বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা – বর্ণমালা টেলিভিশন

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ | ৬:৫৪ 105 ভিউ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি আজ গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার নানা দেশে বসবাসরত এই প্রবাসীরা দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কামনা করছেন। তাদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রবাসীদের জীবন, আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। প্রতি বছর প্রায় ২.৫ কোটি বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসী নাগরিক দেশকে পাঠান বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা দেখে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যদি দেশে স্থিতিশীলতা না থাকে বা রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, তবে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশে যদি শান্তি না থাকে, রাজনীতি নিয়ে সংঘাত চলতে থাকে—তাহলে প্রবাসীরা মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়ে। এতে দেশের প্রতি আস্থা কমে যায়, রেমিট্যান্সও প্রভাবিত হয়।” একই কথা বলেন প্রবাসী মিজানুর রহমান, “আমরা দেশের উন্নয়ন চাই। কিন্তু যদি প্রতিদিন রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়, জ্বালাও-পোড়াও হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন কিভাবে হবে?” বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রবাসীদের আগ্রহও ব্যাপক। নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বহু বছর ধরেই বিদেশে বসবাসরত নাগরিকরা চেয়েছিলেন যেন তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার, অর্থাৎ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। দুবাইয়ে অবস্থানরত কামরুল হাসান বলেন, “প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়া মানে শুধু ভোট দেওয়া নয়, এটি আমাদের দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ।” তারা আশা করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠিত হবে, যারা দেশ এবং প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করবে। প্রবাসীরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভর করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। তারা চান— আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন,দুর্নীতি দমন,প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি,বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, এবং প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান। আবুধাবি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা কষ্ট করে আয় করি দেশের জন্য। কিন্তু চাই, সেই দেশের রাজনীতি যেন এমন হয় যে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—এটাই আমাদের বাংলাদেশ।” অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই দেশের আমদানি, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়। ফলে প্রবাসীদের মানসিক স্বস্তি ও আস্থা ধরে রাখা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতি অস্থিতিশীলতা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবাসীদের চোখ এখন বাংলাদেশের দিকে। তারা আশা করেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ—যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশই হবে সেই স্বপ্নের দেশ, যার জন্য কোটি প্রবাসী বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, পরিবার ও মাতৃভূমির উন্নয়নে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন। লেখক: নওশের আলম সুমন, প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
“অনুপস্থিত আছি, কিন্তু নীরব নই”, দেশের মানুষের পক্ষে এখনও অটল-অবিচল শেখ হাসিনা ভিনিসিউসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটে ব্রাজিল “বুক-পেটে লাথি, রক্ত বমি ও নির্মম মৃত্যু”: সাতকানিয়ার যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশ ও কারা কর্মকর্তারা ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিল: পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীকে তুলে নিয়ে খাম্বায় বেঁধে পেটাল ধৈর্যহারা জনতা বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, খেলার স্বার্থেই হাইড্রেশন বিরতি দেওয়া হচ্ছে: ইনফান্তিনো মুখ ফিরিয়ে নিলো বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগীরা! ঋণ প্রতিশ্রুতিতে সায় মেলেনি, উল্টো বাড়ছে পরিশোধের চাপ দীর্ঘদিন পর ফের উত্তপ্ত পার্বত্যাঞ্চল: সেনাবাহিনী-সশস্ত্র সংগঠন সংঘর্ষে নিহত ১, স্থানীয়ভাবে সেনাসদস্য নিহতের দাবি হাওয়া ভবন বাজেট ১০১: বাজেটের “আকার” বেড়েছে কিন্তু “উকার” কমেছে ড. আসিফ নজরুল- আপনার এক অঙ্গে কতো রূপ? হোয়াটসঅ্যাপ না খুলেই হোম স্ক্রিন থেকে পাঠানো যাবে ভয়েস মেসেজ, কীভাবে? রক্ষণের দৃঢ়তায় ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা শুরু হলো ক্রোয়েশিয়া–পানামা ম্যাচ জোড়া গোলের পর রোনালদো বললেন, ‘আই এম ব্যাক’ ফুটবল মহাকাব্যের নায়কের জন্মদিন আজ চিংড়ির নামে পাতে সিলিকা বিষ ইউরোপে তীব্র গরম, দীর্ঘস্থায়ী ‘তাপ বলয়’ সৃষ্টির শঙ্কা হামলা-নাশকতাসহ নানা অভিযোগে আ.লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ আটক ৮৪ জুলাই যোদ্ধাদের রাজনৈতিক সুরক্ষা চান জামায়াতের নারী এমপি ১১ হত্যা মামলার চার্জশিট হয়নি কোনোটিরই