বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
129 ভিউ

আরও খবর

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ | ৬:৫৪ 129 ভিউ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি আজ গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার নানা দেশে বসবাসরত এই প্রবাসীরা দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কামনা করছেন। তাদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রবাসীদের জীবন, আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। প্রতি বছর প্রায় ২.৫ কোটি বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসী নাগরিক দেশকে পাঠান বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা দেখে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যদি দেশে স্থিতিশীলতা না থাকে বা রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, তবে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশে যদি শান্তি না থাকে, রাজনীতি নিয়ে সংঘাত চলতে থাকে—তাহলে প্রবাসীরা মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়ে। এতে দেশের প্রতি আস্থা কমে যায়, রেমিট্যান্সও প্রভাবিত হয়।” একই কথা বলেন প্রবাসী মিজানুর রহমান, “আমরা দেশের উন্নয়ন চাই। কিন্তু যদি প্রতিদিন রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়, জ্বালাও-পোড়াও হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন কিভাবে হবে?” বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রবাসীদের আগ্রহও ব্যাপক। নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বহু বছর ধরেই বিদেশে বসবাসরত নাগরিকরা চেয়েছিলেন যেন তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার, অর্থাৎ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। দুবাইয়ে অবস্থানরত কামরুল হাসান বলেন, “প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়া মানে শুধু ভোট দেওয়া নয়, এটি আমাদের দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ।” তারা আশা করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠিত হবে, যারা দেশ এবং প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করবে। প্রবাসীরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভর করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। তারা চান— আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন,দুর্নীতি দমন,প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি,বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, এবং প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান। আবুধাবি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা কষ্ট করে আয় করি দেশের জন্য। কিন্তু চাই, সেই দেশের রাজনীতি যেন এমন হয় যে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—এটাই আমাদের বাংলাদেশ।” অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই দেশের আমদানি, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়। ফলে প্রবাসীদের মানসিক স্বস্তি ও আস্থা ধরে রাখা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতি অস্থিতিশীলতা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবাসীদের চোখ এখন বাংলাদেশের দিকে। তারা আশা করেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ—যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশই হবে সেই স্বপ্নের দেশ, যার জন্য কোটি প্রবাসী বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, পরিবার ও মাতৃভূমির উন্নয়নে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন। লেখক: নওশের আলম সুমন, প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ এমপির বাড়ি লুটতে গিয়ে ‘শহীদ’ জুলাই কর্মীর পিতা সেপটিক ট্যাংকে পড়ে নিহত একটির খরচে ৫টি মেট্রোরেল- স্বপ্নই রয়ে গেল: দুই রুটের ব্যয় আওয়ামী আমলের দ্বিগুণেরও বেশি রাজধানীতে প্রকাশ্যে গোলাগুলি, নারীসহ আহত ৩; নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ হাঙ্গেরিতে চুরি করা বিমান নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার চেষ্টা, রুখে দিল যুদ্ধবিমান উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অযুহাতে ইউনূসের বন্ধ রাখা তেল বিদ্যুতকেন্দ্র গুলোতেই লোডশেডিং এর সমাধান খুঁজছে সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি: বাংলাদেশ বাড়াচ্ছে বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডার, নতুন চুক্তির ঘোষণা ভারতে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ১ কোটি কর্মসংস্থানের সরকারি মূলা ও বাস্তবতা: বিশ্বব্যাংক বলছে কর্মহীন হবেন ৬ লাখ মানুষ, বাড়বে দারিদ্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার ঘন্টা যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে ১৪ লাখ মানুষ আবেগঘন বার্তায় শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা: ‘টিকিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করেছি, পারলাম না’ বিষাদময় গ্রীষ্ম পার করার পর এখন মেসির সামনে কী? থার্ড টার্মিনাল: ৯৯.৯১% কাজ শেষ হলেও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৯০২ কোটি টাকা রাজনীতি থেকে ধর্ম- অনলাইনে মত প্রকাশে ভয়: ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা-বাকস্বাধীনতা নারায়ণগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর কিশোরী, নিখোঁজ অর্ধ শতাধিক ভেনেজুয়েলার তেল-সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্পের সন্তোষ প্রকাশ রাশিয়ার মিগ-২৯ থেকে চীনা জে-১০: গল্পটি সক্ষমতার, মিথ্যা এবং ধোঁকাবাজিরও বাণিজ্যে ভারত-নির্ভরতা বাড়ছেই, দুই বছরে বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট পায়রা ও আদানিকে রেকর্ড ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান: গত অর্থবছরে কেন এত বেশি দিতে হলো? একটির খরচে ৫টি মেট্রো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না: লাইন-২ রুটে খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের নামে এলজিবিটি কোটায় আবেদনের শীর্ষে পাকিস্তান, দ্বিতীয় বাংলাদেশ