সবার নাম উল্লেখ করে বনানী থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিরা হলেন-কাজী মোহাম্মদ সামি, নাজমুল সাকিল, চৌধুরী গোলাম আনাস, মোহাম্মদ আম্মার, মুফরাত হাসান ওরফে বান্টি, আল রহমান, সাদমান হোসেন, সাকিব হোসেন, সৈয়দ মুহাম্মদ তাহমিদ আহসান ও আহমেদ মোস্তফা ওরফে রাসেল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম ওরফে জসিম এবং ইমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযানের পর সেখান থেকে ২৬টি হুঁকা, সাত কেজি আমদানি নিষিদ্ধ সিসা ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাতে বনানী ১১ নম্বর রোডের ৫০ নম্বর বাড়ির ১৩ তলায় অবস্থিত সিগনেচার লাউঞ্জ নামের আরেকটি কুখ্যাত সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালানো হয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগে সেখান থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে নারকোটিক্স। তারা হলেন-স্বপন মিয়া, শাকিল, সিয়াম ও আ. রায়হান। এছাড়া তারেক জামিল নামের এক আসামি পলাতক রয়েছেন। সিগনেচার লাউঞ্জ থেকে পাঁচ কেজি সিসা, সিসা সেবনের কাজে ব্যবহৃত ২০টি হুঁকা এবং কয়েক বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। সূত্র জানায়, অভিযানে নারকোটিক্স মহাপরিচালক হাসান মারুফ ছাড়াও পরিচালক অপারেশন অতিরিক্ত ডিআইজি বশির আহমেদ, অতিরিক্ত পরিচালক গোয়েন্দা মোহাম্মদ বদরুদ্দীন, ঢাকা মেট্রো উত্তর এবং দক্ষিণের উপপরিচালক শামীম আহমেদ ও মানজুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান (উত্তর) এবং আব্দুল হামিদসহ (দক্ষিণ) অন্তত ৩৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। নারকোটিক্সের এমন শক্ত উপস্থিতি দেখে গুলশান ও বনানী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা দিগ্বিদিগ ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ তড়িঘড়ি আস্তানা বন্ধ করে পালিয়ে যান। অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বাইরে নিকোটিন পাওয়া গেলে সিসা মাদক হিসাবে চিহ্নিত। সিসার বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে আমরা সিসা লাউঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর বিরুদ্ধে আমাদের টানা অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রসঙ্গত, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে গজিয়ে ওঠা সিসা লাউঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অথচ নানা সীমাবদ্ধতার অজুহাতে এতদিন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি নারকোটিক্স। বিভিন্ন সময় লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও গ্রেফতারের আগেই জড়িতরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে ফের তাদের অপতৎপরতা শুরু হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, সিসায় দুই শতাংশের বেশি নিকোটিন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তা মাদক হিসাবে চিহ্নিত হয়। কিন্তু লাউঞ্জগুলোতে অতি উচ্চমাত্রার নিকোটিনযুক্ত সিসা পরিবেশন করা হয়। এতে তরুণ-তরুণীদের একটি অংশ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বকাপে মাইলফলকের সামনে মেসি গ্রুপ পর্বে নেইমারের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা খুব কম: ব্রাজিলের গণমাধ্যম লেবাননে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে, ইসরাইলের সমালোচনা ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা হত্যা মামলায় ড. আবুল বারকাতের জামিন প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতে টেলিগ্রাম সাময়িক বন্ধ নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা শরিফ লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর সভাস্থল ঘিরে আ.লীগের বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ যুবলীগ নেতার হাত-পা ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা ‎আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের ২ যুবক নিহত বিআরটিএর ওয়েবসাইট ক্লোন: এআই ক্যামেরার ভুয়া মামলায় গচ্চা লাখ লাখ টাকা, বিদেশি চক্রের ফাঁদ এইচএসসিতেও থাকছে সিসিটিভির নজরদারি: সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন নির্দেশনা জারি বৃথা গেল শরিফুলের ৬ উইকেট, কনোলির প্রথম সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর জয় ইন্টারপোলের রেড নোটিশে নেই বেনজীর আহমেদের নাম, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ দিতে চাওয়া সেই সোহাগ পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার টেকনাফে মাটির নিচে ‘বারুদের স্তূপ’: টেকনাফে মাটির তলদেশ থেকে ১০টি তাজা গ্রেনেড ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার খুলনায় মসজিদে সশস্ত্র হামলা: চাঁদাবাজি নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা? তদন্তে পুলিশ মৌলবাদীদের পথেই হাটলেন মন্ত্রী পরিষদঃ প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রীপরিষদের অসন্মতি