জাহেলি যুগে আরবের দীর্ঘতম যুদ্ধ – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
147 ভিউ

আরও খবর

জাহেলি যুগে আরবের দীর্ঘতম যুদ্ধ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | ৯:৫৪ 147 ভিউ
ইসলাম আবির্ভাবের আগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। ক্ষুদ্র কোনো ঘটনা কেন্দ্র করেও বেধে যেত দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। জাহেলি আরবের এমন একটি যুদ্ধের নাম ‘বাসুস যুদ্ধ’। ইসলাম-পূর্ব যুগে সংঘটিত এ যুদ্ধ ছিল আরব গোত্রগুলোর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম ও ভয়াবহ সংঘাত, যা টানা ৪০ বছর ধরে চলে। এ যুদ্ধ মূলত সংঘটিত হয়েছিল বকর গোত্র ও তাগলিব ইবনে রাবিআহ গোত্রের মধ্যে। যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে তাগলিব গোত্রের প্রধান কুলাইব ইবনে রাবিআহকে কেন্দ্র করে। কুলাইব ছিলেন প্রভাবশালী ও মর্যাদাবান শাসক। তার স্ত্রী ছিলেন জালিলা বিনতে মুররাহ, যার বংশধারা বকর গোত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একদিন কুলাইব স্ত্রী জলিলাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আরবদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যার মর্যাদা আমার চেয়ে বেশি?’ জলিলা অকপটে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, আমার ভাই জাসসাস ও হাম্মাম।’ স্ত্রীর এ জবাবে কুলাইব প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। ক্রোধে তিনি ধনুক হাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং দেখতে পান যে, বাসুসের একটি উট তার নিষিদ্ধ জমিতে চরছে। হঠাৎ তিনি উটটিকে হত্যা করেন। উট হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাসুস ক্ষুব্ধ ও শোকাহত হয়ে তার ভাগ্নে জাসসাস ইবনে মুরাহর কাছে ধরনা দেন। তিনি জাসসাসকে প্রতিশোধ নিতে অনুরোধ করেন। জাসসাসও প্রতিশ্রুতি দেন, ‘আমি উটের বাচ্চা নয়, উটের চেয়েও বড় কিছু হত্যা করব।’ অতঃপর জাসসাস তার সঙ্গী আমর মুজদালিফকে নিয়ে কুলাইবের সামনে হাজির হন। প্রথমে তিনি কুলাইবকে বাসুসের উট হত্যার জন্য ভর্ৎসনা করেন। কিন্তু কুলাইব নীরব থাকেন। একপর্যায়ে জাসসাস বর্শা হাতে আক্রমণ করে কুলাইবকে হত্যা করে বসে। এই হত্যাকাণ্ড দুই গোত্রের মধ্যে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা করে। এ যুদ্ধ ইতিহাসে ‘বাসুস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত হয়। কারণ, বাসুস বিনতে মানকার ছিলেন জাসসাসের খালা, যিনি তার ক্রন্দন, আহাজারি ও কবিতার মাধ্যমে প্রতিশোধের দাবিকে আরও উসকে দিয়েছিলেন। বলা হয়, তার আর্তনাদ ও অভিশাপই গোত্রদ্বয়ের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যা পরবর্তী চার দশক ধরে নেভেনি। কুলাইব হত্যার পর বকর ও তাগলিব গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ৪০ বছর ধরে এ দুই শক্তিশালী গোত্র একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এ সময়ে দফায় দফায় ছয়টি বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব দীর্ঘ যুদ্ধ অসংখ্য প্রাণহানি, ধ্বংস ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনে। গোত্রদ্বয়ের মধ্যে প্রতিশোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটাই গভীর হয়েছিল যে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর ক্ষত বহন করেছে। অবশেষে হালাক আল-লামার নামে পরিচিত চূড়ান্ত যুদ্ধের পর হিরার রাজা মুন্দির ইবনে মাআসসামারের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, এ মীমাংসায় মধ্যস্থতা করেছিলেন হারিস ইবনে আমর কিন্দি। এভাবেই আরব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটে। বাসুস যুদ্ধ গোটা আরব সমাজে প্রতিশোধের সংস্কৃতি ও গোত্রীয় মর্যাদাবোধের ভয়াবহতা তুলে ধরে। একটি উট হত্যার মতো তুচ্ছ ঘটনা কীভাবে চার দশকের রক্তপাত ডেকে আনতে পারে, তারই শিক্ষণীয় উদাহরণ। ইতিহাসের এ অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিহিংসা ও গোঁড়ামি সমাজে শুধু ধ্বংসই বয়ে আনে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মরিয়মের মৃত্যুতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজ হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গণিতের ছাত্রী আটক, পাচার করতেন পায়ুপথে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুরু: দক্ষিনাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জামায়াতের লং মার্চ দেখানোর নাম করে ভাবীকে নিয়ে পালালেন এনসিপির আহ্বায়ক! দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস চরমে নিম্ন আয়ের মানুষেঃ তবুও কোথাও দেখা মিলছে না ‘টিসিবির ট্রাকসেল’ জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, এখানে অন্যায়টা কোথায়?- অদ্ভুত যুক্তি বিএনপির এমপি বাবুলের! কর্মীরা দেশে লংমার্চে, জামায়াতের ৩৪ এমপির পরিবারসহ ৭১ জনের ৫ দেশে বিলাসী সফর! অসহায়-হতদরিদ্রের সেলাই মেশিন পেলেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী-বিএনপির নেত্রী‍! বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: ১০ কোটি টাকার সেতুতে গভীর রাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই! মসজিদে সোফা-টেবিল বসিয়ে সভা: সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার অনুষ্ঠান নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক ধামরাইয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মহিলা দল নেত্রীর পাহাড়ে নির্মম খুন: কক্সবাজারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা যুবলীগকর্মীকে ধরতে গিয়ে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা জামায়াতের সাংসদের সাথে গোপনক্যামেরায় ধরা পরা মরিয়মের আত্মহত্যা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল দাবি, দেশবাসীর প্রতি যুবলীগের কৃতজ্ঞতা আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল নাম বদলে ‘উজ্জ্বল’ থেকে ‘আয়াস’: জুলাই চেতনার বড়ি বেচে চাঁদাবাজি-মবের হোতা পরীক্ষার সময় পায়খানায় ফোন ব্যবহারে নকল, ঢাবির হল সংসদের শিবির নেতার সাজা তেজগাঁও কলেজের মসজিদের ভেতরে জঙ্গিদের গোপন বৈঠক থেকে আটক ২৩ মানবতার লজ্জাজনক পরাজয়: ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর হলেও শুরু হয়নি বিচার