ইরান আক্রমণ করে আইনি জটিলতায় ট্রাম্প, ভবিষ্যত কী – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইরান আক্রমণ করে আইনি জটিলতায় ট্রাম্প, ভবিষ্যত কী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ March, ২০২৬ | ৫:৫৫ 95 ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি অনুযায়ী পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছিল ইরান। বিষয়টি নিয়ে একরকম সমঝোতাও হচ্ছিল। এরই মধ্যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে শনিবার(২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরান আক্রমণ করে ইসরাইল। এতে অংশগ্রহণ থাকার কথা স্বীকার করে ওয়াশিংটন। এরপর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে যে, রিপাবলিকান সরকারের এই প্রধান আসলে দেশটির সংবিধান লঙ্ঘন করছেন কিনা। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্পের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়। গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিকভাবে বন্দি করার ঘটনার মতো আক্রমণগুলোও নির্বাহী কর্তৃত্ব এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একাধিক সূত্র জানায়, হোয়াইট হাউস জনসাধারণের কাছে কোনো আইনি যৌক্তিকতা উপস্থাপন করেনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেস সদস্যদের কাছে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেননি। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার অ্যান্ডার্স বলেন, ইরান আক্রমণ করে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। কারণ, যুদ্ধ ঘোষণা করার ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধে পাঠানোর কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে সংবিধান একদম স্পষ্ট—আর সেই কর্তৃত্ব কেবল কংগ্রেসের। অ্যান্ডার্স আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছ থেকে আগাম অনুমোদন না নিয়েই এই ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছেন। সংবিধানে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ আছে, কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা বা অনুমোদন করতে পারে। জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক এবং লিবের্টারিয়ান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের স্কলার ইলিয়া সোমিন বলেন, ‘এটি খুব স্পষ্টভাবে একটি যুদ্ধ। এ বিষয়ে আমার কথা বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই—ট্রাম্প নিজেই বলছেন এটি একটি যুদ্ধ। শনিবার ভোরে হামলা ঘোষণার বার্তায় প্রেসিডেন্ট বলেন: ইরানি শাসক গোষ্ঠী হত্যার নেশায় মত্ত। সাহসী আমেরিকান বীরদের জীবন বিপন্ন হতে পারে এবং আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। যুদ্ধে প্রায়ই এমনটা ঘটে, তবে আমরা এটি বর্তমানের জন্য করছি না। আমরা ভবিষ্যতের জন্য এটি করছি এবং এটি একটি মহৎ লক্ষ্য। যদিও কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা বা অনুমোদন করতে পারে, তবে ট্রাম্প ও অন্য প্রেসিডেন্টরা ক্রমাগত সংবিধানের 'আর্টিকেল ২'-এর কথা উল্লেখ করে আসছেন। এটি অনুযায়ী, বিদেশের মাটিতে মার্কিন জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের (কমান্ডার ইন চিফ) আছে। তাছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যাপক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে উদারতা দেখিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২৪ সালের দায়মুক্তি সংক্রান্ত রায়। হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সেই সময় বলেছিলেন, গত গ্রীষ্মে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, তখন আর্টিকেল ২-এর অধীনে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিশ্লেষণে রায়টি ভূমিকা রেখেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মাদুরোকে বন্দি করার মার্কিন সামরিক অভিযানকে আইনিভাবে জায়েজ করতে আংশিকভাবে আর্টিকেল-২ ব্যবহার করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ একটি গোপনীয় আইনি মতামত (পরবর্তীতে একটি পরিমার্জিত সংস্করণ) জারি করে জানিয়েছিল যে, বিদেশে আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প দেশীয় আইনে সীমাবদ্ধ নন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কী হবে একটি সূত্র জানায়, বিচার বিভাগের 'অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল'-এর মেমোতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, মাদুরো অভিযানের পরিধি, উদ্দেশ্য এবং সময়কাল সাংবিধানিক অর্থে 'যুদ্ধ' পর্যায়ের ছিল না, তাই কংগ্রেসের পূর্বানুমতির প্রয়োজন পড়েনি। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও পরিধি, উদ্দেশ্য এবং সময়কালের প্রশ্নটি উঠবে। ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় এ সামরিক অভিযানকে ‘বিশাল ও চলমান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুটি সূত্র অনুসারে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েক দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা করছে। নিজস্ব সুপ্রিম কোর্ট বিশ্লেষক ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল সেন্টারের অধ্যাপক স্টিভ ভ্লাডেক বলেন, বিচার বিভাগ এ ধরনের হামলাকে সমর্থন করার জন্য একগুচ্ছ বিতর্কিত যুক্তি হাজির করেছে। তবে সেই সব যুক্তির মূল ভিত্তি ছিল এই দাবি যে—হামলাগুলো সীমিত পরিসরের এবং এর কারণে ব্যাপক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। ভ্লাডেক আরও বলেন, এমনকি এটি যদি নীতিগত না হয়ে আইনি যুক্তিও হয়, তাহলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে একে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া কঠিন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা লিবিয়ায় বিমান হামলা চালাতে এবং ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরান ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আর্টিকেল-২-এর ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন। ২০১৮ সালে সিরিয়ায় বিমান হামলা বিষয়ে ট্রাম্পের বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল লিখেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের পুলিশ না হলেও, তার শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক স্বার্থের পরিধি বেড়েছে এবং বিদেশের বিশৃঙ্খলার কারণে জাতীয় স্বার্থের প্রতি হুমকিও বেড়েছে।’ এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনই বারবার ২০০২ সালের ইরাক যুদ্ধের অনুমোদনকে টানছে। আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগের একটি অনুমোদনকেও ৯/১১ পরবর্তী প্রেক্ষাপটের ধারণার বাইরে গিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন মার্কিন হামলা সম্পর্কে সোমিন বলেন, ‘আমার মনে হয় এর যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। ইরানি শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতাচ্যুত হলে আমি অবশ্যই চোখের জল ফেলব না। এটি একটি ভয়াবহ শাসন ব্যবস্থা, আমাদের শত্রু এবং আরও অনেক কিছু; কিন্তু এখানে যে যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে তা স্পষ্টতই অসাংবিধানিক।’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৬ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করে জামায়াত আমিরের বহুতল ভবন নির্মাণ পিরোজপুরে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতীদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও ওসি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম অটোরিকশা সংগঠনের ক্ষমতার দাপটে ফাউ খাওয়ার ধুম, বকেয়া টাকা চাইলে ক্যান্টিন বন্ধের হুমকি চবি ছাত্রদল নেতার ব্যানারে অতি ক্ষুদ্র অক্ষরে শেখ হাসিনা সরকারের শিক্ষকবিষয়ক স্লোগান: প্রধান শিক্ষক আটক, রাজনৈতিক মামলা সাংবাদিকতার কারণে রূপা-বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান অ্যামনেস্টির সুনামগঞ্জে চাঁদাবাজির সময় জামায়াতের রোকন ও দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধিকে গণধোলাই কুমিল্লায় বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-অগ্নিসংযোগ: যুবদল-ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা বাসা থেকে মব করে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শারমিনকে আটক, প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ ৬ মাসে অন্তত ১৮৭ শিশু যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, ১২৭ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে: মানবাধিকার সংস্থা জেএমবিএফের উদ্বেগ “তৃতীয় বিশ্বের নরক” থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধের বিল নিয়ে ন্যান্সি মেইস: ভাষা ও নীতি দুটোই বিতর্কের কেন্দ্রে, মার্কিন জনমত বাড়ছে পুঞ্জীভূত লোকসানে ২২ ব্যাংক, ক্ষতি ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা বোমা মেরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি “ভাত দে কাপড় দে, নইলে গদি ছাইড়া দে”- স্লোগানে প্রকম্পিত প্রেসক্লাব এলাকা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির পর এবার সিসিটিও তুলে দেওয়া হচ্ছে বিদেশিদের হাতে বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির পর ওসির ‘তৈলাক্ত’ পোস্ট: ‘আমিনুল স্যারকে আবারও আহ্বায়ক চাই’ এলপিজির দাম বাড়ানো হলো ২৫২ টাকা, বাজারে এমনিতেও পাওয়া যায় না সরকার নির্ধারিত দামে! বৈশ্বিক লিঙ্গ সমতা সূচকঃ ২০ বছরে বেড়েছিল ৮.৫ পয়েন্ট, এক বছরেই কমলো ৬.২; নারীর রাজনীতিতে ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ কমেছে ‘আউটসোর্সিং’ করে নরসিংদী থেকে ‘ফ্রিল্যান্সার’ ভাড়ায় এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পেঁয়াজের বাজারে: ‘আমরা দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ, দাম বাড়লে কীভাবে বাঁচবো?’