যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ৮ September, ২০২৬
৯:২২ am
97 ভিউ

যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ September, ২০২৬ | ৯:২২ 97 ভিউ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) প্রকাশিত জানুয়ারি-জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ফলে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে জুলাই মাসের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি ২ লাখ ডলারের, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার এখানে সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের রপ্তানি কমার দাবি ও উল্লিখিত অঙ্ক পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অটেক্সার হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী ছিল ভিয়েতনাম। দেশটি থেকে আমদানি ৯৪৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে কমে ৯৩৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের রপ্তানি ৬৯২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার থেকে কমে ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলারে নেমেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ২৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৬২ কোটি ১১ লাখ ডলার। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার পেছনে বৈশ্বিক চাহিদা কমার পাশাপাশি দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা সামগ্রিকভাবেই কম পোশাক আমদানি করেছেন। ফলে এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারকদের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। তবে সাত মাসের হিসাবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার বৈশ্বিক আমদানি কমার তুলনায় কম হলেও জুলাইয়ের প্রায় ১১ শতাংশ পতন উদ্বেগজনক। মহিউদ্দিন রুবেলের আশঙ্কা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হলে আগামী মাসগুলোতেও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় বাজার ধরে রাখতে নতুন কৌশল, মূল্য প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও গ্যাস সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে ২১ জুলাই থেকে তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রায় বন্ধ ছিল। ফলে প্রয়োজনীয় কাপড় না পাওয়ায় পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে। সংখ্যার হিসাবেও কমেছে রপ্তানি পোশাকের সংখ্যার হিসাবেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ১৫২ কোটি ৯৭ লাখ পিস পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার পিস। অর্থাৎ পোশাকের পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। শুল্কনীতির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পর গত বছরের ৩১ জুলাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শুল্কহার পুনর্র্নিধারণ করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। পরে শুল্কনীতি নিয়ে আরও পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের পর নতুন করে সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয় এবং পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এরপর গত ২৫ জুলাই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের জন্য এ হার ১০ শতাংশ।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ভারতে ক্যানসার ওষুধের দাম কমতে পারে ৭০ শতাংশ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছেই গেল এনসিটি রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি ১০ দিনে চেলা নদীর পাড় কেটে ২৫ লাখ ঘনফুট বালু খেয়ে নিল বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ১০ এয়ারবাস ক্রয়ের চুক্তি করলো বিমান; অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কায় বিশ্বব্যাংক-এডিবি ২০ হাজার শ্রমিকের উদ্বেগ-প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ১৫ বছরের চুক্তি সম্পন্নঃ DP World-এর হাতে তুলে দেয়া হলো এনসিটি ‘সবকিছু যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে দিয়েছি ধরে নেবেন না’- ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কড়া জবাব ​‘উত্তেজনার বশে মামলা করেছিলাম’: ভুল স্বীকার করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা তুলে নিলেন বাদী কফিল উদ্দিন দিলারা চৌধুরী এবং তার স্বামীর বঙ্গবন্ধুবিরোধিতা ও ইতিহাস বিকৃতি’র শেকড় ১৯৭১-এ প্রোথিত অর্থনীতির বেহাল দশা, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুকিতে দেশঃ অথচ দেশে আসছে কোটি টাকার চোরাই BMW স্পোর্টস কার সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথি হামলা: নিহত ৩, আহত ৩৬; আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি রামপালে ৪৪২ মে:ও: সৌরবিদ্যুৎঃ উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সৌদি বিনিয়োগ আওয়ামীলীগ আমলেই; জানালেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিন্দু পরিচয়ের কারণে ইউনূস আমলে পাসিং আউট প্যারেডের আগে নেভাল একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত হন পৃথ্বী নন্দী ধর্মের নামে শিশুকে ভয় দেখানো, নির্যাতন-কে শিশুর মানসিক ক্ষতির কারণ বলছে জাপান সরকার বাণিজ্য চুক্তি ও বিলিয়ন ডলারের ক্রয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট, জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র জলপরী দেখতে চলল পুজো-অর্চনা, জালে মিলল সিলভার কার্প মাছ এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায় নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন অক্টোবরে দিনে আক্রান্ত ২০৯৯, মৃত্যু ৭ জন