অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার – বর্ণমালা টেলিভিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ February, ২০২৬ | ৮:৩৪ 106 ভিউ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার ১৮ মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, পদ্ধতিগত দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসলীলার পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল এক ভয়াবহ অস্থির সময়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘রিফর্মস বুক’ বা সংস্কার তালিকায় সরকারের গত দেড় বছরের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা এক কথায় রাষ্ট্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি সাহসী ও কাঠামোগত প্রচেষ্টার দালিলিক প্রমাণ। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এই স্বল্প সময়ে ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন প্রণয়ন এবং ৬ শতাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যার ৮৪ শতাংশই ইতোমধ্যে কার্যকর। এটি কেবল সংখ্যার বিচার নয়, বরং রাষ্ট্রপরিচালনার মৌলিক স্তম্ভগুলো-প্রশাসন, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ‘ভাঙন’ সামাল দেওয়া ছিল এই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক খাতকে পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগগুলো অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের সংস্কারে যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, তা উল্লেখ করার মতো। র‌্যাবকে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ হিসাবে পুনর্গঠন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ১,২০০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া-জনগণকে দেওয়া জওয়াবদিহিতার প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জ্বালানি খাতে বিশেষ আইন বাতিল করে জনশুনানির মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চিন্তার প্রতিফলন। এছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য ও শ্রম অধিকারের মতো স্পর্শকাতর খাতে যে আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা সরাসরি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তবে ১৮ মাসে অর্জিত এই অগ্রগতি যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, জুলাই বিপ্লবের যে মূল চেতনা-বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন-তা বাস্তবায়নে এই কাঠামোগত সংস্কারগুলোই হবে মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সংস্কার যাত্রা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা হিসাবে পৌঁছায়, সেটাই হবে এ সরকারের চূড়ান্ত সাফল্য।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান, ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০ অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার সাগরে বসানো লাইটিং সিস্টেমে হানা প্রবৃদ্ধি আরও কমবে বাড়বে মূল্যস্ফীতি ফাঁকা শাহজালালের বহির্গমন টার্মিনাল কাজ করেনি সতর্কবার্তা সৌদিতে নতুন হামলা বিদ্যুৎ উৎপাদনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি রূপপুরে সোমবার বন্ধ থাকবে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ঢাকাসহ দেশজুড়ে স্মরণানুষ্ঠান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা কারাগার থেকে পালানো জঙ্গিদের নিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’, নিরাপত্তা উদ্বেগ ‘হেনস্তা নয়, ইউনূসের কাছে জবাব চেয়েছি’, দাবি বিক্ষোভকারীর ঋণমানের আউটলুক নেতিবাচক, নতুন বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা; ব্যাংকঋণ ও বিদেশি ঋণনির্ভর হচ্ছে সরকার গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায়ে চাপে ইউনূসঃ ক্ষমতায় থাকতে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড় ও ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে উঠছে স্বার্থের দ্বন্দ্বের প্রশ্ন যশোরে বাড়ির সামনে ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধ, লাঠির আঘাতে আহত শিল্পী সমু চৌধুরী ​চট্টগ্রামে কিশোরদের পর্ন বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও যৌন নিপীড়ন: যুবদল নেতা নুরুর ভয়াবহ অপরাধ উন্মোচিত নোবেল জয়ের ২০ বছরে ইউনূস: অভিনন্দনের দিনেও হামে শিশুমৃত্যু থামেনি, সরকারি হিসাবেই ১,১৭০ ছাড়ালো শিশু মৃত্যুর সংখ্যা কর্ণফুলী টানেল যেভাবে অকার্যকর করা হলো, ৩৩৬ কোটি টাকার বিকল্প সড়ক নির্মাণ- কেন? বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে আবার লুকোচুরি বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার কোথায়? তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করলেই গ্রেপ্তার—উঠছে অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন