শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ৭ November, ২০২৬
৮:২২ pm
5 ভিউ

আরও খবর

পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা

গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা

২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা

ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’

যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি

কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম

ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা

শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ November, ২০২৬ | ৮:২২ 5 ভিউ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে বিদ্যুতের খাম্বা তথা খুঁটি রেখেই নতুন করে নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। স্থানীয়দের বারবার আবেদন সত্ত্বেও সড়ক থেকে শতাধিক খুঁটি সরানো হয়নি। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের মূল চলাচলের জায়গায় থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলো দ্রুত সরানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে সড়কটি উদ্বোধনের আগেই খুঁটি সরাতে আবার নতুন অংশ কাটতে হবে কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি নতুন করে নির্মিত হলেও এর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলো পুরোনো। সদ্য নির্মিত রাস্তার মাঝখানে, চলাচলের অংশে এবং একেবারে কিনারে সারি সারি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। সড়কটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি, তাই বড় যানবাহনের নিয়মিত চলাচল শুরু হয়নি। তবে অটোরিকশাসহ স্থানীয় ছোট যানবাহন চলাচল করছে। সড়কের ওপর থাকা খুঁটিগুলো তাদের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের আলোতেও ছোট যানবাহনের চালকদের খুঁটি হিসাব করে পাশ কাটিয়ে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়কটি পুরোপুরি চালু হয়ে বড় যানবাহন চলতে শুরু করলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ, ঘোড়াশাল এবং আশপাশের এলাকার যোগাযোগের জন্য কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে নির্মাণকাজ চালানোর পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। কাজ শুরুর সময়েই খুঁটিগুলো সরানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করেছিল সওজ। খুঁটি স্থানান্তরের খরচ নির্ধারণ করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সওজকে টাকা জমা দিতে বলে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ফলে খুঁটিগুলো সরানো যায়নি। তবে সড়ক নির্মাণ থেমে থাকেনি: ঢালাইসহ কাজ এগিয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে, আর খুঁটিগুলো আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৫ সালেই খুঁটি সরানোর ব্যয়ের হিসাব সওজকে জানানো হয়েছিল। অর্থ জমা না পড়ায় তখন স্থানান্তরের কাজ শুরু করা যায়নি। এখনো টাকা না পেলেও সরকারি সড়কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। পল্লী বিদ্যুৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সড়কের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার অংশে পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের মূল অংশের ভেতরে পড়েছে। খুঁটি সরানোর আগে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের শর্ত দিয়েছিল পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাজেটে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য বরাদ্দ না থাকায় সওজ তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে পারেনি। ফলে খুঁটি রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের প্রায় ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচল নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খুঁটি এড়িয়ে যেতে গিয়ে চালকদের কখনো কখনো সড়কের বিপরীত পাশে চলে যেতে হচ্ছে; কোনো কোনো যানবাহন উল্টেও পড়ছে। তাদের দাবি, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কটি স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু খুঁটি না সরিয়ে কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই দ্রুত খুঁটি অপসারণ করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভোলাবো ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রেজাউল হক বলেন, সড়কের ওপর খুঁটি থাকায় পথচারী ও যানবাহন—দুই পক্ষেরই চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সড়ক তৈরি হলেও খুঁটি সরানো না হওয়ায় মানুষ এর সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছে না। তিনি দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণের আহ্বান জানান। কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মতে, রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে খুঁটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়, ফলে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, সড়কের মাঝখানে থাকা খুঁটিগুলো সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজের জন্য সমিতির নিজস্ব ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নয়টি খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন। সওজের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, খুঁটি সরানোর প্রয়োজনীয় বাজেট চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাজেট হাতে এলেই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যেই খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা