৫ আগস্টের পর পঙ্গু শিল্পখাত: ২ বছরে মোট কত কারখানা বন্ধ ও কত শ্রমিক হলেন বেকার? – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬
৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
1 ভিউ

আরও খবর

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত জারদারি, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ

১০-১২ বার লোডশেডিং: অন্ধকারে ডুবছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা

শেখ হাসিনার সময় বিরোধিতা করা হলেও এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ তারেক সরকারের

কৃষিমন্ত্রীর ‘উদ্বৃত্ত মজুদ’ দাবি অথচ সারের বাজার সিন্ডিকেটের দখলে, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ৬০০ টাকা

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে নতুন রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলো

পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা

সামনে বিএনপি-আ.লীগ পেছনে প্রশাসন সিন্ডিকেট

৫ আগস্টের পর পঙ্গু শিল্পখাত: ২ বছরে মোট কত কারখানা বন্ধ ও কত শ্রমিক হলেন বেকার?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:৩১ 1 ভিউ
দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোর কারখানার মূল ফটকে আজকাল দুই ধরনের বিজ্ঞপ্তি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। একটিতে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে— ‘স্থায়ীভাবে বন্ধ’, আর অন্যটিতে লেখা থাকছে— ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি’। ওপর থেকে দুটি সিদ্ধান্তকে একই ক্যাটাগরির মনে হলেও দুটির গভীরতম অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমটির সরাসরি পরিণতি হচ্ছে চাকরি হারানো, আর দ্বিতীয়টি নির্দেশ করে তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যেও কাজটা কোনোমতে টিকে থাকা। তবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, আর্থিক টানাপোড়েন, শ্রমিক অসন্তোষ এবং মাথার ওপর জমে থাকা বকেয়া ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে শিল্প খাতে এখন এই দুটি নিদারুণ বাস্তবতা সমান্তরালভাবে হেঁটে চলেছে। ২১শে আগস্ট, শুক্রবার পর্যন্ত শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে বেশ কিছু কারখানা যেমন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি অন্যদিকে শত শত কারখানা তাদের উৎপাদন কমিয়ে আনছে অথবা সাময়িক বিরতিতে পাঠাচ্ছে। এর স্বাভাবিক ফল হিসেবে দেখা দিচ্ছে শ্রমিক ছাঁটাই এবং কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসা। স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন সামনে চলে আসছে—এখন পর্যন্ত আসলে মোট কতগুলো কারখানা বন্ধের খাতায় নাম লিখিয়েছে? এই প্রশ্নের সরাসরি বা সুনির্দিষ্ট একটি উত্তর দেওয়া কঠিন। সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের ডেটাবেজে স্থায়ী বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ, শ্রম আইনের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে বন্ধ, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাই সংক্রান্ত তথ্যগুলোকে একটি একক তালিকায় রাখা হয় না। তাই পরিস্থিতির আসল রূপটি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হলে অন্তত চারটি ভিন্ন ভিন্ন সূচকের দিকে চোখ রাখতে হবে। ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, কাজ হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের উপাত্ত অনুযায়ী, কেবল বিজিএমইএ-র সদস্যভুক্ত অন্তত ৮০টি কারখানা থেকে প্রায় ১৯ হাজার ১৮৮ জন শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয় যে, এই সময়ে ২৭টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি বেশ আশঙ্কাজনক চিত্র। কারণ একই সময়ে রফতানিমুখী বড় বড় কারখানার পাশাপাশি টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে ছোট ও মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানগুলো। কোথাও নতুন ক্রয়াদেশ নেই, কোথাও ক্যাশ ফ্লো এবং ব্যাংকঋণের তীব্র সংকট, কোথাও শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি নিয়ে ঝামেলা, আবার কোথাও পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে কারখানার চাকা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও মোট ২৭টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের খবর পাওয়া গেছে, তবে সেই ২৭টি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। মাত্র সাত মাসেই তিন শিল্পাঞ্চলে বন্ধ ৯৫ প্রতিষ্ঠান শিল্প এলাকাভিত্তিক তথ্যের দিকে তাকালে আরও একটি বড় চিত্র ফুটে ওঠে। গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়নগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে বিগত সাত মাসে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে ৯৫টি কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল প্রায় ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক-কর্মচারীর। শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গাজীপুরে ৫৪টি, নারায়নগঞ্জ-নরসিংদী এলাকায় ২৩টি এবং সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই জোনে ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। গাজীপুর এলাকায় যে ৫৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, তার বড় অংশই তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের। শুধু এই এক জেলাতেই কারখানার দরজায় তালা পড়ায় প্রায় ৪৫ হাজার ৭৩২ জন কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক বিশাল সংখ্যক শ্রমিক একলহমে কর্মহীন হন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন—৬ মাসের ভিত্তিতে ২৭টি কারখানা বন্ধের ডেটা এবং ৭ মাসের ভিত্তিতে ৩টি শিল্পাঞ্চলের ৯৫টি কারখানা বন্ধের হিসাবের উৎস ও ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এই দুই পরিসংখ্যান যোগ করে মোট বন্ধ কারখানার সংখ্যা “১২২টি” দাবি করা একটি ভুল হিসাব হবে। এগুলো আসলে বাংলাদেশের শিল্প সংকটের আলাদা দুটি গাণিতিক চিত্র। যেসকল বন্ধ কারখানার নাম জানা গেছে বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্য এবং শিল্প পুলিশের সূত্র ধরে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া বেশ কয়েকটি কারখানার নির্দিষ্ট নাম সামনে এসেছে। গাজীপুর: এখানকার প্রধান প্রধান বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, মাহমুদ জিন্স অ্যাপারেলস, টিআরজেড এবং দ্য ডেল্টা নিট। পুলিশি তথ্য বলছে, শেষ সাত মাসে এ জেলায় মোট ৫৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের শিকার হয়েছে। সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই: গত সাত মাসে এ অঞ্চলে কাজ বন্ধ করা ১৮টি পোশাক কারখানার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো—জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বেস্ট ওয়ান সোয়েটার, এমএস সোয়েটার, সাভার স্পোর্টসওয়্যার, বার্ডা গ্রুপ, র‍্যামস ফ্যাশন অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশন ও জাভান টেক্স নিটওয়্যার। এসব কারখানা হুট করে বন্ধ হওয়ায় এ অঞ্চলে কমপক্ষে ১০ হাজার ১২৭ জন শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী: এই বেল্টে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর অন্যতম—গ্রিন বাংলা হোম টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান ফ্যালকন গার্মেন্টস, জিএল ফ্যাশন, মাস্টার টেক্সটাইল, ওয়েস্ট বেস্ট অ্যাটায়ার্স এবং স্টার কাটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। শিল্প পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এই জোনে বন্ধ হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠাই ছিল ছোট ও মাঝারি গোত্রের। অর্থাভাব এবং পর্যাপ্ত রফতানি আদেশ না থাকাই এদের বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। গাজীপুরে স্থায়ীভাবে কার্যক্রম গুটালো দুই কারখানা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে স্পষ্ট ও যাচাইকৃত স্থায়ী বন্ধের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায়। ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড এবং ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড গত ১৬ জুন থেকে উৎপাদন স্থগিত রাখার পর অবশেষে স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধের চুড়ান্ত নোটিশ দেয়। আর্থিক মন্দা ও নানাবিধ জটিলতার কারণেই কারখানা দুটি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। এই দুটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক সরাসরি কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়েন। অবশ্য পরবর্তীতে বকেয়া পাওনা, সেবা সুবিধা ও আইনি ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় মিটিংয়ে সমঝোতা অর্জিত হয়। আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের দরজা বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের গত ১ এপ্রিল আশুলিয়া অঞ্চলের দুটি পোশাক কারখানা—ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড ও জেএ অ্যাপারেলস অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের কথা জানায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে চলা শ্রম অসন্তোষের জের ধরে মালিকপক্ষ ফটকে বন্ধের চিঠি ঝুলিয়ে দেয় এবং তাদের পাওনা বেতন-ভাতা কিছুই পরিশোধ করা হয়নি। দুটি কারখানা মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিকের রুটি-রুজি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে এগুলো পরবর্তীতে আবার উৎপাদনে ফিরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে এদের স্থায়ী বন্ধের মূল তালিকায় গণনা করা হয়নি। লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা একযোগে বন্ধ জুলাই মাসের গোড়ার দিকে গাজীপুর এলাকায় লিথী গ্রুপের পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানা একসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার বার্তা ঝোলানো হয়। এই একটি সিদ্ধান্তে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক হঠাৎ বেকার হয়ে পড়েন। এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে, শ্রমিক অসন্তোষ বা ক্যাশ ফ্লোর সংকট কেবল একটি কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; একটি পুরো শিল্পগ্রুপের একাধিক ইউনিটকেও তা একইভাবে স্থবির করে দিতে পারে। অবশ্য অনির্দিষ্টকালের বন্ধের পর এগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও চূড়ান্ত স্থায়ী বন্ধের খাতা থেকে আলাদাভাবে দেখা দরকার। ইসলাম গার্মেন্টসও অনির্দিষ্টকালের নোটিশে গাজীপুর অঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ‘ইসলাম গার্মেন্টস’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনাটি তৈরি পোশাক খাতের একটি দুর্বলতার দিকে নির্দেশ করে—মজুরি, সার্ভিস বেনিফিট বা শ্রম সংক্রান্ত ছোটখাটো বিরোধ যদি সঠিক সময়ে নিষ্পত্তি না করা যায়, তবে তা দ্রুত পুরো কারখানার চাকা বন্ধ করার মতো চরম পরিস্থিতির দিকে গড়ায়। দুই বছরের দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট গত দুই বছরের আরও একটি বড় গাণিতিক হিসাব বাংলাদেশের শিল্প খাতের গভীর সংকটের দিকটি খোলাসা করে। আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের প্রধান সাতটি শিল্পাঞ্চলে মোট ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ছিল—বিজিএমইএ-র সদস্যভুক্ত ১০৮টি কারখানা, বিকেএমইএ-র ৩৫টি কারখানা, বিটিএমএ-র ৮টি কারখানা এবং বেপজা সংশ্লিষ্ট ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এতে স্পষ্ট যে পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও আন্তর্জাতিক রফতানি খাতের এক বিশাল অংশ এই বন্ধের ধাক্কা সামলাচ্ছে। অবশিষ্ট ২৮৭টি ছিল পোশাক খাতের বাইরের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এই দীর্ঘমেয়াদি জরিপে কারখানা বন্ধের মূল অনুঘটক হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অর্ডার হ্রাস, উদ্যোক্তাদের ফান্ড সংকট, শিল্পাঞ্চলের শ্রম অস্থিরতা এবং তীব্র জ্বালানি ঘাটতি। তবে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ব্যাংকঋণের জটিলতা, কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা, কারখানা স্থানান্তরের খরচ, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথাও উল্লেখ করছেন। নতুন আপদ: গ্যাস নেই, তাই কারখানাও স্তব্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া তালিকার বাইরেও শিল্প খাতে এক নতুন আতঙ্ক হাজির হয়েছে—গ্যাস ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতার কারণে কারখানা পুরো বন্ধ রাখা বা উৎপাদন কমিয়ে আনা। আগস্টের শুরুতেই গাজীপুরে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের ধাক্কায় প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান তিন থেকে চার দিনের জন্য সাময়িক ছুটি বা উৎপাদন বন্ধের পথ বেছে নেয়। বিভিন্ন হিসাব বলছে, এই পরিস্থিতির শিকার হওয়া কারখানার সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০টি পর্যন্ত হতে পারে। সরকারি নির্ধারিত ছুটির আগে-পরে বাড়তি ছুটি যুক্ত করে অনেক প্রতিষ্ঠান একপ্রকার বাধ্য হয়েই উৎপাদন প্রক্রিয়া স্তব্ধ রাখে। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ ফেলে বাড়ির পথ ধরেন। এ ধরনের ছুটিকে হয়তো এখনই ‘স্থায়ী বন্ধ’ বলা যাবে না, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট কাটানো না গেলে এটি উৎপাদন কমে যাওয়া, ঘন ঘন ছুটি এবং চূড়ান্ত বিচারে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে পরিণত হবে। একইভাবে সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে চরম গ্যাস সংকটের কারণে ২০টি কারখানার কর্মীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। ২০শে আগস্ট, বৃহস্পতিবার সকালে যথারীতি শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন পুরোপুরি ব্যাহত হয়, ফলে দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যেই ধাপে ধাপে সবাইকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন এ বিষয়ে জানান, ‘‘সকাল থেকে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম থাকায় কারখানা চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ওই শিল্পাঞ্চলের বড় বড় কারখানাগুলোতে উৎপাদন নেমে এসেছে গড়ে ৫০ শতাংশে। ভালুকা পৌর এলাকা ও তিতাস অফিসের আশপাশে সামান্য গ্যাসের প্রেশার মিললেও দূরে থাকা কারখানাগুলোতে প্রেশার বলতে গেলে শূন্য।’’ শিল্প পুলিশের হিসাব বলে, ময়মনসিংহ শিল্প জোনের ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি সম্পূর্ণ গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্যাসচালিত কারখানাই এই জ্বালানি বিপাকে পড়েছে। অল্টারনেটিভ জেনারেটর বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উৎপাদন বজায় রাখার চেষ্টা চললেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে পুরো জোন জুড়েই শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মক হোঁচট খাচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্পের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করতে হলে স্থায়ী বন্ধ, সাময়িক বন্ধ বা ছুটি এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমানোর ঘটনাগুলোকে আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে হবে। জ্বালানি সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু কারখানা হয়তো কয়েক দিনের ছুটি দিয়েছে, সেটিকে স্থায়ী বন্ধের খাতায় ফেলা যাবে না। তবে যদি দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ বাড়বে এবং দিনশেষে সাধারণ কর্মচারীদের চাকরি হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে বহু কারখানা তাদের শতভাগ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না। উৎপাদন কমে গেলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকের নিয়মিত কিস্তি, গ্যাস-বিদ্যুতের বিলসহ সব ধরনের ফিক্সড খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজেল, এলপিজি বা সিএনজি ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গেলে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বায়ারদের সঙ্গে দাম আগে থেকেই ফিক্সড থাকায় এই অতিরিক্ত খরচ কখনোই আমরা পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত করতে পারি না।’’ মোহাম্মদ হাতেম আরও যোগ করেন, ‘‘বর্তমান সময়ে কারখানা টিকিয়ে রাখা এবং সাধারণ শ্রমিকের রুটি-রোজি রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি সমস্যা দ্রুত মিটে না গেলে দুর্বল ও আর্থিক চাপে থাকা কারখানাগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাই শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের বিরামহীন সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি সমস্যায় থাকা, আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া দরকার।’’ ছুটি কি কেবলই ছুটি, নাকি গণছাঁটাইয়ের আগাম আলামত? শিল্পমালিকদের একাংশের যৌক্তিক দাবি হলো—লাইলে গ্যাস না থাকলে কারখানার দরজা খুলে বসে থাকার কোনো মানে হয় না। কারখানা চালু রাখলে শ্রমিক বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হয়, কিন্তু উৎপাদন না হলে কোনো বিক্রি বা রফতানি আয় আসে না। অন্যদিকে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়েই সাময়িকভাবে প্রোডাকশন কমিয়ে আনছে। কোথাও ওভারটাইম বা অতিরিক্ত শিফট বন্ধ করা হচ্ছে, কোথাও স্টাফদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, আবার কোথাও নতুন কর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এই সাময়িক ছুটিই একসময় দীর্ঘ ছাঁটাইয়ের রূপ নেবে—এমন তীব্র আশঙ্কার কথা বলছেন শ্রমিক সংগঠন ও খাতের সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিরা। বন্ধের চার রূপ, ভিন্ন চার প্রভাব বর্তমান শিল্প সংকট বুঝতে পুরো পরিস্থিতিকে অন্তত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা জরুরি। প্রথমত, স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা: এখানে শ্রমিকের কাজের মেয়াদ একেবারেই শেষ। এরপর শুরু হয় বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট এবং আইনি ক্ষতিপূরণ আদায়ের নতুন লড়াই। দ্বিতীয়ত, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানা: এই ক্যাটাগরিতে শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন কি না, তা সবসময় স্পষ্ট থাকে না। কারখানাটি হয়তো ভবিষ্যতে খুলতেও পারে, আবার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর একসময় চিরতরে বন্ধের ঘোষণাও আসতে পারে। তৃতীয়ত, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি: গ্যাস, বিদ্যুৎ, র কাঁচামাল বা বায়ারদের অর্ডার সংকটের কারণে কারখানা হয়তো কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রোডাকশন অফ রাখতে পারে। এই সময়ে কর্মীর চাকরিটি থাকলেও তার আয় ও ভবিষৎ অনিশ্চয়তায় ডুবে যায়। চতুর্থত, শ্রমিক ছাঁটাই: অনেক সময় কারখানা খোলা রেখেই কেবল উৎপাদন স্কেল কমিয়ে এনে ছাঁটাই করা হয়। তাই শুধু বন্ধ কারখানার সংখ্যা দেখলে কর্মসংস্থান সংকটের আসল চিত্র ধরা পড়ে না। বিজিএমইএ-র প্রাক্তন পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, ‘‘বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যাকে কেবল একটি সাময়িক পাওয়ার ক্রাইসিস হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আস্তে আস্তে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি খাতের প্রতিযোগী সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের ওপর একটি বড় ধরনের কাঠামোগত হুমকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘‘যেসব কারখানা ইতিমধ্যে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের পেছনে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, আর্থিক দেউলিয়াত্ব, ব্যাংকঋণের পাহাড় এবং প্রোডাকশন কস্ট বেড়ে যাওয়ার মতো একাধিক বিষয় দায়ী ছিল। এখন নতুন করে এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট যোগ হওয়ায় চালু থাকা কারখানাগুলোও তাদের পূর্ণ শক্তিতে কাজ করতে পারছে না। বহু প্রতিষ্ঠান শিফট বদলেছে, সরকারি ছুটির সাথে মানিয়ে অতিরিক্ত ছুটি দিয়েছে বা সীমিত পরিসরে কাজ চালাচ্ছে। ফলে এগুলোকে এখনই ‘স্থায়ী বন্ধ’ নাম না দেওয়া গেলেও জ্বালানি বিপর্যয় দীর্ঘ হলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঝুঁকি লাফিয়ে বাড়বে। মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘‘একটি কারখানা কয়েক দিনের জন্য অফ রাখা আর একটি প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে বিশাল তফাৎ রয়েছে। কিন্তু যদি মাসের পর মাস উৎপাদন ব্যাহত হতে থাকে, তবে এই সাময়িক বন্ধই একসময় চূড়ান্ত আর্থিক ধ্বংস ডেকে আনে। উৎপাদন স্থগিত থাকলেও কর্মীর বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ, প্ল্যান্টের মেইনটেন্যান্স খরচ থেমে থাকে না। অন্যদিকে লিড টাইমের মধ্যে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিতে না পারলে আন্তর্জাতিক বায়ারের ট্রাস্ট হারানোর পাশাপাশি নতুন অর্ডারও হাতছাড়া হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এখন এমন এক কঠিন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কেবল নতুন বিনিয়োগ আনলেই চলবে না; চলমান কারখানা ও বিদ্যমান কর্মসংস্থান বাঁচিয়ে রাখাও সমান জরুরি। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই দেওয়া না গেলে ছোট ও মাঝারি ক্ষমতার কারখানাগুলো সবার আগে ধ্বংস হবে। আর একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে কেবল একটি ব্র্যান্ড বা ব্যবসার সমাপ্তি নয়—এর সাথে যুক্ত হাজারও শ্রমিকের জীবন, স্থানীয় বাজার এবং সার্বিকভাবে দেশের রফতানি আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারখানা বন্ধের অর্থ কেবল দরজায় একটি তালা ঝুলানো নয় একটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে কেবল একজন মালিকের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া নয়। এর সাথে সরাসরি জড়িয়ে থাকে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, মাসের বাড়িভাড়া, বাচ্চার স্কুলের খরচ, ব্যাংক বা এনজিওর কিস্তি, স্থানীয় মুদির দোকান ও আশপাশের পুরো ক্ষুদ্র অর্থনীতি। গাজীপুর, সাভার বা আশুলিয়ার মতো শিল্প এলাকায় একটি কারখানায় তালা পড়লে তার জোরালো ধাক্কা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের মেস, দোকানপাট, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারে। আর সবচেয়ে বড় বিপর্যয় তখনই নেমে আসে, যখন চাকরি হারানোর পর একজন শ্রমিক তার ন্যায্য বকেয়া বেতন ও আইনি পাওনা পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে বাধ্য হন। (বাংলা ট্রিবিউন)

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত জারদারি, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ সিরিয়ায় ইসরায়েল-তুরস্ক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ায় কি নতুন এক ফ্রন্ট খুলছে? কারাবন্দি সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ১০-১২ বার লোডশেডিং: অন্ধকারে ডুবছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা শেখ হাসিনার সময় বিরোধিতা করা হলেও এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ তারেক সরকারের স্বস্তি নেই রাজধানীর বাজারে: মাছ-মুরগি-ডিমে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কৃষিমন্ত্রীর ‘উদ্বৃত্ত মজুদ’ দাবি অথচ সারের বাজার সিন্ডিকেটের দখলে, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ৬০০ টাকা দুর্ভিক্ষের সকল লক্ষণ দৃশ্যমান কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থায়: তবে কি সেদিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ? ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে নতুন রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলো শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম ম্যাচেই নামছে আর্সেনাল বাংলাদেশের বিপক্ষে এক বদল নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে নামছে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের মারপিট করে আর্জেন্টিনার পারেদেস ১০, মলিনা ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ ৫ আগস্টের পর পঙ্গু শিল্পখাত: ২ বছরে মোট কত কারখানা বন্ধ ও কত শ্রমিক হলেন বেকার? পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা সামনে বিএনপি-আ.লীগ পেছনে প্রশাসন সিন্ডিকেট প্রথম নারী প্রধান পেল রাজস্ব গোয়েন্দা সেল ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত, কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে: অলি আহমদ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার সায়মা ওয়াজেদ: ডব্লিউএইচওর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুর তিন বছর পরে ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পেলেন বিএনপি নেতা!